Sharing is caring!

প্রিয় চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসী,
সালাম নিবেন, আমি গত ২৬/০১/২০১৬ ইং আপনাদের জেলায় জেলা প্রশাসক হিসাবে যোগদান করি। মাত্র ৯ মাস আপনাদের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। সময়টা অল্প ছিল কিন্তু চেষ্টা ত্রæটি করিনি। সারাজীবন আমার ব্রত ছিল কিভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো যাই, সাহায্য করা যাই, মানুষকে সাথে নিয়ে কাজ করা যাই, মানুষকে ¯^প্ন দেখানো যাই। যে কারণে নতুন উদ্যমে কাজ করা শুরু করেছিলাম। সাধারণ মানুষে সাতে মিশতে, কথা বলতে আমার ভালো লাগত। জেলা প্রশাসক হয়েও আমার বাসভবন, অফিস সবার জন্য উম্মুক্ত করে দিয়েছিলাম।
সেদিন সকালটা খুব সুন্দর। প্রকৃতির মেজাজ রুক্ষ ছিল না। চোখে মুখে ¯^প্ন ছিল, কিভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জকে সবুজে সাজে সাজাবো। এই রকম প্রত্যয় নিয়ে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের যাচ্ছিলাম। মিটিং শুরুর দিকে ফোনে কথা শেষ করতে ক্রমেই অবশই পড়ছিলাম। আপনাদের না বলে যেতে পারলেও রেখে গেলাম আমার বিদায় মুহর্তের ভিডিও চিত্র।
আপনাদের নিকট হতে পেয়েছি সীমাহীন শ্রদ্ধা, ভালবাসা ও সুউচ্চ মর্যাদা। প্রায় ৯ মাস আমি আপনাদের সাথেই বসবাস করতাম। এখান থেকে আমি মৃত্যু বরণ করি। অনেক কাজ অসমাপ্ত রেখে আমি মহান রব্বুল আলামিনের ডাকে সারা দিয়ে চলে যাই। আমি বিশ্বাস করি আমার এই অসমাপ্ত কাজ, আল্লাহর ইচ্ছায় একদিন সমাপ্ত হবে। আমার আত্মার সাথে, আমার পরিবারের সাথে আপনাদের এই বন্ধন চিরকাল অম্লান থাকবে।
আমি না বুঝতে পারিনি! এভাবে সবাইকে না বলে, বিদায় না নিয়ে না ফেরার দেশে চলে যাবো। আমার ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে আপনাদের নিকট ক্ষমা প্রার্থণা করছি। আমাকে সবাই মাফ করে দিবেন।
বিদায় চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসী……..বিদায়……..বিদায়
(বড় ভাইকে হারিয়ে দিশেহার হয়ে পড়েছি। কিছুতেই এই চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছি না। নিজেকে ¯^ান্তনা দেয়ার ভাষা খুঁজে পাই না। মনে মনে অনেক কিছু ভাবনায় নিয়ে আসি। এই প্রেক্ষাপটে ভাবতে থাকি, বড় ভাই যদি সুযোগ পেতেন, তাহলে কি বলতেন? এই প্রসঙ্গে এই লেখাটা!
চিঠি লেখক
ড. মোঃ শামীম
সহকারি অধ্যাপক
সরকারি বিএল কলেজ, খুলনা।
ছোট ভাই,
প্রয়াত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক
জাহিদুল ইসলাম, গোপালগঞ্জ।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *