Sharing is caring!

pouro-nirbachonসফিকুল ইসলাম, গোদাগাড়ী থেকে \ রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে পৌর এলাকায়। মেয়র ও কাউন্সিলারদের পদচালরনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে পৌর এলাকার প্রতিটি ওয়াডের্র গ্রাম-মল্লায়, হাট বাজার ও রাস্তা ঘাট। গোদাগাড়ী পৌরসভা নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের কাছে মুল প্রার্থী হিসাবে আ’লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের প্রচার প্রচারনা বেশী।  তবে গোদাগাড়ী পৌরসভার নির্বাচনকে ঘিরে আ”লীগের একক প্রার্থী মনিরুল ইসলাম বাবু হওয়ায় প্রথম থেকেই চাঙ্গা অবস্থানে ছিল আ’লীগ। উপজেলা আওয়ামীলীগ অফিস দিন-রাত গমগম করছে নেতাকর্মীদের ভিড়ে। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া রুলু বিএনপির প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলামকে গত শনিবারের বিএনপির কর্মি সভায় সর্মথন দেওয়ায় ও প্রত্যাহারের শেষ দিন গত রবিবার তার মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ায় নড়ে চড়ে উঠে বিএনপি। শুরু হয় বিএনপির অফিসেও নেতা কর্মীদের আনাগুনা চোখে পড়ার মত। গোদাগাড়ী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি থেকে আনোয়ারুল ইসলামকে প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দিলে পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি গোলাম কিবরিয়া রুলু মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দেন। এতে করে বিএনপির মধ্যে ফাটোল দেখা দিলেও গত শনিবার বিএপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক ডাক ও টেলিযোগায়োগ মন্ত্রী ব্যারিষ্টার আমিনুল হক তার নিজ নির্বাচনী এলাকায় এসে নেতা কর্মিদের নিয়ে কর্মি সভার মাধ্যমে বিএনপির দুই প্রার্থীর মধ্যে সমঝোতা করেন এবং বিদ্রোহী প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া রুলু বিএনপির প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলামকে সর্মথন দেন। এতে করে এক হয়ে যায় বিএনপির নেতা কর্মিরা। তবে বিএনপির গত শনিবারের কর্মি সভায় সকলস্তরের নেতা কর্মি উপস্থিত হলেও গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান ইসহাক উপস্থিত ছিলেন না। এদিকে ¯^তন্ত্র হিসাবে জামায়াত পৌরসভা নির্বাচনে জামায়াত নেতা ও গোদাগাড়ী পৌরসভার বর্তমান মেয়র আমিনুল ইসলামকে একক প্রার্থী করে তারাও মাঠে নির্বাচনী প্রচারনা জোরে শোরে চালিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় পাটির প্রার্থী হিসাবে গোলাপ হোসেন নির্বাচনে থাকলেও তার দলের নেতা কর্মিদের তেমন সক্রিয় দেখা যাচ্ছে না প্রচারনায়। যার ফলে, আ’লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের প্রাথীকে মূল প্রার্থী হিসাবে দেখছে সাধারন ভোটাররা। এখন এ ৩ দলের একক প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচনী প্রচারনায় গোদাগাড়ী পৌর এলাকায় এক নতুন রুপ নিয়েছে। তিন প্রার্থীর কর্মি ও সমর্থকরা এ নির্বাচনেকে নিজেদের অস্তিতের লড়াই হিসাবে নিয়ে নির্বাচনী মাঠে সাধারন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজ প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনায় পিছিয়ে নেই গোদাগাড়ী পৌর এলাকার সাধারন ভোটাররা। নানান ভাবে অংক কষে মিলাচ্ছে ভোটের হিসাব নিকাশ, কে হবে গোদাগাড়ীর পৌর পিতা? দলীয় প্রতিকে ভোট হওয়ায় দলের প্রভাব পড়ছে বেশী। নিজ নিজ দলের প্রার্থীর ভোট চাইতে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা থেকে শুরু করে তৃর্ণমুলের নেতা কর্মিরা দিনরাত এক করে ফেলছে। এছাড়াও কাউন্সিলার ও মহিলা কাউন্সিলাররাও কোন অংশে পিছিয়ে নেই প্রচার অভিযানে। দিন রাত তারা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে বিভিন্ন ভাবে ভোট প্রার্থনা করে ভোটারদের মন জয় করতে চাইছে। গোদাগাড়ী পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৬ হাজার ৯শ’ ২২ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৩ হাজার ৮শ’ ২০জন ও মহিলা ভোটার ১৩ হাজার ১০২ জন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে গোদাগাড়ী পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রভাবের পাশাপাশি ভাসমান ও মহিলা ভোটাররা যে প্রার্থীর পক্ষে বেশী ভোট দিবে সেই প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশী।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *