Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতির অধীনে জেলার মানুষের সেবা প্রদানের লক্ষে প্রতিষ্ঠিত হওয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালে বিভিন্ন দূর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আন্দোলন শুরু করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সচেতন মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালে সাধারণ মানুষ স্বল্প খরচে বা বিনামূল্যে সেবা নিয়ে আসছে এরকমই ধারণা ছিলো জেলার সচেতন মানুষগুলোর। কিন্তু বিশ্বাসের ঘরে বাসা বাঁধে দূর্ণীতি আর অনিয়ম। দীর্ঘদিনের চলে আসা অনিয়ম আর দূর্ণীতিই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের বিষয়টি জেলার অভিজ্ঞ মহলের নজরে আসে। ফলে শুরু হয় প্রতিকারের চেষ্টা। এরই অংশ হিসেবে তৎকালিন কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতির পদত্যাগ এবং সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা, কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় আহবায়ক কমিটি গঠন এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে একটি কার্যনির্বাহী কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করার চেষ্টায় শুরু হয় আন্দোলনের। কিন্তু স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের সাথে জড়িতরা আবারও ষড়যন্ত্র শুরু করে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। আহবায়ক কমিটিকে সাথে নিয়ে জেলা প্রশাসনের গঠিত কমিটি বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে এনে নিয়ম মোতাবেক একটি সুষ্ঠু নির্বাচন এবং বিগত দিনে দায়িত্ব পালনকারীদের সময়ে আর্থিক ও অন্যান্য বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কার্যক্রম ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের বিভিন্ন দূর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে নাগরিক কমিটি রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও স্বারকলিপি প্রদান করেছে। শহরের সেন্টু মার্কেটের সামনে সোমবার নাগরিক কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালে বিভিন্ন দূর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবী তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন এ্যাড. একরামুল হক, শাহনেওয়াজ পান্না, সৈয়দ হোসেন আহম্মেদ বাদশা, মনিরুজ্জামান, আজাহারুল ইসলাম, আবু হেনা, মিজানুর রহমান, আশিক আহমেদ, তৌহিদা খাতুন কমলা, আব্দুস সালাম, বাবর আলী, আব্দুল মজিদ, নাহিদ সিকদারসহ অন্যরা। পরে আন্দোলনকারীরা প্রতিকার চেয়ে  স্থানীয় সাংসদ, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে স্মারকলিপি প্রদান করে। বক্তারা বলেন, হাসপাতালের সাবেক কমিটির শীর্ষ কর্মকর্তারাসহ চিহ্নিত একটি মহল চাঁপাইনবাবগঞ্জ চক্ষু হাসপাতলের আর্থিক অনিয়ম ও কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন অনিয়ম দূর্ণীতির সাথে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। হাসপাতাল কার্যক্রমে কোন শৃক্সখলা নেই। ওই মহলটি প্রতিষ্ঠানটিকে নিজেদের দখলে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠে পড়ে লেগেছেন। কিন্তু চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ এসব স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, দূর্ণীতি ও মানুষের দূর্ভোগ মেনে নেবে না। প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে হলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের সকল অব্যস্থাপনা দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। তদন্ত করে এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সেবা ধর্মী প্রতিষ্ঠানটি রক্ষায় এর সার্বিক শৃক্সখলা ফিরিয়ে আনতে হবে। এব্যাপারে অন্ধ কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটি ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরী হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য, চক্ষু হাসাপতালের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসক সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আহবায়ক করে নতুন একটি প্রশাসনিক আহবায়ক কমিটি করে দিয়েছেন এবং কমিটি প্রয়োজনীয় কার্যক্রমও শুরু করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *