Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীরের ৪৬তম শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়ক ভবন চত্বরে অবস্থিত স্মৃতিসৌধে জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ড, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পুস্পার্ঘ অর্পণের মাধ্যমে বাংলার বীর সন্তানকে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। এসময় জাতীয় সংগীত গেয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকালে পুস্পার্ঘ অর্পণকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসান, পুলিশ সুপার টি.এম মোজাহিদুল ইসলাম বিপিএম, মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব রুহুল আমিন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এরশাদ হোসেন খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান, বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ। এদিকে, জাতীয় মহিলা সংস্থা’র চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে পক্ষ থেকে শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীরের স্মৃতিসৌধে পুস্পার্ঘ অর্পণ করা হয়। এসময় জেলা শাখার চেয়ারম্যান এ্যাড. ইয়াসমীন সুলতানা রুমাসহ অন্য মহিলারা উপস্থিত ছিলেন। দিবসটি উপলক্ষে সোনামসজিদ চত্বরে শহীদ জাহাঙ্গীরের মাজারে পুস্পার্ঘ অর্পণ, মাজার জিয়ারত, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে জেলার মুক্তিযোদ্ধাগণ উপস্থিত হন। উল্লেখ্য, বাঙলা মায়ের দামাল সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের এই দিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের পার্শ্বে মহানন্দা নদীর তীরবর্তী গ্রাম রেহায়চর এলাকায় সংগঠিত হয় এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। পাকহানাদার বাহিনীর সাথে সুম্মুখযুদ্ধে ধ্বংস করে দেয় শত্রæ বাহিনীর ১৮টি ট্রেঞ্চ ও ২০ থেকে ২২ টি বাংকার। শত্রুমুক্ত হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ। ১৩ ডিসেম্বর বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর শহর মুক্ত করতে কয়েকটি নৌকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে রেহায়চর এলাকায় যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন। সম্মুখযুদ্ধে একের পর এক পরাস্ত করতে থাকেন শত্রæ বাহিনীকে। ১৪ ডিসেম্বর রাতের আধার কেটে সকালে সূর্য ওঠার আগেই নির্ভিক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জাহাঙ্গীর সহযোদ্ধাদের নিয়ে বীরদর্পে এগিয়ে চলেন এবং ধ্বংস করে দেন শত্রু বাহিনীর ১৮টি ট্রেঞ্চ ও ২০ থেকে ২২ টি বাংকার। জাহাঙ্গীরের দুসাহসিক ও দুরন্ত আক্রমণে শত্রু বাহিনী তাদের আস্তানা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। রেহায়চর ঘাটের কাছেই শত্রু বাহিনীর সর্বশেষ বাংকারটি দখল করতে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে এগোতে থাকার সময় হটাৎ শত্রু বাহিনীর একটি গুলি এসে লাগে বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরের কপালে। লুটিয়ে পড়েন মাটিতে বাংলার এই বীর সন্তান এবং সেখানেই শাহাদাত বরণ করেন। পরের দিন শহীদ ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীরকে দাফন করা হয় হযরত শাহ নেয়ামত উল্লাহ (রহঃ)-এর পুণ্যভূমি বাংলার পুরাতন রাজধানী গৌড়ের ঐতিহাসিক সোনামসজিদ চত্বরে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *