Sharing is caring!

জাল নোট রোধে হাটে বসছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বুথ

চাঁদ দেখা সাক্ষেপে আগামী ১২ জুলাই পালিত হবে মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে রাজধানীর ২৩টি স্থানে বসতে শুরু করেছে পশুর হাটের কার্যক্রম। একেকটি হাটে প্রায় প্রতিদিনই লেনদেন হয় কোটি টাকারও বেশি। এই লেনদেনেই সবচেয়ে বেশি ভয় থাকে টাকা বিনিময়ের সময়। কারণ তখন জাল নোট লেনদেন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর এই শঙ্কা থেকে ক্রেতা বিক্রেতাকে শঙ্কামুক্ত রাখতে দেশের প্রতিটি হাটে জাল নোট শনাক্তকরণে একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোরবানির পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ স্থাপন করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এছাড়া দেশের অনুমোদিত কোরবানির পশুর হাটগুলোতে জাল টাকা বা জাল নোট চক্রের অপতৎপরতা রোধ করার জন্য ঢাকাসহ দেশের সব এলাকায় অবস্থিত তফসিলি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রতিটি পশুর হাটে (উপজেলা পযন্ত) জাল নোট ধরতে বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। ব্যাংক কর্মকর্তারা পশু ব্যবসায়ীদের নোট যাচাই-সংক্রান্ত সেবা দেবেন। কোরবানির হাট শুরুর দিন থেকে ঈদের আগের রাত পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে পশু ব্যবসায়ীদের বিনা খরচে নোট যাচাই-সংক্রান্ত এই সেবা দিতে হবে। ৬ অগাস্টের মধ্যে হাটের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নাম, পদবি, মোবাইল ফোন নম্বরসহ প্রতিটি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণকারী একজন উপযুক্ত কর্মকর্তার নাম, পদবি ও মোবাইল ফোন নম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জমা দিতে হবে। ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা হাটে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের কার্যক্রম মনিটর (পরিবীক্ষণ) করবেন। এছাড়া ঢাকার বাইরে যেসব জেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিস রয়েছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার অনুমোদিত পশুর হাটগুলোতে স্থানীয় বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে একই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ব্যাংকগুলোর আঞ্চলিক কার্যালয় বা প্রধান শাখাগুলোকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিস নেই এমন জেলাগুলোয় সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও থানা বা উপজেলার অনুমোদিত পশুর হাটে বিভিন্ন ব্যাংকে এ-সংক্রান্ত দায়িত্ব বণ্টনের জন্য সোনালী ব্যাংকের চেস্ট (কোষাগার) শাখাগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গবাদি পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ স্থাপনের জন্য সিটি করপোরেশন, জেলা মিউনিসিপ্যালিটি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। এছাড়া সার্বিক নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, র্যাব ও আনসারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে।

বুথে যাচাইয়ে কোনো জাল নোট ধরা পড়লে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নিতে প্রজ্ঞাপনে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকের নাম ও তার সঙ্গে ‘জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ’ উল্লেখপূর্বক ব্যানার ও নোটিশ প্রদর্শন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি সংবলিত ১০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংবলিত পোস্টারটি প্রদর্শন করতে হবে। আসল ব্যাংক নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংবলিত ভিডিও চিত্র ব্যাংকের শাখায় ঈদের আগে পাঁচ কর্মদিবসে গ্রাহকদের জন্য স্থাপিত টিভি মনিটরগুলোতে পুরো ব্যাংকিং সময়ে প্রদর্শন করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *