Sharing is caring!

নাচোল প্রতিনিধি \ জাল সনদে স্কুলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে কানপাড়া কাজলা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এক অভিভাবক সদস্য। অভিভাবক সদস্য নাচোল উপজেলার চৌপুকুরিয়া গ্রামের মৃতঃ আব্দুল গোফুরের ছেলে উমর আলী। তিনি গত ২৮ আগস্ট নাচোল সহকারী জজ আদালতে ৯ জনকে বিবাদী করে এ মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় বিবাদী করা হয়েছে, কানপাড়া কাজলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুল লতিফ, প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম খলিল, অভিভাবক সদস্য মুনসুর রহমান, বিশু, রাশেদ, ইউসুফ আলী, সেতারা বেগম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাচোল ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার।
মামলার অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার কানপাড়া কাজলা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শুন্য হলে ওই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গত ১৩ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে ‘প্রধান শিক্ষক’ নিয়োগের জন্য সরকারি বিধি মোতাবেক বিজ্ঞপ্তি দেন। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রকাশের পর উপজেলার চন্দ্রসখা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইব্রাহিম খলিল কানপাড়া কাজলা উচ্চ বিদ্যালয়ে “প্রধান শিক্ষক” পদে আাবেদন করেন। সেখানে তার কাগজপত্রের সাথে আমেরিকা বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় হতে ২০০৫ সালের পাস করা সাটিফিকেট দাখিল করেছেন। বিষয়টি জানতে পেরে বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক সদস্য ইসমাইল হোসেন আপত্তি তোলেন। তার আপত্তি উপেক্ষা করে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল লতিফ ইব্রাহিম খলিলকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন। জোর আপত্তির পরেও কিমিটি নিয়োগ প্রদান করলে অভিভাবক সদস্য ইসমাইল হোসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিজ্ঞ আদালতে ৯৮/২০১৭ নং অঃপ্রঃ মামলা দায়ের করেন। এর পর প্রতিকার চেয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করলে ইব্রাহিম খলিলের সাটিফিকেটটি জাল প্রমানিত হয় বলে বাদী অভিভাবক সদস্য ইসমাইল হোসেন জানান। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, আমেরিকা বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুুরী কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত নয় বলেও দাবি করেন। সেটি কালো তালিকাভূক্ত ইউনিভারসিটি বলেও মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন তিনি। এর পর ইব্রাহিম খলিল জালিয়াতির মাধ্যমে আরও একটি কালো তালিকাভূক্ত ‘দারুল এহসান’ ইউনিভারসিটি থেকে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেন। এই সনদপত্রটি সংগ্রহ করে তিনি বেতন চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দাখিলও করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার বেতন বিল চালু হয়নি বলে অভিযোগ কারী জানান।
নিজের বেতন বিল চালু না হলেও ওই প্রধান শিক্ষক গোপনে “একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক ও একজন সহকারী ক্যাটালগার কাম গ্রন্থাগারিক” পদে নিয়োগ দেয়ার জন্য এবং নিয়োগ বানিজ্য করার লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিক পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রদান করেন। জাল সনদে নিয়োগ প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিজের বিল বেতন না হতেই আরো ২জনের নিয়োগ প্রদানকে অবৈধ দাবি করে আদালতে ৯ জনকে বিবাদী করে মামলা করা হয়েছে। তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টি দপ্তরে অভিযোগ করেছেন বাদি উমর আলী। এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) দুলাল উদ্দিন খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে কানপাড়া কাজলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম খলিলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আমেরিকা বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় হতে ২০০৫ সালের পাস করা সাটিফিকেটটি সঠিক বলে দাবি করেছেন। তবে দারুল এহসান ইউনিভারসিটির কোন সনদ অর্জন করেননি বলে জানান।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *