Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ আম ক্যালেন্ডার ঘোষণা অনুষ্ঠানে আম ব্যবসায়ী, আড়ৎদার, আম চাষী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মতামতের ভিত্তিতে বাজারে ৪০ কেজিতে আমের মণ এবং ডিজিটাল মিটারে আম ক্রয়-বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত মানছে না দেশের বৃহত্তর আম বাজার কানসাট, রহনপুর ও অন্যান্য বাজারের আড়ৎদাররা। প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে জেলার সকল আম বাজারে চাষীদের কাছ থেকে মণে নেয়া হচ্ছে ৪৬/৪৭ কেজি। কিছু আড়তে ডিজিটাল মিটার থাকলেও বেশিভাগ আড়তে এই মিটারের পরিবর্তে সাধারণ পাল্লাতেই চলছে আম বেচা-কেনা। এমন সংবাদ “দৈনিক চাঁপাই দর্পণ” এ প্রকাশের পর শুরু হয় তোলপাড়। প্রশাসনের উদ্যোগে কানসাট আম বাজার ও রহনপুর আমবাজারসহ জেলার বিভিন্ন আম বাজারে মাইকিং করে আম আড়ৎদার, আম ব্যবসায়ী ও চাষীদের সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। গত রবিবার ও সোমবার মাইকিং করে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত না মেনে চললে কঠোর ব্যবস্থার হুশিয়ারী দিয়েছেন জেলা প্রশাসন। মাইকিং এ বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক জেলার সকল আম বাজারে ৪০ কেজিতে আমের মণ, ডিজিটাল মিটারে ওজন এবং কোন ধরণের বাড়তি কমিশন নেয়া যাবে না। যদি কোন আড়ৎদার, ব্যবসায়ী বা চাষী এই আদেশ অমান্য করে তাহলে, কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হবে। যদি কোন আড়ৎদার এই আদেশ অমান্য করে তাহলে সেও যেমন অপরাধী, কোন ব্যবসায়ী বা চাষী অমান্য করে তাহলে তারাও একইভাবে দোষী। তাই সকলের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখ্য, গত ৩১মে রহনপুর আমবাজারে ওজনে প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলী \ নেয়া হচ্ছে মণে ৪৭ কেজি \ প্রতিকার চাই চাষীরা এবং ১জুন কানসাট আমবাজারে মানা হচ্ছে না প্রশাসনের সিদ্ধান্ত \ ৪৬ কেজিতে মণ \ প্রতিকারের আশায় চাষীরা শিরোনামে “দৈনিক চাঁপাই দর্পণে” সংবাদ প্রকাশিত হয়।
আম ক্যালেন্ডার ঘোষনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত আম ব্যবসায়ী, আড়ৎদার, আম চাষী ও  গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গের মতামতের ভিত্তিতে নেয়া ৪০ কেজিতে আমের মণ এবং ডিজিটাল মিটারে আম ক্রয়-বিক্রয়ের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর আম বাজারে চাষীদের কাছ থেকে মণে নেয়া হচ্ছে ৪৭ কেজি। ডিজিটাল মিটারের পরিবর্তে সাধারণ পাল্লাতেই চলছে আম বেচা-কেনা। ৪৭ কেজিতে মণ হলেও আবার সাধারণ পাল্লায় ওজনে এমনিতেই আরও ২/৩ কেজি বেশী নেয়া যায় চাষীদের ঠকিয়ে আম। তাই পুরাতন প্রথা ছেড়ে নতুন প্রথা মানতে রাজি নয় আড়ৎদাররা। এর প্রতিকার চান আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা। এক শ্রেণীর অসাধূ আড়ৎদাররা বাইরের জেলা থেকে আসা ব্যাপারীদের মন জোগাতে এবং বাড়তি সুবিধা দিতে চাষীদের ঠকিয়ে আমের এই বেশী ওজন নিয়ে থাকে। নিজেদের লাভ না হলেও ব্যাপারীদের ¯^ার্থে করা এই প্রতারণা দীর্ঘদিন থেকে চালিয়ে আসায় নতুন নিয়ম মানতে চান না আড়ৎদাররা। একইভাবে ৪০ কেজিতে আমের মণ এবং ডিজিটাল মিটারে আম ক্রয়-বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত মানছে না দেশের বৃহত্তর আম বাজার কানসাটের আড়ৎদাররা। প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট আম বাজারে চাষীদের কাছ থেকে মণে নেয়া হচ্ছে ৪৬ কেজি। কিছু আড়তে ডিজিটাল মিটার থাকলেও বেশিভাগ আড়তে এই মিটারের পরিবর্তে সাধারণ পাল্লাতেই চলছে আম বেচা-কেনা। ৪৬ কেজিতে মণ হলেও আবার সাধারণ পাল্লায় ওজনে এমনিতেই আরও ২/৩ কেজি বেশী নেয়া যায় চাষীদের ঠকিয়ে আম। তাই পুরাতন প্রথা ছেড়ে নতুন প্রথা মানতে রাজি নন আড়ৎদাররা। আর এর অত্যাচারের প্রতিকারের আশায় দিন গুনছেন আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা। এক শ্রেণীর অসাধূ আড়ৎদাররা বাইরের জেলা থেকে আসা ব্যাপারীদের বাড়তি সুবিধা দিতে চাষীদের ঠকিয়ে আমের এই বেশী ওজন নিয়ে থাকে। নিজেদের লাভ না হলেও ব্যাপারীদের ¯^ার্থে করা এই প্রতারণা দীর্ঘদিন থেকে চালিয়ে আসায় নতুন নিয়ম মানতে চান না আড়ৎদাররা। নিজ এলাকার চাষীদের কথা না ভেবে, ভাবেন ঠকাতে আসা ব্যাপারীদের কথা। আবার এসব ব্যাপারীরা অনেক সময়ই এসব আড়ৎদারদের টাকা পরিশোধ না করায় বেকায়দায় পড়েন ওইসব আড়ৎদাররা। তবে, চাষীদের ঠকিয়ে ওজনে বেশী নেয়ার কাজটি করেন সব আড়ৎদারই। জেলা প্রশাসনের বেঁধে দেয়া সিদ্ধান্তে আম বিক্রির জন্য চাষীরা চেষ্টা চালালেও কানসাট আম আড়ৎদার সমিতির নেতৃবৃন্দ আম ক্রয় বন্ধ রেখে ষড়যন্ত্র করে। চাষীরাও আম বাজারজাত করণ থেকে বিরত থাকে। এসবের সাথে জড়িত রয়েছে স্থানীয় কিছু সুবিধাভোগীরাও। আড়ৎদারদের সুবিধার সুযোগে নিজেদের সুবিধা আদায়ের জন্য এসব সুবিধাভোগীরা চাষীদের ঠকানোর কাজে সহায়তা করেন আম আড়ৎদারদের। অসহায় হয়ে পড়েন বিভিন্নস্থান থেকে আসা আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা। এব্যাপারে আম বিক্রি করতে আসা কয়েকজন আম চাষী বলেন, জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত কোন আড়ৎদাররা মানছে না। জোর করে আমাদের কাছ থেকে ৪৬ কেজিতে মণ এবং শতকরা ১০ টাকা কমিশন নিচ্ছে। আমরা এমন অনিয়ম ও অত্যাচারের সুষ্ঠু সমাধান চাই। কানসাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ বেনাউল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে না মেনে নিজেদের ¯^ার্থের জন্য মিটিং করে আম ৪৬ কেজিতে মণ নিচ্ছে। সাথে আবার শতকরা ১০ টাকা কমিশন নিচ্ছে। কিন্তু সে সিদ্ধান্ত বিধিবহিঃভূত। সাধারণ আম চাষীদের কথা না ভেবে, আম আড়ৎদার সমš^য় কমিটির নেতাকর্মীরা বাইরে থেকে আসা ব্যাপারীদের পকেট ভরাতে মরিয়া। আমি এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। চাষীদের কথা মাথায় রেখে ব্যবসা করা উচিৎ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হাসান আলোচনা ও আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমসাগুলো দ্রুত সমাধানের কথা জানান। জেলা প্রশাসনের নেয়া কঠোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে নেয়া পদক্ষেপের প্রশংসা এবং কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সাধারণ আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *