Sharing is caring!

Chapai fish 19-07-16চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি \ জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে জেলার গণমাধ্যম কর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মৎস্য দপ্তরে। মঙ্গলবার সকালে জেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে দপ্তরের মিলনায়তনে ১৯ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত মৎস্য সপ্তাহের গৃহীত কর্মসুচী ও জেলার মৎস্য দপ্তরের সাফল্য ও করনীয় বিষয় তুলে ধরেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ শামছুল আলম শাহ্। চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তফা মন্টুর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন আমনুরা মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের কর্মকর্তা আব্দুর রহিম। উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এমরান ফারুক মাসুম, সাধারণ সম্পাদক মোহাঃ জোনাব আলী, চ্যানেল আই’র জেলা প্রতিনিধি আশরাফুল ইসলাম রঞ্জুসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকর্মীগণ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় খাঁচায় মাছ চাষ করে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার রাজরামপুর মহল্লার মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে মোঃ মতিউর রহমান প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণের জন্য মনোনীত হয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় মহানন্দা নদীতে খাঁচায়, পুকুর, বিল ও জলাশয়, পদ্মার কোলসহ বিভিন্নভাবে মাছ চাষ করে জেলার চাহিদা মিটিয়ে বর্তমানে ট্রাকে পরিবহন করে জেলার বাইরেও মাছ রপ্তানী করা হচ্ছে। জেলায় মাছ চাষের জন্য আবহাওয়া এবং জমি ও পানি উপযোগী। কম শ্রমের বিনিময়েই ভাল মানের মাছ চাষ করা যায়। জেলা মৎস্যজীবী ও চাষীদের মাছ চাষের জন্য বিভিন্নভাবে সহায়তা ও প্রশিক্ষন দেয়া হয়েছে। আগামীতে আরও ভাল করার জন্য প্রশিক্ষনসহ অন্যান্য সহযোগিতা অব্যহত থাকবে বলে জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ শামছুল আলম শাহ্। সভায় বলা হয়, মাছ চাষের মাধ্যমে আমিষের ঘাটতি পুরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক উন্নতি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, সর্বোপরি আভ্যন্তরীন সম্পদের ব্যবহার নিশ্চিত হবে। বর্তমান সরকারের আওতায় ডিজিটাল বাংলাদেশ, স্বনির্ভর ও মর্যাদা সম্পন্ন এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মৎস্য দপ্তর ও মৎস্যজীবীদের সার্বিক উন্নয়নে মিডিয়াকর্মীগণের সহায়তা কামনা করেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য দপ্তরের প্রধান সহকারী মোঃ মোজাম্মেল হক, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য দপ্তরের ক্ষেত্র সহকারী শামীম আহমেদ, জেলা মৎস্য দপ্তরের হিসাব রক্ষক সফিকুল ইসলাম, অফিস সহকারী মোঃ শফিকুল ইসলাম ও রেজাউল করিম, অফিস সহায়ক আসফাক রেজাসহ অন্যরা। জেলা মৎস্য দপ্তর সুত্রে জানা গেছে, জেলায় সরকারী পুকুর ও দীঘির সংখ্যা ৩৬১৯টি, আয়তন ৮২৮ হেক্টর, বেসরকারী পুকুর ও দীঘির সংখ্যা ৬৫৭৮টি, আয়তন ১৬১৩ হেক্টর, নদীর সংখ্যা ৪টি, আয়তন ১১ হাজার ৩৩৫ হেক্টর, বিলের সংখ্যা ৬৩টি, আয়তন ৩৪৬৯ হেক্টর, প্লাবনভূমির সংখ্যা ৬৬টি, আয়তন ৩৩৮৬ হেক্টর, বরোপিটের সংখ্যা ২৯টি, আয়তন ১২৯ হেক্টর, বানিজ্যিক মৎস্য খামারের সংখ্যা ৫৯৮টি, আয়তন ২৮২ হেক্টর। জেলায় মোট উৎপাদিত মাছের পরিমান ২১ হাজার ৪০৬ মে. টন, জেলায় মোট মাছের চাহিদা ২০ হাজার ৪৩৯ মে. টন, মোট উদ্বৃত্ত মাছের পরিমান ৯৬৭ মে. টন। মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সংখ্যা ১৫৪টি, সমিতির সদস্য সংখ্যা ৩৬৭৪ জন, সরকারী মৎস্য খামারের সংখ্যা ২টি, সরকারী মৎস্য খামারের উৎপাদিত রেনুর পরিমান ৭৫ কেজি ও উৎপাদিত পোনার সংখ্যা ১.৫ লক্ষ, বেসরকারী হেচারীর সংখ্যা ২টি, উৎপাদিত রেনুর সংখ্যা ৯৮০ কেজি, বেসরকারী নার্সারীর সংখ্যা ৭৭টি, উৎপাদিত পোনার পরিমান ৪ লক্ষ ২৬ হাজার ২৬৬ কেজি, বরফ কলের সংখ্যা ৪টি, হাট বাজারের সংখ্যা ২৪৫টি, মৎস্যজীবির সংখ্যা ৭৫৫৬ জন, অভয়াশ্রমের সংখ্যা ৪টি, মৎস্য খাদ্য বিক্রেতার সংখ্যা ২১ জন, মৎস্য খাদ্য কারখানার সংখ্যা ১টি এবং মৎস্য খাদ্য পণ্য আমদানী ও রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠান ১টি।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *