Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে মাদক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে এবং ভোলাহাট থানার এস.আই সিরাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ষড়যন্ত্রের শিকার ভোলাহাট উপজেলার বজরাটেক আলিসাহাসপুর গ্রামের আফরোজা খাতুনের পরিবার। রবিবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবে সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আফরোজার বোন মোসাঃ শাহনাজ খাতুন। লিখিত বক্তব্য বলেন, ভোলাহাট থানার এস.আই সিরাজ উদ্দিন আমার বোন ভোলাহাট মোহবুল্লাহ মহাবিদ্যালয়ের ডিগ্রী পরীক্ষার্থী আফরোজা খাতুনকে দীর্ঘদিন থেকেই কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ষড়যন্ত্র করে গত ১৩ ফেব্রæয়ারি পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে আফরোজার কক্ষে প্রবেশ করে তল্লাশীর নামে আসবাবপত্র ভাংচুর চালায় এবং একটি নীল রং এর প্যাকেট নিজেই বের করে ইয়াবা ট্যাবলেট পেয়েছি বলে আনন্দে চিৎকার দিয়ে উঠে। তল্লাশীকালে পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও পার্শ্ববর্তী মহিলাদের উপরও শ্লীলতাহানীর চেষ্টা ও নির্যাতন চালায়। এঘটনায় আমার মা মোসাঃ জোসনারা বেগম ও বোন আফরোজা খাতুনকে ধরে থানায় নিয়ে যায়। পরে রাতে জোসনারা বেগমকে ছেড়ে দিলেও আফরোজা খাতুনকে আটকে রাখে। ভোলাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ ফাছির উদ্দিনকে বিষয়টি জানালে উল্টো আফরোজার পরিবারকে হুমকী ধামকি দেয়। পরের দিন ইয়াবাসহ গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। এস.আই সিরাজের কু-পুস্তাব দেয়ার বিষয়টি আফরোজা তার পরিবারকে আগেই জানিয়েছিল। বিষয়টি ভোলাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ ফাছির উদ্দিনকে জানানও হয় আফরোজার পরিবারের পক্ষ থেকে। সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, এস.আই সিরাজুল নিজের অপরাধ ঢাকতেই এই ষড়যন্ত্র করে আফরোজাকে ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে ফাঁসিয়ে মাদক মামলায় আদালতে সোপর্দ করেছে। বর্তমানে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে আফরোজা চাঁপাইনবাবগঞ্জ কারাগারে রয়েছে। এদিকে, জোরপূর্বকভাবে করা মামলার স্বাক্ষী অলেখা বেগম ও সাবানাকে বিভিন্নভাবে হুমকী দেয়া হচ্ছে, পুলিশের বিরুদ্ধে স্বাক্ষী দিলে তাদেরও একইভাবে মাদক মামলার আসামী করা হবে বলেও হুশিয়ারী দিয়েছেন এস.আই সিরাজুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি সম্পূর্ণ সাজানো এবং ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করে বিষয়টির তদন্ত স্বাপেক্ষে ষড়যন্ত্রের শিকার আফরোজা খাতুনের নিঃশর্ত মুক্তি ও ষড়যন্ত্রকারী এস.আই সিরাজের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। এসময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রঞ্জুসহ অন্যান্য সদস্যগণ ও জেলা স্বাধীন প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ ফারুক আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোরশালিনসহ জেলা স্বাধীন প্রেসক্লাবের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে শাহনাজ দাবি করেন, তার পিতা মৃত শাহজাহান আলী একজন শিক্ষক ছিলেন। তাঁর পরিবারের কেউ কোনদিন এসব অবৈধ কাজের সাথে জড়িত ছিলনা। তাদের পরিবার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে এসব হয়রানীর মধ্যে পড়েছে। তাই একজন শিক্ষকের পরিবারের সুনাম নষ্টকারী ও ষড়যন্ত্রকারী এস.আই সিরাজ উদ্দিনের বিচারের ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান সম্মেলনে উপস্থিত থাকা কারাগারে বন্দি আফরোজার বৃদ্ধ মাতা জোসনারা বেগম। তবে, ভোলাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফাছির উদ্দিন ও এস.আই সিরাজ উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং কোন ষড়যন্ত্র নয়, আফরোজার ঘরে তল্লাশী চালিয়ে ৯৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আফরোজাকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন। ওসি আফরোজা ও শাহনাজের চলাফেরার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরুপ মতামত ব্যক্ত করেন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *