Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ মহান সৃষ্টিকর্তা বলেছেন, আমার সৃষ্টিকে ভালোবাসো। জীবেও দয়া করো। আর এই জীবের প্রতি দয়া বা ভালোবাসা এবং স্থানীয় বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে গড়ে তুলেছেন জেলার শিল্পপতি ব্যবসায়ী মিনার অটো রাইস মিলের ¯^ত্তাধিকারী মোঃ তরিকুল ইসলাম টি. ইসলাম। তার খামারে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস, মুরগীসহ বিভিন্ন প্রজাতির গবাদী পশু। এছাড়াও গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন প্রজাতির মাছের খামারও। তার নিজ¯^ ১০ টি পুকুরে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালবাউসসহ বিভিন্ন দেশী জাতের মাছের চাষ হয়। ২০০৫ সাল থেকে গড়ে তোলা এসব খামারে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে প্রায় এলাকার মানুষের। এমন উদ্যোগ নেয়ায় বিভিন্নভাবে প্রশংশিতও হয়েছেন টি ইসলাম গ্রæপের চেয়ারম্যান। এসব খামারে রয়েছে প্রায় ৮০ টি উন্নত জাতের গাভীসহ প্রায় ২ শতাধিক গরু। ২৭৫ টি উন্নত জাতের ছাগল ও ৯০ টি গাড়ল রয়েছে। যার বর্তমান আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৫০ ল¶ টাকা। রয়েছে প্রায় ১ হাজার রাজহাঁস ও পাতিহাঁস। খামারে পালিত গাভী থেকে প্রতিদিন প্রায় ২’শ থেকে আড়াই’শ কেজি দুধ উৎপাদন হয়। জানা গেছে, নিজে ব্যবসায়ীকভাবে ¯^াবলম্বী হওয়ার পর সমাজ সেবা ও এলাকার মানুষের জন্য কিছু কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তিনি। ঝুকে পড়েন বিভিন্ন পশু ও মাছের খামার তৈরীর কাজে। জীবের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই গড়ে তুলেছেন খামারগুলো। নিতান্তই সখের বসে গড়ে তোলা সেই খামার হয়ে উঠেছে অনুকরনীয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অন্যতম বৃহৎ গরুর খামার গড়ে তুলেছেন টি ইসলাম গ্রæপের চেয়ারম্যান টি ইসলাম। চাঁপাইনাববগঞ্জ  পৌর এলাকার মীরপাড়ায় তাঁর মালিকানাধীন মিনার অটো রাইস মিল সংলগ্ন বিশাল এলাকাজুড়ে ২০০৫ সালে প্রথম গরুর খামার গড়ে তুলেন। এরপর নাচোল উপজেলার ল¶িপুর এলাকায় নির্মানাধীন টি. ইসলাম এগ্রো ফুড ইন্ডাষ্ট্রিজের পাশেই গড়ে তুলেছেন আরো একটি খামার। যেখানে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গরু, গাড়ল(ভেড়া), হাঁস। রয়েছে মাছ চাষের দর্শনীয় পুকুর। ইতিমধ্যেই টি ইসলামের খামারগুলো পরিদর্শন করেছেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন ও ব্যবসায়ীরা। খামারগুলো দেখে উৎসাহিত হয়েছেন অনেক যুবক ও ব্যবসায়ীরা।
মেসার্স টি ইসলাম এগ্রো ফিড এন্ড ডেইরী ফার্মের ¯^ত্তাধিকারী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শিল্পপতি তরিকুল ইসলাম প্রতিবেদককে জানান, জীবের প্রতি ভালোবাসা, দরিদ্র ও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, সমাজ সেবার লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস, মুরগীসহ বিভিন্ন প্রজাতির গবাদী পশু এবং বিভিন্ন প্রজাতির মাছের খামার গড়ে তুলেছি। খামারে রয়েছে প্রায় ৮০ টি উন্নত জাতের গাভীসহ প্রায় ২ শতাধিক গরু। ২৭৫ টি উন্নত জাতের ছাগল ও ৯০ টি গাড়ল রয়েছে। যার বর্তমান আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৫০ ল¶ টাকা। রয়েছে প্রায় ১ হাজার রাজহাঁস ও পাতিহাঁস। খামারে পালিত গাভী থেকে প্রতিদিন প্রায় ২’শ থেকে আড়াই’শ কেজি দুধ উৎপাদন হয়। তিনি বলেন, আগামীতে খামারে প্রাণীর সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে ও নতুন খামার গড়ে তোলা হবে। এসব খামার থেকে প্রতি বছর নিজের এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের চাহিদা মিটিয়ে বছরে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা আয়ও হয়। ব্যবসায়ীক কাজের ব্যস্ততার মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির জীবগুলো দেখাশোনা ও সেবা করে একটু হলেও আনন্দ পায়। কিছুটা সময় ও অর্থ ভালো কাজে লাগানোয় মানষিক শস্তিও পায়। তাই খামারগুলো আমার কাছে অত্যন্ত প্রিয় হয়ে উঠেছে। আগামীতে সাধারণ, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে থেকে সেবা করতে চায়।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ তরিকুল ইসলাম (টি. ইসলাম) এর গড়ে তোলা খামারগুলো বিষয়ে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আনন্দ কুমার অধিকারী বলেন, টি ইসলাম গ্রæপের যেসব খামার রয়েছে, নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। তরিকুল ইসলামের সকল খামারই আমি পরিদর্শন করেছি। তাঁর খামারের মধ্যে সবচেয়ে ভালো খামার গাঁড়লের (ভেড়া) খামার। তাঁর খামারগুলো খুব ভালোভাবেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে বেশকিছু বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও হয়েছে। এসব খামার থেকে পাওয়া দুধ ও মাংস জেলার আমিষের চাহিদা কিছুটা হলেও মেটাচ্ছে। তিনি বলেন, টি ইসলামের মত সমাজের প্রতিষ্ঠাবান ও  বিত্তবান বা যুবকরা প্রাণীর খামার গড়ো তুলতে এগিয়ে আসলে জেলার জন্য আরও ভালো হবে, আরও বেকারদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এসব খামারে উৎপাদিত আমিষ জেলার আমিষের চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্য জেলায় রপ্তানীর হলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মানুষ আর্থিকভাবেও লাভবান হবে। জেলার প্রাণী সম্পদ বিভাগের ভাবমুর্তি আরও বাড়বে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *