Sharing is caring!

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২ আসনে নৌকার পালে

হাওয়া : কোনঠাসা ধানের শীষ

♦ স্টাফ রিপোর্টার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় সংসদীয় আসন ৩টি। জেলার গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসন। আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণায় ব্যস্ত সকল প্রার্থী। এই আসনে নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে এবং বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে নৌকার প্রার্থী এই আসনের সাবেক এমপি জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মুহা. জিয়াউর রহমান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এলাকার মানুষের সেবা করবেন বলছেন সাধারণ ভোটাররা। অনদিকে, বিএনপির একটা বড় অংশের সাথে দ্বন্দ্বের জেরে দিন যতই বাড়ছে, কোনঠাসা হয়ে পড়ছে ধানের শীষের প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম ও নেতা-কর্মীরা। অন্য জেলার ভোটার হয়ে এবং অতিথি পাখির মত বছরে কয়েকবার এসে ও সাধারণ মানুষ ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের সাথে তেমনভাবে যোগাযোগ না রাখা, প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময়ও সাধারণ মানুষের পাশে না দাঁড়ানো, ত্যাগী কর্মীদের মুল্যায়ন না করায় এখনও এই আসনের বিএনপির একটি অংশ নির্বাচনে আন্তরিকতার সাথে নির্বাচনী প্রচারণায় নিচ্ছেন না। আবার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে চাইলেও আলহাজ্ব আমিনুল ইসলামের ঘনিষ্ট নেতা-কর্মীরা এসব বিএনপি কর্মীদের অংশ গ্রহণকে ভালো চোখে দেখছেন না বলেও বিএনপির একাধিক নেতার পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২০ দলীয় জোটের একক প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচনে এই আসনটিতে ধানের শীষের পক্ষে যেভাবে জনমত বা ভোটারদের মাঝে প্রভাব সৃষ্টি হওয়ার কথা, কিন্তু সেভাবে বিএনপি নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে আন্তরিকতার লক্ষন পাওয়া যাচ্ছে না। তবে শেষ পর্যন্ত ২ প্রার্থীর মাঝেই লড়াই হবে। এছাড়া অন্য প্রার্থী ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে ঢিলেঢালা প্রচারণা থাকলেও ভোটারদের মাঝে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি এমন কথায় বলছেন সাধারণ ভোটাররা। সৎ, যোগ্য ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে, সন্ত্রাস, মাদক নির্মুলে কাজ করবে, এলাকার উন্নয়নে কাজ করবে এমন প্রার্থীকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন ভোটাররা বলে অভিমত সাধারণ ভোটারদের। এই আসনে দলের আনুগত্যের কারণে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করলেও বিভিন্ন স্তরের বিএনপি নেতাদের সাথে বিএনপি প্রার্থী আলহাজ্ব আমিনুল ইসলামের ঐক্যমত না থাকা বা বিএনপি ত্যাগী নেতাদের সাথে সমঝোতা করে মনোদ্ব›দ্ব মিটিয়ে নির্বাচনে একসাথে কাজ করার বিষয়ে এখনও কোন উদ্যোগ না নেয়ায় নির্বাচনে একটা প্রভাব পড়ছে। জেলার সন্তান না হওয়ায় এই আসনের সাধারণ মানুষের বিপদের সময় পাশে না দাঁড়ানো, অসময়ে নেতাকে না পাওয়া, সাধারণ মানুষের প্রতি দরদ বা সুখে-দুঃখে পাশে থাকেন না, এবিষয়ে একমত পোষন করে জেলা বিএনপির সাবেক নেতা মো. আসাদুল্লাহ বলেন, এই আসনের প্রার্থীর সাথে বিএনপির বিভিন্ন স্তরের একটা বিরাট অংশের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের সাথে দ্বন্দের অবসান না হলেও জোটের একক প্রার্থী হওয়ায় এবং ধানের শীষের প্রতি মানুষের ভালোবাসার কারণে যথেষ্ট ভোট পাবে ধানের শীষের প্রার্থী। যদি মানুষ ভালোভাবে, নির্বিঘেœ, নিরাপদে এবং সতস্ফুর্তভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে, তবে ধানের শীষের বিজয় হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এব্যাপারে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব আমিনুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা চেষ্টা করা হলে তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেন নি। এই আসনে আওয়ামীলীগের মনোনীত নৌকার প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মুহা. জিয়াউর রহমান বলেন, এই আসনের আওয়ামীলীগের সকল নেতা-কর্মী একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নির্বাচনী মাঠে কাজ করছে। ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এলাকার অনেক উন্নয়ন করেছি। বর্তমান মেয়াদেও এই আসনের আওয়ামীলীগ সরকার অনেক উন্নয়ন করেছে। সাধারণ মানুষ উন্নয়ন চায়, সুখে-দুঃখে তাদের পাশে চায়, আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মী এবং আমি নিজে সব সময়ই পাশে থেকে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ, আবদার পুরণ করার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। তাই আবারও এই আসনের মানুষ ৩০ ডিসেম্বর নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামীলীগকে তথা আমাকে বিজয়ী করবে ইনশাল্লাহ, বলে আমার বিশ্বাস। উল্লেখ্য, সীমান্তবর্তী ও বরেন্দ্র এলাকার ৩টি উপজেলা গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাট নিয়ে সংসদীয় এই আসনটি। ৭’শ ৩৫.৩৩ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা (রহনপুর ও নাচোল) নিয়ে গঠিত ৪৪ চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসন। এর মধ্যে গোমস্তাপুর উপজেলায় ইউনিয়ন ৮টি, নাচোল উপজেলায় ইউনিয়ন ৪টি এবং ভোলাহাটে ইউনিয়ন ৪টি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (গোমস্তাপুর-নাচোল-ভোলাহাট) আসনে মোট ভোটার ৩ লক্ষ ৭৬ হাজার ৯’শ ৭২জন। গোমস্তাপুরে মোট ভোটার ১ লক্ষ ৯৬ হাজার ২’শ ৪৮ জন। ভোলাহাটে মোট ভোটার ৭৪ হাজার ১’শ ৯৩ জন এবং নাচোলে মোট ভোটার ভোটার ১ লক্ষ ৬ হাজার ৫’শ ৩১জন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (গোমস্তাপুর-নাচোল-ভোলাহাট) আসনে মোট ৩জন প্রার্থী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। এই আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়াই করছেন জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সাবেক এমপি মুহা. জিয়াউর রহমান, ধানের শীষ নিয়ে ১০ বছর পর ভোটের মাঠে নেমেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম এবং ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী ইব্রাহিম খলিল। এই আসনটি বরাবরই দখলে ছিলো বিএনপি। ২০০৮ সালে দখলে নেয় আওয়ামীলীগ। ২০১৪ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামীলীগের এমপি নির্বাচিত হন গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস। মুলতঃ এই আসনে ভোটের লাড়াই হবে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি প্রার্থীর মাঝে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ এবং উন্নয়নের বার্তা নিয়ে সকল দলের প্রার্থীরাই ব্যস্ত সময় পার করছেন। শেষ পর্যন্ত এই আসনটি উদ্ধার করতে মরিয়া বিএনপি। ধরে রাখতে চাই আওয়ামীলীগ। তবে এই ফলাফল দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোটের দিন পর্যন্ত।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *