Sharing is caring!

SAM_3000  SAM_3003
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় মহাসমারোহে শুরু হয়েছে হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দূর্গোৎসব। জেলায় এবছর ১’শ ২২টি মন্ডপে পুজা অর্চণা হচ্ছে। সোমবার সকাল থেকে ঘট স্থাপনের পর ষষ্ঠির কল্পনার মধ্য দিয়ে শারদীয় দূর্গা পুজার শুরু হয়। সকল পুজা মন্ডপে দর্শনাথীদের ভিড় জমে উঠেছে। মঙ্গলবার মহাসপ্তমীর মধ্য দিয়ে ভক্তদের উপস্থিতিতে পুজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছেন মন্দিরের পুজোক। এসময় ঢাকের তালে তালে বাদ্য বাজিয়ে এবং শংক বাজিয়ে ও দেবীর পায়ে ফুলসহ নানা সামগ্রী দিয়ে দেবীর সন্তষ্টি অর্জনে ব্রতী হয় পুজোক ও ভক্তরা। নব পত্রিকা বা কলা বউ এর পুজা সর্বপ্রথম শুরু হয়।আজ অষ্টমী। শারদীয় দূর্গোৎসব সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ আইনশৃক্সখলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সকর মন্দিরে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। র‌্যাব সদস্যরা নিয়মিত টহল দিচ্ছেন মন্দিরগুলোতে। প্রতিবছরের মত এবছরও জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ নির্বিঘেœ তাদের পুজা অর্চণা শেষ করবে বলে আশা করছেন জেলা পুজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ। এবছর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় মোট ১২২টি প্রতিমার পুজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় ৫৩টি, পৌর এলাকায় ২৭টি ও বিভিন্ন ইউনিয়নে ২৬টি, শিবগঞ্জ উপজেলায় ৩১টি, গোমস্তাপুর উপজেলায় ২৬টি, নাচোল উপজেলায় ১০টি ও ভোলাহাট উপজেলায় ২টি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলায় মহানন্দা নদীর তীরে অবস্থিত বারঘরিয়া এলাকায় বাইশ পুতুল মন্ডপে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং অন্যন্য প্রতিমা নিয়ে পুজা অনুষ্ঠিত হয়। এবছরও তেমনিভাবেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই কাঠামোর ভিতর বাংলাদেশ ও ভারতের আর কোথাও ২২টি দেবদেবীর পুতুল সমš^য়ে গঠিত দুর্গা মায়ের পুজা হয় না। এই দৃষ্টিনন্দন, সুশোভিত, বৈচিত্রময়, অনন্য প্রতিমা দর্শনের জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ও ভারত থেকেও বহু সংখ্যক দর্শনার্থীরা আসেন। এই প্রতিমা কাঠামোতে, দেব-দেবী রয়েছে, গঙ্গা, শিব, দুর্গা, লক্ষী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, সিংহ, অসুর, জয়া, বিজয়া, নন্দী, বিন্দী, ময়ুর, ইঁদুর, ষাঁড়, সর্প ২টি, মগর মাছ ২টি, রাম, লক্ষণ। আদিকাল থেকেই চলে আসছে সুর (দেবতা) আর অসুরের (দানব) মধ্যে দ্ব›দ্ব। সৎ আর অসৎ প্রবৃত্তির মধ্যে যুদ্ধ। দুর্গাপুজার মূলতত্ত¡ দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন। অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির উদয়। দূর্গা পুজোর মুল আদর্শ ও শিক্ষা হচ্ছে, ঐক্য, সাম্য, সমত্ব, মৈত্রী, ধৈর্য্য, প্রেম, মানবিক গুনাবলী অর্জন ও ষড়রিপুর দমন এবং বর্জন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *