Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টিতে ওলামাগণের ভূমিকা শীর্ষক সম্মেলন হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। বৃহস্পতিবার সকালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের আয়োজনে ফাউন্ডেশন চত্বরে ইমামদের নিয়ে সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ দেলোয়ার হোসেন। নয়াগোলা বড়পুকুরিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মোঃ ওয়ালিদ হাসানের কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ইমাম সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) মোঃ আব্দুল হাই সরকার, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ জাফরুল্ল্যাহ কাজল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এ.কে.এম মোস্তাফিজুর রহমান। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ আবুল কালাম। এসময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ আলমগীর হোসেনসহ শতাধিক প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত ইমামগণ উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে সমাজ থেকে সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও মাদক নিয়ন্ত্রণে ইমামদের প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে পরিবার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, ইমামগণ ধর্মীয় ও সামাজিক বিষয়ে বক্তব্যের পাশাপাশি সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও মাদক এর কুফল বিষয়ে বেশী বেশী করে আলোচনা করবেন। সমাজের পরিবার থেকে এসব নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে হবে। ইমামগণ পরিবারের অভিভাবকদের সচেতন করবেন। সরকারী পর্যায় থেকে সকলে জনগণের জন্য কাজ করছি, তেমনই ইমমাগণও সমাজের ব্যাধিগুলো দূর করে কাজ করবেন। পরিবার ঠিক হলে, সমাজ এবং দেশ ঠিক হয়ে যাবে। সন্তানদের নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার জন্য ইমামদের সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। বাল্য বিবাহের কারণে সমাজে ৮০ ভাগ অপরাধ হচ্ছে, তাই বাল্য বিবাহের কুফল নিয়েও আলোচনা ও সচেতনতা সৃষ্টির উপরও জোর তাগিদ দেন বক্তারা। মাদকের বিষয়ে বক্তারা বলেন ২৫ গ্রাম হেরোইন বা ২৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ধরা পড়লে মৃত্যুদন্ডেরও বিধান রয়েছে। আইনের মাধ্যমে শাস্তিও দেয়া হচ্ছে, কিন্তু মাদকের চাহিদা থাকায় আইন প্রয়োগ করেও মাদক নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। পার্শ্ববর্তী দেশগুলো চাই না বাংলাদেশ উন্নত হোক, তাই তরুণ সমাজ ও নতুন প্রজন্মকে ধ্বংস করার জন্যই পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে মাদক পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে, আর আমাদের দেশের এক শ্রেণীর অসাধু ব্যক্তিরা অধিক মুনাফা লাভের জন্য মাদক নিয়ে দেশে বিক্রির ব্যবস্থাও করছে। বর্তমানে শিক্ষার্থী ও তরুণদের মাকদের বিষয়ে ভ্রান্ত ধারণাও দেয়া হচ্ছে, যেন তারা মাদক সেবনে উদ্বুদ্ধ হয়। বক্তারা আরও বলেন, সমাজ গঠনে ইমামদের বড় ভূমিকা রয়েছে। ইমামগণকে সাধারণ মানুষ আলাদাভাবে মূল্যায়ন করেন, তাই ইমামগণ সমাজের মানুষদের সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ ও মাদক বিষয়ে সহজেই সচেতন করতে পারবেন। ইসলামেও মাদককে না বলা হয়েছে। তাই ইমামদের মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এগিয়ে আসার আহবান জানানো হয়। শেষে দেশের মঙ্গল কামনা করে দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন ভাগ্যবানপুর মন্ডলপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও শিক্ষক মাওলানা মোঃ সাখাওয়াত হোসেন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *