Sharing is caring!


চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি \ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে উদ্ভাবনী ¯স্বীকৃতি পেয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্রের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শরফ উদ্দিন। জেলায় উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘদীন যাবৎ আমের উপর গবেষণা করছেন। আমের বিভিন্ন বিষয়ে তিনি গবেষণা কাজ সফলতার সহিত পরিচালনা করে আসছেন। তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন আম রপ্তানির বিষয়ে। কারণ দেশের অনেক বিজ্ঞানি আম রপ্তানির বিষয়ে নৈতিবাচক মন্তব্য করেন প্রতি বছরই। বিশেষ করে বাংলাদেশ ম্যাগো প্রডিউসার এন্ড মাচেন্ট’স এসোসিয়েশন কর্তৃক আয়োজিত প্রশি¶ণে বাংলাদেশের আম রপ্তানির নানাবিধ কারণ প্রতি বছরই তুলে ধরা হতো। এ বছরও তেমনটি করা হচ্ছে। যদিও গত দুই বছর যাবৎ বাংলাদেশের আম বিদেশের নামিদামি মার্কেটে রপ্তানি হচ্ছে। তবে অনেককেই দেখা যায় বিষয়টি সঠিকভাবে না জেনে উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে অত্র জেলার আমের রপ্তানির বিষয়ে অপপ্রচার বা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছেন। এই কঠিন কাজটি সফল করার জন্য তিনি বেছে নিয়েছিলেন ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করার জন্য। তিনি ৬ বছর ধরে চেষ্টা করে এই প্রযুক্তিটি উদ্ভাবন করেছেন। এই প্রযুক্তিটি সত্যিই আমচাষীদের জন্য লাভজনক ও রপ্তানি সহায়ক। হর্টেক্স ফাউন্ডেশনের দেওয়া তথ্য মতে গত মৌসুমে আম রপ্তানি হয়েছে ৬৬৫ মেট্রিক টনের মতো। আর শুধু হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর দিয়ে ২৮৮ টন আম পৃথিবীর আটটি দেশে রপ্তানি হয়েছে। তবে দঃখের বিষয় একজন বিজ্ঞানি আম রপ্তানির বিষয়ে আমচাষীদের প্রশি¶ণ দিতে এসে বলছেন এখনও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হতে কোন আম রপ্তানি হয়নি। এই বিষয়টি নবনিযুক্ত জেলা প্রশাশক মহোদয়কেও ভুল ব্যাখা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে, পরে এর সত্যতা বেরিয়ে আসে। গত ৩১ জানুয়ারী ২০১৭ ইং তারিখে জেলা প্রশাসক মহোদয় অভিনন্দন জানিয়েছেন ড. মো. শরফ উদ্দিনকে। তিনি উনার অভিন্দন বার্তায় উল্লেখ করেছেন ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে আপনি সরকারের উন্নয়ন ল¶্যমাত্রা অর্জনে একটি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করতে স¶ম হয়েছেন। আপনার উদ্ভাবিত ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তিটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় নিরাপদ, বিষমুক্ত ও রপ্তানীযোগ্য আম উৎপাদনের ¶েত্রে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। যা কৃষক পর্যায়ে ছড়ানোর জন্য আপনাকে আন্তরিকভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদিত আম ২০১৬ সালে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হয়েছে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে আপনার উদ্ভাবিত ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তির জন্য জেলা প্রশাসনের প¶ থেকে আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এছাড়াও আম রপ্তানির বিষয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখায় অভিনন্দন জানিয়েছেন ড. মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী, চেয়ারম্যার, বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপ¶ এবং সাবেক এমপি। তিনি জানিয়েছেন, গত মৌসুমে তিনে নিজে উপস্থিত থেকে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তির আম ইংল্যান্ড, ইটালি ও জার্মানীসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি কার্যক্রম উদ্ভোধন করেছিলাম। সুতরাং বাংলাদেশের আম বিদেশে রপ্তানি হয় এতে কোন সন্দেহ প্রকাশ করাটা অনেকটাই উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার এবং ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উচিৎ এই অপপ্রচারের বিষয়টি ভালোভাবে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া কারণ এই ধরণের অপপ্রচার কখনওই চাষীদের আম রপ্তানিতে উৎসাহ দিতে পারে না।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *