Sharing is caring!

ছোলা খাওয়ার উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ

ছোলা বা বুট অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং উচ্চমাত্রার প্রোটিনসমৃদ্ধ একটি খাবার। কাঁচা, সেদ্ধ বা তরকারি রান্না করেও খাওয়া যায় এই ছোলা দিয়ে। এটি আমিষের একটি ভাল উৎস। শুধুমাত্র শর্করা, আঁশ বা প্রোটিন হিসেবে নয়, বেশ কিছু ভিটামিন এবং মিনারেলের উৎস হিসেবে ছোলার কোনো জুড়ি নেই। এটি পরিপূর্ণ খাবার হিসেবেও খেতে পারেন। রমজান মাসে ইফতারের সময় জনপ্রিয় খাবার হলো ছোলা। রোজা ছাড়াও যাঁরা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাঁরা ছোলাটা একটি মিল হিসেবে রাখতে পারেন। সম্মানিত পাঠক আসুন এবার জেনে নেই ছোলা খাওয়ার উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে।
রমজানে: রমজান মাসে ইফতারের সময় জনপ্রিয় খাবার হলো ছোলা। কারন ছোলাতে রয়েছে প্রচুর আমিষ যা সারাদিন রোজা রাখার ঘাটতি সহজেই পূরণ করে ফেলে। তাছাড়া ছোলা দেহকে দৃঢ় ও শক্তিশালী করে, হাড়কে করে মজবুত এমনকি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এর ভূমিকা অপরিহার্য।
ডায়াবেটিসে উপকারী: ছোলার শর্করা বা কার্বোহাইডেটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। তাই ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ছোলার শর্করা ভাল।
ওজন কমায়: যারা ওজন কমাতে চান, তাঁদের জন্য ছোলা বেশ কার্যকরী পথ্য হিসেবে কাজ করে। কেননা ছোলার আঁশ শরীরে ওজন কমাতে সাহায্য করে। উন্নত মানের ডাল: ছোলা পুষ্টিকর একটি ডাল। এটি মলিবেডনাম এবং ম্যাঙ্গানিজের চমৎকার উৎস। ছোলাতে প্রচুর পরিমাণে ফলেট এবং খাদ্য আঁশ আছে সেই সাথে আছে আমিষ, ট্রিপট্যোফান, কপার, ফসফরাস এবং আয়রণ। প্রচুর খাদ্য আঁশ রয়েছে: ছোলাতে অধিক পরিমানে খাদ্য আঁশ রয়েছে যা রক্তে উপস্থিত গ্লুকোজের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ছোলা খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা খুব ধীরে ধীরে বাড়ে। এই জন্য ডায়াবেটিক রোগীদের ছোলা খাওয়া ভাল।
খারাপ কোলেস্টেরল কমায়খ: ছোলাতে থাকা তেলের বেশির ভাগ পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। এই তেল শরীরের অপ্রয়োজনীয় খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়। শর্করা আমিষ এবং তেল ছাড়াও ছোলায় অনেক উপকারী ভিটামিন ও খনিজ লবণ রয়েছে যা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী।
হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়: নিয়মিত ছোলা খেলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে যায়। তাছাড়া ছোলাতে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় উভয় ধরনের খাদ্য আঁশ আছে যা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। এবং এতে থাকা পটাসিয়াম, ভিটামিন সি এবং ভিটামিন বি-৬ হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়। কোষ্ঠকাঠিন্যে দূর করে ছোলার খাদ্য-আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। প্রচুর পরিমাণে ডায়াটারি ফাইবার বা আঁশ রয়েছে ছোলাতে। খাদ্য আঁশ হল খাবারে অবস্থিত পাতলা আঁশ যা পাকস্থলিতে হজম হয় না, ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। ক্যান্সার রোধে: ছোলাতে পর্যাপ্ত পরিমানে ফলিক এসিড রয়েছে যা কোলন ক্যান্সার এবং রেক্টাল ক্যান্সার এর ঝুঁকি কমায়। এছাড়া ফলিক এসিড রক্তের অ্যালার্জির পরিমাণ কমিয়ে এ্যজমার প্রকোপও কমিয়ে দেয়। তাই নিয়মিত ছোলা খান এবং সুস্হ থাকুন। যৌনশক্তি বৃদ্ধিতে: যৌনশক্তি বৃদ্ধিতে ছোলার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে আমিষ রয়েছে। তাই শুধু রমজান মাস নয় ১২ মাসেই ছোলা থাকুক আপনার খাদ্য তালিকায়। সতর্কতাঃ যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে তাঁরা ছোলা একেবারেই খাবেন না। ছোলার ডালের তৈরি ভাজা-পোড়া খাবার যত কম খাওয়া যায় ততই ভালো, কারণ এতে হজমে সমস্যা হতে পারে। তাই হজমশক্তি বুঝে পরিমান মত কাঁচা অথবা সিদ্ধ ছোলা খাবেন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *