Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ বুদ্ধিদীপ্ত জাতি গঠন, নারী ও শিশু ¯^াস্থ্যের উন্নয়নে সকলের জন্য মানসম্পন্ন আয়োডিনযুক্ত লবণ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার কৌশল প্রণয়নের লক্ষ্যে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সার্বজনীন আয়োডিনযুক্ত লবণ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এবং নিউট্রিশন ইন্টারনাশনাল (এন.আই) বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মশালা হয়। শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বিসিকের পরিচালক মো. ইফতেখারুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন নিউট্রিশন এন্টারন্যাশনাল এর কান্ট্রি ডিরেক্টর জাকী হাসান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন  ডাঃ সাইফুল ফেরদৌস মোঃ খাইরুল আতাতুর্ক, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন (প্রকল্প) জেনারেল ম্যানেজার ড. এম.এম হাশেম আলী, জেনারেল ম্যানেজার (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) খন্দকার আমিনুজ্জামান, সিআইডিডি ও বিসিক এর পরিচালক প্রকৌশলী  বিসিক এর প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. শফিকুল আলম। এসময় বক্তব্য রাখেন, ময়মনসিংহ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মো. বোরহান উদ্দিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পরিবার পরিকল্পনার কার্যালয়ের উপ-পরিচালম আব্দুস সালাম, নবাবগঞ্জ মহিলা সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. নজরুল ইসলাম ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এমরান ফারুক মাসুম, সাধারণ সম্পাদক ও “দৈনিক চাঁপাই দর্পণ” এর সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রঞ্জুসহ অন্যরা। এসময় বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার জন্স¦াস্থ্যের বিষয়টিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। জন¯^াস্থ্যের সাথে সম্পর্কিত আয়োডিন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়লেও এখন পর্যন্ত এক্ষেত্রে আমরা কাক্সিখত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হইনি। আয়োডিন বিষয়ক প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা এই সমস্যা সমাধানে দীর্ঘসময় ধরে কাজ করছি। কাক্সিখত সাফল্য অর্জনে দরিদ্র জনগোষ্ঠী বিশেষ করে নারীদের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টির জন্য সমাজের শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ সংশিষ্ট সকলকে ভূমিকা পালনের আহŸান জানান। বক্তারা আরো বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের সকল কর্মকর্তার মাধ্যমে আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করার পদক্ষেপের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। আয়োডিনের অভাবে যেসব রোগ হয়, সেগুলো যেন আর না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা ব্যবস্থা গ্রহণের গুরুত্বারোপ দেয়া। জাতিকে বুদ্ধিদীপ্ত হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার। কর্মশালায় বক্তারা বলেন, জনসংখ্যা বেশি হওয়ার জন্য এবং জমিতে বেশী বেশী ফসল চাষ করার জন্য মাটি এবং মাটির ফসলে আয়োডিন নেই। বিধায় উৎপাদিত আয়োডিন থাকছেনা। এজন্য লবণের মাঝে আয়োডিন মিশিয়ে চাহিদা মেটানোর কাজ করছেন সরকার। পাশাপাশি আমাদের খাদ্যের বিষয়ে মৌলিক ধারণা রাখতে হবে। ওজন নিয়ন্ত্রণ, রোগ প্রতিরোধ, রোগ নিরাময়-মুক্তি, বয়স সংরক্ষণ, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া মায়ের পেটের ৩ মাস বয়স থেকেই আয়োডিনের প্রয়োজন শুরু হয় শিশু জন্য। আয়োডিনের অভাবে অনেক সময় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু জন্ম গ্রহণ করে। বুদ্ধিদীপ্ত জাতি গঠন, নারী ও শিশু স্বাস্থ্যের উন্নয়নে মান সম্পন্ন আয়োডিনযুক্ত লবণ নিশ্চিত করতে হবে। বক্তারা বলেন, বিসিকের মাধ্যমে ২৬টি প্রকল্পের মধ্যে আয়োডিন প্রকল্প রয়েছে। যা দেশে আয়োডিনের অভাবে কোন শিশু, নারী-পুরুষ রোগে আক্রান্ত না হয়। আমাদের সেজন্য প্রতিটি পরিবারে নিশ্চিত করতে হবে আয়োডিনের বিষয়ে। এছাড়া নতুন প্রজন্মকে আয়োডিনের বিষয়ে সচেতন করে গড়ে তুলতে প্রয়োজন। বক্তারা বলেন, প্যাকেট জাত করে লবণ বাজারজাত করতে হবে। প্রথমে লবণ পরীক্ষা করে খেতে হবে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে আয়োডিনের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে আলোকপাত, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রচারণা মাধ্যমে আয়োডিনের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বাজারের খোলা লবণ ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এরশাদ হোসেন খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবুল হায়াৎ মো. রহমতুল্লাহ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুঞ্জুরুল হুদা, জেলা তথ্য অফিসার ওহিদুজ্জামান, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সাহিদা আকতার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমাস ইন্ডাষ্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মো. আব্দুল হান্নান হান্নুসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সাংবাদিক, বিভিন্ন সরকারী কর্মকর্তাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *