Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ যথাযোগ্য মর্যাদায় ৪৮তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। বাংলার বীর সন্তানদের স্মরণে দিবসটিতে জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ড, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। শ্রদ্ধা জানায় নারী, শিশু ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হাসান। সোমবার সূর্যদয়ের সাথে সাথে জেলা স্টেডিয়ামে ৩১ বার তোপধ্বনীর মাধ্যমে দিবসের শুরু হয়। সুর্যদয়ের সাথে সাথে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে ও বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতিতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সংসদ সদস্য, জেলা জজশীপ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা, আওয়ামীলীগ, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগ ও আওয়ামীলীগের অংগ সংগঠন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার, ‘এরফান গ্রæপ’, জাতীয় মহিলা সংস্থাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পুস্পার্ঘ অর্পণ করে। সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ, জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হাসান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ আদীব আলী, পুলিশ সুপার টি.এম মোজাহিদুল ইসলাম বিপিএম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মঈনুদ্দিন মন্ডল, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব রুহুল আমিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর মেয়র মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মার্জিনা হক ও সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর সুলতানা রাজিয়া, পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মিজানুর রহমান, জাতীয় মহিলা সংস্থার জেলা শাখার চেয়ারম্যান এ্যাড. ইয়াসমীন সুলতানা রুমাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রধান শহীদদের স্মরণে পুস্পার্ঘ অর্পণ করেন। জেলা স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ পরিদর্শন, আলোচনা সভা, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধণা, চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল স্কুল-কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং সরকারি ও আধাসরকারি, স্বায়িত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান সমূহের ভবনে ও বেসরকারি ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ কালেক্টর চত্বরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামফলক সম্বলিত স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ করে জেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, যুবলীগ, মহিলালীগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, অগ্রণী ব্যাংক, সনাক, গ্রীণভিউ উচ্চ বিদ্যালয়, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। সকাল ৮টায় জেলা স্টেডিয়ামে একসাথে জাতীয় সংগীত গেয়ে শহীদদের স্মরণে ১মিনিট নিবরতা পালন করা হয়, পুলিশ, বিএনসিসি, আনসার ও ভিডিপি, স্কাউটস, গালস গাইড ও শিশু-কিশোর সংগঠন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা ও ডিসপ্লে প্রদর্শন করা হয়। দিবসের উদ্বোধন ও সালাম গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হাসান ও পুলিশ সুপার টি.এম মোজাহিদুল ইসলাম বিপিএম। বিভিন্ন কর্মসূচী পালনকালে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট দেলোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এরশাদ হোসেন খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ রহমতুল্লাহ. এন.এস.আই’র উপ-পরিচালক আলহাজ্ব মোঃ শামসুজ্জোহা, সিভিল সার্জন ডাঃ খাইরুল আতাতুর্ক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর মাহবুব আলম খান পিপিএম, সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল হাই সরকার, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোখলেশুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সভাপতি মোঃ মনিরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসনের বিভিন্নস্তরের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধাগণসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। জেলা যুবলীগের সভাপতি মাসিদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শহীদুল হুদা অলকের নেতৃত্বে যুবলীগ ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাকিউল ইসলাম সাকিল ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রেজা ইমনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগে সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ সকালে দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলনের পর সরকারি কলেজ মোড়স্থ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্পণ করেন। জেলা শিশু একাডেমীর উদ্যোগে শহরের গ্রীনভিউ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিশুদের রচনা, চিত্রাংকন ও দেশাত্ববোধক সংগীত প্রতিযোগিতা হয়, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধ্বণা, রাজমহল সিনেমা হলে বিনা টিকিটে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শণ, জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থণা সকল মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডাসহ বিভিন্ন উপসনালয়ে। হাসপাতাল, জেলখানা ও শিশু সদনে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সরকারি-আধা সরকারী ও স্বায়ত্বশাসিত ভবনসমূহে আলোকসজ্জা, মহিলাদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও আলোচনা, জেলা স্টেডিয়ামে প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ, সৌখিন ফুটবল প্রতিযোগিতা, সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ইউনেস্কো স্বীকৃতি ও জাতিসংঘের কাছ থেকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জণের বিষয় নিয়ে আলোচনা, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রামান্যচিত্র প্রদর্শন, সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষে ডিজিটাল প্রযুক্তির সার্বজনীন ব্যবহার শীর্ষক আলোচনা সভা হরিমোহন সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে সকল উপজেলা ও বিভিন্ন সংগঠনের বিভিন্ন র্কমসূচীর পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফুল দিয়ে একাত্তরের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান নানা রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অনান্য সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ। শেষে চিত্রাংকন, কবিতা আবৃতি, দেশত্বাবোধক গান, শিক্ষার্থীরদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও মনোঙ্গ সাংস্কৃতিক হয়। এছাড়া জেলার সকল উপজেলায় একই ধরণের কর্মসুচীর আয়োজন করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *