Sharing is caring!

জামায়াত প্রার্থীদের নিজেদের লোক

বলেই দাবি করছে বিএনপি

স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের সংগঠন নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়াতে ইসলামীর যেসব নেতারা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটে দাঁড়িয়েছেন, তাদের সবাইকে নিজেদের লোক দাবি করেছে বিএনপি। জামায়াতের মোট ২১ জন নেতাকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক দিলেও দলটির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে দেওয়া এক চিঠিতে বলা হয়েছে, ভোটে জামায়াতের কোনো প্রার্থী নেই।

আসন্ন নির্বাচনে বিএনপিকে নিয়ে গড়া ঐক্যফ্রন্টকে যেখানে মাত্র ১৯ টি আসন দিলেও নিবন্ধন হারানো জামায়াতের মোট ২১ জন নেতাকে এরই মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী করেছে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়।

এবারের নির্বাচনে জামায়াতের মোট ২৫ জন প্রার্থী হয়েছে। যার মধ্যে বাকি চারজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে। এরমধ্যে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে বিএনপি সমর্থন দিলেও বাকি তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীর সাথে বিএনপির সম্পর্কের টানাপোড়নে এখনো সমর্থন পায়নি।

আইনানুযায়ী কোনো দল নিবন্ধিত না হলেও সংগঠন হিসেবে সক্রিয় থাকতে পারে, কিন্তু নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না। তাই গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২–এর আওতায় রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর জামায়াতে ইসলামীকে নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছিল।

২০০৯ সালে জামায়াতের নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে অন্য কয়েকটি ইসলামপন্থী সংগঠনের ২৫ জন নেতার এক আবেদনের পর হাইকোর্টের জারি করা রুলের ওপর শুনানিতে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট।

এরপর ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এরপর আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির আশ্রয়ে গিয়ে নিবন্ধন বাতিল হওয়া জামায়াত নেতারা ধানের শীষে ভোট করা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন তরীকত ফেডারেশনের এক নেতা। আর হাইকোর্ট তিন কার্যদিসের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে। সোমবার শেষ হয়েছে এই সময়সীমা।

জামায়াতের সেই নেতাদেরই নিজেদের লোক দাবি করে শনিবার বিএনপির স্থায়ি কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান চিঠি নিয়ে যান নির্বাচন কমিশনে।

প্রমাণিত ২১ জন জামায়াতের নেতাকে ধানের শীষ দেয়া হলেও তা অস্বীকার করে ওইসকল জামায়াতের নেতাদের নিজেদের দলের লোক দাবি করে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে জামায়াতের কোনো প্রার্থী নাই। তারা শুধু ধানের শীষের প্রতীক নয়, তারা বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষে নির্বাচন করছেন তারা। বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ তাদের দেওয়া হয়েছে। জামায়াত তাদের মনোনীত করেনি, বিএনপি মনোনীত করেছে।’

 

বিএনপির প্রতীক পাওয়া ২১ প্রার্থী জামায়াতের প্রমাণিত নেতা

জামায়াত নেতাদের পদ-পদবী তাদের দলীয় ওয়েবসাইটে উল্লেখ আছে- এমন প্রশ্নে বিএনপি নেতা বলেন, ‘ওয়েবসাইটে পদপদবি থাকুক। আপনি যদি আমাদের কাছে মনোনয়ন চান, আমরা দিতে পারি। কোনো ওয়েবসাইটে আপনার নাম কীভাবে আছে সেটা পরের ব্যাপার। আমরা আইনের মাধ্যমে দিতে পারি কি না সেটা হলো বিষয়। জামায়াত কোনো নিবন্ধিত দল নয়।’

‘এটা যদি অবৈধ হত তাহলে নির্বাচন কমিশন আগেই বলত- তাদের প্রার্থীতা অবৈধ। তাদের যদি প্রতীক দেওয়া বেআইনি হতো। যখন প্রতীক বরাদ্দ করা হয় তখন নির্বাচন কমিশন কেন প্রতীক বরাদ্দ করল?’- প্রশ্ন রাখেন নজরুল।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *