Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যান সমিতির চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখা কমিটি পরিচালিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের উদ্ভুত পরিস্থিতি নিরসনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চক্ষু হাসপাতাল সম্মেলন কক্ষে সভা করেছে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ কমিটি ও আহবায়ক কমিটি। বুধবার সকালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনোনীত ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির প্রধান ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আহবায়ক কমিটির সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন। গত ৩১ ডিসেম্বরে ১৯ সদস্য বিশিষ্ট বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যান সমিতির চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখা কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের কমিটি গঠন ও আয়-ব্যয়ের হিসেব-নিকেস নিয়ে বড় ধরণের জটিলতা দেখা দেয়ায় বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যান সমিতির চেয়ারম্যান ব্যারিষ্টার খন্দকার মাহবুব হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে তৎকালিন কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর সুলতানা রাজিয়াকে আহবায়ক করে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহবায়ক কমিটি করা হয়। ১৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি সুষ্ঠুভাবে একটি নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত কমিটির কাছে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন মর্মে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই একটি মহল এই আহবায়ক কমিটিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে প্রবেশ করতে না দিয়ে কক্ষ তালা দিয়ে বন্ধ করে রাখে। একান্ত নিরুপায় হয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে কমিটির আহবায়ক অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর সুলতানা রাজিয়া বিষয়টি লিখিতভাবে জানান। প্রেক্ষিতে সরকারী অর্থ ও পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে উঠা প্রতিষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় করণীয়র লক্ষ্যে “অন্তবর্তীকালীন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিটি” সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে আহবায়ক করে প্রশাসনের আওতাধীন একটি কমিটি গঠন করেন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসন। আদেশে বলা হয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা অব্যহত রাখা, মেয়াদ উত্তীর্ণ কার্যকরি কমিটির কর্মকালের প্রশাসনিক ও আর্র্থিক কার্যক্রমের উপর তদন্ত পরিচালনা, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কার্যক্রম গ্রহণ করবে এই প্রশাসনিক কমিটি। কিন্তু একটি মহল সরকারী বা আহবায়ক কমিটির নিয়মনীতির কোন তোয়াক্কা না করে এবং কোন ধরণের আলোচনা ছাড়ায় একটি নির্বাচিত কমিটি ঘোষণা করে গত ৩ মার্চ। এই কমিটির পুরো কমিটির নামও আবার বিভিন্ন পত্রিকায় ‘বিজ্ঞপ্তি হিসেবে’ ছাপিয়ে ও দেয়ালে পোস্টার হিসেবে লাগিয়ে প্রচারও করা হয়। তাহলে বিষয়টি এরকমই দাঁড়ায়, ওই মহলটি প্রশাসন বা স্থানীয় আহবায়ক কমিটির কোন কমিটিকেই তোয়াক্কা না করেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়। এটা জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় আহবায়ক কমিটিকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখার সামিলও বটে। এব্যাপারে স্থানীয় আহবায়ক কমিটির আহবায়ক প্রফেসর সুলতানা রাজিয়া জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের পূর্বের কমিটির আর্থিক অনিয়ম,  স্বেচ্ছাচারিতাসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় নিয়ে চরম জটিলতা দেখা দেয়। ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাধারণ মানুষের সেবা দেয়ার জন্য গড়ে ওঠা চাঁপাইনবাবগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের সমস্যা সমাধানের লক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যান সমিতি কর্তৃক একটি আহবায়ক কমিটি গঠন হয়। কিন্তু একটি মহল বিষয়গুলোকে আরও জটিলতা সৃষ্টি করতে থাকে এবং আহবায়ক কমিটির কাজে বাধা দিতে থাকে বিভিন্নভাবে। বাধ্য হয়েই জেলা প্রশাসক মহোদয়কে বিষগুলো জানানো হয়। জেলা প্রশাসক প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। প্রশাসনের কমিটি স্থানীয় আহবায়ক কমিটির সদস্যদের নিয়ে আলোচনায় বসেছে বুধবার। কাগজপত্র ও নিয়মনীতি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন প্রশাসনের আহবায়ক কমিটি। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনের আহবায়ক কমিটির সদস্য ডাঃ আব্দুল মাতিন, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার নুরুল ইসলাম, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ ইকবাল, এস.আই রনি সাহা এবং বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যান সমিতির কর্তৃক গঠিত আহবায়ক কমিটির সদস্য অব. অধ্যক্ষ মোঃ সাইদুর রহমান, এ্যাড. আবু হাসিব, আলহাজ্ব আব্দুল হান্নান হান্নু, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ আব্দুল বারেক, বীর মুক্তিযোদ্ধা লায়ন্স কামাল, ডাঃ দুরুল হোদা, আমিনুল ইসলাম সেন্টুসহ অন্যান্য সদস্যগণ। প্রশাসনের আহবায়ক কমিটির আহবায়ক সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের জটিলতা দূর করার জন্য আগের আহবায়ক কমিটির সদস্যদের কাছ থেকে সার্বিক বিষয়গুলো আলোচনা, পর্যালোচনা করে সুষ্ঠুভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ব্যবস্থা নেয়া হবে। সম্প্রতি কমিটি ঘোষণা বা প্রচারণার বিষয়ে বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনার পর যে ভাবেই কমিটি ঘোষণা করা হোক না কেন, এটি একটি অনিয়ম এবং অবৈধ। অবৈধভাবে কেউই প্রতিষ্ঠানের কোন কার্যক্রম চালাতে পারবে না। সবকিছু পর্যালোচনা করে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য একটি নির্বাচিত কমিটি গঠন করে তাঁদের হাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *