Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ “মাছ চাষে গড়ব দেশ, বদলে দেব বাংলাদেশে” প্রতিপাদ্যে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালী হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। র‌্যালীতে নেতৃত্ব দেন সদর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদ। জেলা মৎস্য দপ্তর ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হাসান, ৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল আবুল এহসান, পুলিশ সুপার টি.এম মোজাহিদুল ইসলাম বিপিএম, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সামছুল আলম শাহ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুরুল হোদাসহ জেলা ও উপজেলার মৎস্য চাষীরা। র‌্যালী শেষে মহানন্দা নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন অতিথিরা। শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সামছুল আলম শাহ এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মৎস্য সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হাসান। জেলার মাছ চাষীদের আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে জেলাকে সমৃদ্ধ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু, সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাসুদ রানা, জেলা মৎস্য দপ্তরের প্রধান সহকারী মোজাম্মেল হক, মৎস্য অফিসের ক্ষেত্র সহকারী মোঃ শামীমসহ জেলা ও উপজেলা মৎস্য অফিসের বিভিন্নস্তরের কর্মকর্তাগণ ও জেলার ক্ষুদ্র ও বড় বড় উদ্যোক্তাগণ। শেষে জেলায় মাছ চাষে বিশেষ অবদান রাখায় ৫জনকে সম্মাননা ক্রেষ্ট ও সনদ দেয়া হয়। সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, আমাদের দেশের মাটি, জলবায়ু, প্রকৃতি মাছ চাষের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। ৩৬ শতাংশ ৫ বছর নিচের বয়সের শিশু অপুষ্টির শিকার। অপুষ্টির কারণে নানা সমস্যায় পড়ে শিশুরা। কম ওজন, কম উচ্চতা নিয়ে বাড়ছে, তাদের বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে। জাতীয় লক্ষ অর্জনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। দারিদ্রতার হার কমাতে হবে। শিশুদের খাবারের মান বাড়াতে হতে। মায়েদের যতœ নিতে হবে। দেশে আমিষের চাহিদা মোতাবেক মাছের উৎপাদন বাড়াতে হবে। সৎভাবে মৎস্য খামার তৈরি করে ব্যবসা করা আহŸান জানানো হয়। দেশের মাছ চাষে সবচেয়ে এগিয়ে বেসরকারী খাত। সনাতন পদ্ধতিতে মাছ চাষ না করে আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করার আহবান জানান তিনি। সকলের সচেতনতায় উন্মুক্ত জলাশয় থেকে মাছের প্রজনন সময়ে মা মাছ না ধরা। বর্তমানে উন্মুক্ত জলাশয় থেকে মাছ পাওয়া যায় না। বেসরকারী বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে চাষ করা মাছ দিয়ে চাহিদা পুরণ হচ্ছে। তিনি পারিবারিকভাবে মাছ চাষের জন্য সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান এবং মাছ চাষের মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আরও সমৃদ্ধ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এবছর জেলায় মাছ চাষে বিশেষ অবদান রাখায় গুলশা ও পাবদা মাছের সাথে রুই জাতীয় মাছের মিশ্র চাষে বিশেষ অবদানের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার শিবতলা চরজোতপ্রতাপ গ্রামের মোঃ আকবর হোসেন, মেসার্স ভাইভাই ফিস কালচারের রাকিবুল ইসলাম বাবু, মহানন্দা নদীতে ভাসমান খাঁচায় মাছ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনে চৌহদ্দীটোলা-নামোনিমগাছী গ্রামের মোঃ ফজলুর রহমানের ছেলে মোঃ রবিউল আওয়াল, গলদা চিংড়ি চাষে বিশেষ অবদানের জন্য আলীনগর গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে নওসাদ আলী ও উম্মুক্ত জলাশয় ব্যবস্থাপনায় বিশেষ অবদান রাখায় শিবগঞ্জ উপজেলার ভবানীপুর-কয়লাদিয়ার গ্রামের পেশকার হোসেনের ছেলে আসগার আলী। উল্লেখ্য, উত্তবঙ্গের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার “নবাব মৎস্য খামার প্রকল্প” বুলনপুর, নয়াগোলা, আমনুরা’র সকল পুকুরে শুধুমাত্র অক্সিজেন গ্যাস তৈরীর যন্ত্র ‘এরিটর’ এবং মাছের “ফিডার অটোমেটিক” যন্ত্র ব্যবহার হচ্ছে। অক্সিজেন যন্ত্র ‘এরিটর’ এর মাধ্যমে পুকুরের পানিতে কোন সময়ই অক্সিজেনের অভাব থাকে না। সাধারণভাবে পুকুরে খাবার দিলে শতকরা ৪০ ভাগ খাবার নষ্ট হয়ে পুকুরের মাটির সাথে মিশে যায়, ফলে চাষীর যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতি হয়, তেমনী নষ্ট খাবার মাছের ক্ষতিও করে। কিন্তু “ফিডার অটোমেটিক” যন্ত্রের মাধ্যমে মাছের খাবার শতভাগ কাজে লাগে। এর ফলে মাছ চাষীদের আর্থিকভাবে প্রচুর লাভবান হবেন বলে জানান “নবাব মৎস্য খামার প্রকল্প” এর ¯^ত্তাধিকারী মোঃ আকবর হোসেন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *