Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার চরমোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ২ দিনব্যাপী বিজ্ঞান উৎসবের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার সকালে বিজ্ঞান উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হাসান। এই উপলক্ষে বিদ্যালয় চত্বরে এক আলোচনা হয়। জাতীয় সংগীত গেয়ে আলোচনা সভার শুরু হয়। আলোচনা সভায় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার আহবান জানান বক্তারা। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোঃ শফিকুল আলম ভোতার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন পৌর মেয়র মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, অব. কলেজ শিক্ষক মোঃ শাহ আলম, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম। শেষে মেলার স্টলগুলো পরিদর্শণ করেন অতিথিরা। ১৪ ও ১৫ ফেব্রæয়ারী অনুষ্ঠিত মেলায় বিভিন্ন বিদ্যালয়ের মোট ১৯টি স্টল রয়েছে এবং প্রায় ৪০টি বিভিন্ন বিজ্ঞান ভিত্তিক প্রকল্প রয়েছে। এসময় অব. শিক্ষক আব্দুল হান্নান, নামোশংকরবাটী মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল জলিল, শিক্ষক মোঃ শাহ আলম, সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি সেলিনা বেগম, শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের ইংরেজী বিভাগের শিক্ষক নওসাবাহ নওরীন নেহা, চরমোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণীর শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি বলেন, তরুণরা আমাদের সম্পদ, তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তুলে দক্ষ জনশক্তিতে পরিনত করতে হবে। দক্ষ মানবশক্তিতে পরিনত হলে, এসব শক্তিকে বিদেশে পাঠিয়ে শ্রমবাজারের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আমাদের দেশের প্রায় ১ কোটি মানুষ বিদেশে কাজ করে। কিন্তু দক্ষ না হওয়ায় তারা শ্রমের উপযুক্ত মূল্য পায় না। আবার দেশের কাজের জন্য বিদেশ থেকে দক্ষ শ্রমিক এনে অনেক বেশী শ্রম মূল্য দিয়ে কাজ করাতে হচ্ছে। সুদক্ষ জনশক্তি না থাকায় এভাবে দেশের অনেক অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে। দেশের তরুণরা দক্ষ হয়ে গড়ে উঠলে দেশের অনেক সম্পদ বাঁচবে, আবার বিদেশের শ্রমের মূল্য ঠিকমত পাবে। আমাদের দেশের চাহিদা মোতাবেক তরুণ প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে। কারিগরি কাজে তরুণদের দক্ষ করতে না পারলে, ভবিষ্যতে আমাদের চরম সমস্যায় পড়তে হবে। তাই তরুণ বা শিক্ষার্থীদের দূর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে মানসম্পন্ন শিক্ষা দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করার কথা বললেও প্রায় ৯০% শিক্ষক পরোক্ষভাবে নকলে সহায়তা করছেন শিক্ষকরা। অভিনব কায়দায় শিক্ষার্থীদের সহায়তা করে জিপিএ ৫ পাওয়ার জন্য শিক্ষকরাই দায়ি। এভাবে শিক্ষার্থীরা আসল শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছে না। তিনি বলেন শিক্ষকরা আত্মসমালোচনা করুন, তাহলেই শিক্ষার্থীরা ভাল মানের শিক্ষা পাবে। অন্যান্য জেলার মত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাতেও আউট সোসিং এর কাজ করছে তরুণরা। কিন্তু গুণগত শিক্ষা বা দক্ষ না হওয়ায় ভাল করতে পারছেনা। তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে মেধা বিকাশের উপযুক্ত করে গড়ে তোলার আহবান জানান। প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের জন্য বিজ্ঞান উৎসবের আয়োজন করায় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান এবং চরমোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য ৫০ হাজার টাকার অনুদানের ঘোষণা দেন সভায়। অন্যান্য বক্তারাও শিক্ষার্থীদের বেশী বেশী বই পড়ার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করার আহবান জানান। জ্ঞান অর্জনের জন্য বিজ্ঞান উৎসব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পুঁথিগত বিদ্যা অর্জনের পাশাপাশি বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষা অর্জনে মেধার বিকাশ ঘটানোর জন্য শিক্ষার্থীদের আহবান জানান বক্তারা।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *