Sharing is caring!

ছেঁড়া স্যুটকেসের এত গুণ

জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পরেই বিএনপির পক্ষ থেকে বেশকিছু আষাঢ়ে গল্প ছড়িয়ে দেয়া হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছড়ানো গল্প ছিল, ‘জিয়া ভীষণ সৎ ছিলেন।

জাতির সামনে এই নির্লজ্জতম মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করতে নেয়া হয় কিছু কৌশলও। জিয়ার স্ত্রী খালেদা জিয়া ও দুই ছেলেকে বারবার টেলিভিশনের সামনে এনে নিত্যনতুন গল্প তৈরি করা হয়। তবে সেসব আষাঢ়ে গল্প ধোপে টেকেনি।

কথায় আছে সত্যের ঢাক বাতাসে নড়ে’। জিয়ার বেলায়ও এমনটিই ঘটেছে। ধীরে ধীরে সারাদেশে জিয়ার অঢেল সম্পদ ও ব্যাংকে অগণিত অর্থের খোঁজ পাওয়া যায়।

ফলে ছেঁড়া স্যুটকেসের গল্প জাতির সাথে প্রহসনের গল্পে পরিণত হয়। এভাবেই বিএনপির মজ্জাগত মিথ্যাচার আরও একবার ধরা পড়ে বিশ্ববাসীর সামনে।

নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে একাধিকবার ক্ষমতায় এসে জিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন খালেদাও। দেশে বিদেশে গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদ। পিছিয়ে ছিল না তার দুই পুত্রও।

জানা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে সবচেয়ে বেশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের তালিকায় নাম উঠে এসেছে জিয়া পরিবারের। জিয়া পরিবারের সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) মোট প্রাক্কলিত সম্পদের পরিমাণ ১২০ কোটি দিরহাম। বাংলাদেশি টাকায় যার মূল্য দুই হাজার ৮৩২ কোটি টাকা।

অর্থনৈতিক বিভাগের তথ্য ভাণ্ডার ‘ফরেন ইনভেস্টারস ক্রাট ইউএই’তে এই তথ্য পাওয়া গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতেই জিয়া পরিবারের সব সম্পদ। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, মুহাম্মদ বিন রশীদ সিটি দুবাইতে বিলাসবহুল সোবাহ হার্টল্যান্ডে বেগম জিয়ার ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর দুই বিলাসবহুল বাড়ি আছে। দুবাই ওয়াটার ক্যানেলে কাছে এই বাংলো বাড়ির প্রতিটির মূল্য পাঁচ কোটি দিরহাম করে, অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় প্রতিটি বাংলো বাড়ির দাম প্রায় ১১৫ কোটি টাকা।

গত ২১ জুলাই কোকোর স্ত্রী বাংলো দুটি তাঁর নামে লিখে দেওয়ার আবেদন করেন। কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী এরকম হস্তান্তরের জন্য জীবিত শরিকদের অনাপত্তিপত্রের প্রয়োজন হয়। এছাড়াও কোকোর নামে বে স্কয়ারে আট হাজার স্কয়ার ফিটের একটি বাণিজ্যিক স্পেস আছে।

খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানের নামে রিগ্যাল টাওয়ারে একটি অ্যাপার্টমেন্ট আছে। এর মূল্য সাত কোটি দিরহাম (এক দিরহাম = ২৩ টাকা মাত্র), এই সম্পত্তিটি ২০০৪ সালে কেনা। ২০০৬ সালে এটি জাইমা রহমানের নামে রেজিস্ট্রি হয়। জাইমার নামে আরবেলায় আরও একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট আছে।

খালেদার ভাই প্রয়াত সাঈদ ইস্কান্দারের নামে দুবাইতে দুটি অ্যাপর্টমেন্ট আছে। এগুলো এখন তাঁর স্ত্রীর নামে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে দুবাই মেরিনাতে একটি এবং দুবাই ট্রেড সেন্টারে একটি। বেগম জিয়ার আরেক ভাই শামীম ইস্কান্দারের নামে দুবাইতে আছে একটি অ্যাপার্টমেন্ট। সিলিকন ওয়েসিসের পাঁচ হাজার স্কয়ার ফিট অ্যাপার্টমেন্টের বর্তমান বাজার মূল্য সাত কোটি দিরহাম।

এছাড়াও জিয়ার বড় বোন খুরশীদ জাহান হক চকলেটের নামে এমিরেটস হিলস-এ একটি অ্যাপার্টমেন্ট আছে, যার মালিকানা সম্প্রতি তাঁর মেয়ে হাসিনা জাহানের নামে হস্তান্তর হয়েছে। হাসিনা জাহান বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রতিটি সম্পত্তির দলিলেই একজন অভিভাবক হিসেবে নাম রয়েছে খালেদা জিয়ার। যিনি এসব সম্পত্তির বিরোধ নিষ্পত্তিকারী হিসেবে বিবেচিত হবেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা বিধান করে। কোনো রাষ্ট্র বা সরকারের অনুরোধে এই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা ওই দেশের আইনবিরুদ্ধ।

এছাড়া ওইসব সম্পত্তির হিসাবও তাঁরা কোনো সরকারকে দেয় না। সম্প্রতি দুবাইকে কালো টাকার স্বর্গ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আর্ন্তজাতিক মুদ্রা তহবিল। জিয়া পরিবারের সব সম্পত্তি কেনা হয়েছে ১৯৯২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে আয়ের উৎস জানানোর কোনো বাধ্য বাধকতা নেই।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *