Sharing is caring!

জনস্বার্থে কাজের পুরস্কার ॥ নাচোল ইউএনও-সার্ভেয়ারসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

♦ স্টাফ রিপোর্টার

জনস্বার্থে কাজ করতে গিয়ে পুরস্কার হিসেবে মামলা হয়েছে নাচোলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা, সার্ভেয়ারসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভালো কাজের জন্য মানুষকে দেয়া হয় ভালোবাসা বা আন্তরিকতার পুরস্কার। আর জনসাধারণের চলাচলের জন্য দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে সরকারী রাস্তা বৈধভাবে প্রশস্থ করতে গিয়ে পুরস্কার পেলেন মামলা। দূর্ণীতিবাজ ও ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না হওয়ায় এমন সাহস, বলছেন সচেতন মহল। জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোলে উপজেলার নাচোল ইউপির ৯নং ওয়ার্ডের গনইর গ্রামবাসীর পক্ষে ৫১জন স্বাক্ষরিত একটি আবেদন ও তদন্তের প্রেক্ষিতে এবছর জুলাই মাসের ২০ তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সাবিহা সুলতানার এর নির্দেশে নাচোল এসিল্যান্ড অফিসের সার্ভেয়ারসহ কয়েকজনের উপস্থিতিতে সরকারি রাস্তার উপরে থাকা (যাহা গনইর মোজার ১৮৭ দাগের রেকর্ডীয় শ্রেণি ডহর যার পরিমাণ ০.১৯ একর। যা ১ নং খতিয়ানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ডেপুটি কমিশনার রাজশাহী নামে রেকর্ড রয়েছে) কয়েকটি মাটির বাড়ির আংশিক ভেঙ্গে জনগণ ও যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা হয়। অভিযোগ লিপির মাধ্যমে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১৯ নভেম্বর গনইর গ্রামবাসীর পক্ষে আব্দুল খালেক, ইউসুফ আলী, ইয়াসিন আলী, মনিরুল ইসলামসহ ৫১জন স্বাক্ষরিত একটি আবেদনপত্র নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর দিলে তিনি বিয়য়টি তদন্ত করার জন্য ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকতা মো. রফিকুল আলম কে দায়িত্ব দেন। তদন্ত রিপোর্টের প্রেক্ষিতে গত জুলাই মাসের ২০ তারিখ জনস্বার্থে সরকারি রাস্তার মাঝে থাকা একই গ্রামের মৃত গোল মোহাম্মদের ছেলে মুকুল, মতিন ও মনজুর এর মাটির দেয়ালের আংশিক ভেঙ্গে ফেলা হয়। প্রেক্ষিতে ভূমি দখলকারী একটি মহল মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা সুলতানার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এবং ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা চালায়। এতেই তারা ক্ষান্ত হয়নি ওই চক্রটি, প্রত্যক্ষদর্শীদের সুত্র জানায়, নিজেরাই বাড়ির আরো কিছু অংশ ভেঙ্গে দিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সার্ভেয়র মো. মাহমুদুল হাসানসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা দায়ের করেছেন। এতে করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ উক্ত সরকারি কর্মচারীদের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে বলে ইউএনও জানান। মামলার বাদী মো. মুকুলের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এতদিন থেকে জমিটি আমি দখল করে আছি, হঠাৎ কেন ভাঙ্গা হল, এ জন্য আদালতের সরণাপন্ন হয়েছি। জানা গেছে, বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা সুলতানা নাচোল উপজেলা বাসীর জন্য আর্শিবাদ। তিনি যোগদানের পর থেকে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা, রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তিনি একজন নারী হয়েও দিনরাত সাধারণ মানুষের পাশে থেকে জনসেবা করে যাচ্ছেন। মহামারী করোনা কালেও তিনি অবিরাম সেবা দিয়ে গেছেন, ছুটে গেছেন সমস্যা সমাধানের জন্য। এমন একজন মানুষকে নিয়ে এধরণের মামলা দিয়ে ভাবমুর্তি নষ্ট করা, সত্যিই বিচিত্র ঘটনা। কথায় বলে, ‘চোরের মায়ের বড় গলা’। তাই ভূমি দখলকারীরা জমি দখল করে ভোগও করছে, আবার তারাই উল্টো সম্মানহানীকর কাজ করছে। এদের বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা দেয়া উচিৎ এখনই। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা সুলতানা জানান, গ্রামবাসীর আবেদন ও তদন্তের প্রেক্ষিতে জনস্বার্থে সরকারি রাস্তার ওপরে থাকা কৃষকদের ফসল ঘরে উঠাতে গরুর গাড়ি বা অন্যান্য যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে জনগণের জন্য আংশিক ১টা মাটির দেওয়াল ও একটি ঘরের আংশিক (পরিত্যক্ত) ভাঙ্গা হয়েছে। সরকার জনস্বার্থে অথবা সরকারের প্রয়োজনে সরকারি জায়গায় থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে পারে। এব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. জাকিউল ইসলাম বলেন, আমাদের নিয়মিত কার্যক্রম এবং জনস্বার্থে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *