Sharing is caring!

মোহাঃ ইমরান আলী শিবগঞ্জ থেকে \ আগামীকাল একুশে ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাবেন সারাদেশের সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সরকারী দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও সর্ব সাধারণও একই সাথে ভাষা সৈনিক শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে প্রস্তুতি নিয়েছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, উপজেলার প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের জন্য রয়েছে মাত্র ১২টি শহীদ মিনার। তাও আবার দীর্ঘদিনের পুরানো আদলের। এছাড়া শিবগঞ্জের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ অনেকেই জানে না শহীদ দিবস উপলক্ষে কোথায় শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হয়। মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, শিবগঞ্জে ৫০টি মাদ্রাসা, ৮০টি উচ্চ বিদ্যালয়, ২১টি কলেজ ২২০টি, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৫২টি বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। আর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদ ও ১টি পৌরসভা রয়েছে। এছাড়াও আরো অনেক সেচ্ছাসেবী ও রাজনৈতিক সংগঠনও রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, মাত্র কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যগুলোতে অদ্যবদি কোন শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি উপজেলায়। এমনকি কোন প্রতিষ্ঠান শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগও নেয়নি প্রশাসন বা রাজনৈতিক সংগঠনগুলো । সরজমিনে জানা গেছে, শিবগঞ্জে ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে শ্যামপুর, মোবারকপুর ও ধাইনগর এ তিনটি ইউনিয়ন পরিষদে শহীদ মিনার রয়েছে। বাকী ১২টি ইউনিয়ন পরিষদে শহীদ মিনার নির্মাণে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি অধ্যবদি। ২১টি কলেজের মধ্যে ছত্রাজিতপুর, রাণীহাট্টি, কানসাট ও আদিনা কলেজ ছাড়া বাকী কলেজ গুলোতে কোন শহীদ মিনার নেই। এমনকি শিবগঞ্জ পৌরসভাতেও শহীদ মিনার নির্মাণ করেননি পৌর কর্তৃপক্ষ। শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি শহীদ মিনার ছিল, যা নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের জন্য ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে এবং দুই বছর থেকে কাপড় দিয়ে ঘিরে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে জাতীয় দিবসে পুস্পস্তবক অর্পন করা হয়। শুধু তাই নয়, শিবগঞ্জের রাজনৈতিক উৎপত্তিস্থল মনাকষাতে স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান ক্ষমতায় থাকলেও শহীদ মিনার নির্মাণের কোন উদ্যোগ নেয়নি ইউপি কর্তৃপক্ষ বরং ১৯৪৬ সালে দেশীয় দ্রব্য আটকের প্রতিবাদে ইপিআর  বাহিনীর গুলিতে নিহত এক ছাত্রের স্মৃতি স্তম্ভকে শহীদ মিনার হিসাবে ব্যবহার করে আসছে। তবে, এব্যাপারে জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও মনাকষা ইউপি চেয়ারম্যান মির্জা শাহাদাৎ হোসেন খুররম বলেন, ইউপি চত্বরে মসজিদ নির্মাণের কাজ শেষ করেই শহীদ নির্মাণের কাজ শুরু করবো। সা¤প্রতিক জেলা আওয়ামীলীগে যুগ্ম সাধরণ সম্পাদক ডাঃ সামিল উদ্দিন আহম্মেদ শিমুল এর কাছে ছাত্র ও যুব সমাজ এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষন করলে তিনি ক্ষোভের সাথে জানান, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা ও তার পরিবারকে হত্যার মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তন হওয়ায় স্থানীয় রাজনীতিতে এগিয়ে থাকতেই কেউ শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়নি। তবে, আমি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি অল্প সময়ের মাধ্যে প্রত্যন্ত অঞ্চলে শহীদ মিনার নির্মাণ করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষাসহ জাতীয় দিবসগুলো সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করবো। বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান মজনু বলেন, শিবগঞ্জ উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার না থাকার কারনে হাজার হাজার শিক্ষার্থী আজো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসগুলোতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারে না। যা আমাদের জন্য চরম দূর্ভাগ্যের। জেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি তোহিদুল আলম টিয়া বলেন, ৭৫ পরবর্তী রাজনীতি ও সংবিধানে ধর্মকে পুঁজি করে স্বাধীনতা বিরোধীরা সুকৌশলে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করতে তৎপর হয়ে উঠে। যার ফলশ্রুতিতে স্বাধীনতার পক্ষের তথাকথিত নেতারা স্থানীয় ভোটের রাজনীতিতে এগিয়ে থাকার কৌশল হিসাবেই এ পর্যন্ত শহীদ মিনার নির্মাণের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। যা খুবই দুঃখজনক। শিবগঞ্জ পৌর মেয়র কারীবুল হক রাজিন বলেন, খুব শীঘ্রই পৌর চত্বরে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে এবং প্রত্যন্তাঞ্চলে যেন শহীদ মিনার নির্মানের মাধ্যমে গণসচেতনতা সৃষ্টি করা হয় সে ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বরমান হোসেন বলেন, উপজেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার নির্মাণ করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করার নির্দেশ দেয়া হবে। তাছাড়া প্রতিটি শিক্ষা ও ইউনিয়ন পরিষদে স্থায়ীভাবে শহীদ মিনার নির্মানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *