Sharing is caring!

“চাঁপাই দর্পণ” এ সংবাদ প্রকাশের পর

ভূয়া নম্বর মুছলো ‘পিএসএস’

♦ স্টাফ রিপোর্টার

জয়েন্ট স্টকের ভূয়া রেজিস্ট্রেশন নং জে.এস.সি.ঢা-এস-১২১৭২/১৫ ব্যবহার করে সংস্থার ঋণ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলো প্রায় ৪ বছর যাবত চাঁপাইনবাবগঞ্জের বেসরকারী সংস্থা ‘পল্লী সাহায্য সংস্থা’ (পি.এস.এস)। দীর্ঘদিন পরে হলেও ‘দৈনিক চাঁপাই দর্পণ’র একটি চৌকস টিমের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে এনজিওটির নানা অপরাধের তথ্য চিত্র। এরই ধারাবাহিকতায় ১০ ডিসেম্বর ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জে এনজিও পল্লী সাহায্য সংস্থার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ’ ‘ভূয়া নম্ব^রে চলছে পি.এস.এস এনজিও, গ্রাহকের কোটি টাকা অস্বীকৃতি’ শীর্ষক শিরোনামে প্রথম পাতায় প্রধান খবর হিসেবে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় দৈনিক চাঁপাই দর্পণ এ। নড়েচড়ে বসে জেলার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। জেলা ও উপজেলার সমাজসেবা অধিদপ্তরগুলো শুরু করেন যাচাই বাছাইয়ের কার্যক্রম। এছাড়াও দেশের শীর্ষ পর্যায়ের সংবাদ মাধ্যম ‘বিডি২৪লাইভ’ ও ‘ম্যাংগো সিটি বিডি’ এবং ‘কানসাট নিউজ ২৪ ডটকমসহ বেশ কিছু প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় সংবাদটি প্রকাশ হয়। এদিকে, প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরপরই পি.এস.এস এনজিও কর্মকর্তারা জয়েন্ট স্টকের ভূয়া রেজিষ্ট্রেশন নং জে.এস.সি.ঢা-এস-১২১৭২/১৫ সাইনবোর্ড থেকে মুছে ফেলেছে। এতে গ্রাহক ও সাধারণ জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে গ্রাহকসহ স্থানীয় ও জেলাবাসীর মনে। এদিকে সংবাদ প্রকাশের পর গ্রাহকদের মাঝে অধিক লাভের আশায় রাখা অর্থ (এফডিআর) উত্তোলনের হিড়িক পড়ে। এতে চরম বিপাকে পড়েছে এনজিওটির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। একসাথে সব টাকা উত্তোলনে গ্রাহকদের চাপ আসায় বেকায়দায় পড়ে টালবাহানা ও সময়ক্ষেপন করছেন এমন অভিযোগ গ্রাহক ও স্থানীয়দের। এব্যাপারে সংস্থার পরিচালক নজরুল ইসলামের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, প্রায় ৪ বছর যাবত জয়েন্ট স্টকের ভূয়া রেজিস্ট্রেশন নং জে.এস.সি.ঢা-এস-১২১৭২/১৫ ব্যবহার করে আসছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ‘পল্লী সাহায্য সংস্থা’ (পি.এস.এস)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, দ্রুত সাইনবোর্ডটি সরিয়ে নেওয়া হবে। পল্লী সাহায্য সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহিপুর কলেজ মোড়ে। ভূয়া নম্বর ব্যবহার করে সংস্থাটির ১১টি শাখা গজিয়ে উঠে। তার মধ্যে প্রধান কার্যালয়ে স্থিতি ১ কোটির বেশি। প্রতিটি শাখায় তাদের কমবেশি ৭০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা করে স্থিতি রয়েছে। ২০১১ সালে জন্ম নেওয়া সংস্থাটি গ্রামে গঞ্জে সাধারণ মানুষদের তুলনামূলক অধিকতর লাভের প্রলোভন দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছেন সংস্থার পরিচালক ও অংশীদাররা।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *