Sharing is caring!

জয়পুরহাটে অনুমোদনহীন মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল

স্কুল অ্যান্ড কলেজে নিয়োগ বাণিজ্য

♦ শফিউল বারী রাসেল, জয়পুরহাট 

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই জয়পুরহাটের কালাইয়ে গড়ে তোলা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি সাইনবোর্ড টানিয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে শুরু করেছে নিয়োগ বাণিজ্য। তবে, প্রতিষ্ঠান প্রধানের দাবি নিয়ম মেনেই সবকিছু হচ্ছে। শিক্ষা বিভাগ বলছেন এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। জানা গেছে, জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার আন্দারী মোড়ে কৃষি জমির মাঝখানে এ বছরই নির্মাণ করা হয়েছে টিনের চালার তৈরী দুটি কক্ষ। সেখানে যাওয়ার মতো কোনো সড়ক না থাকলেও ঘর দুটিকে ২০১৭ সালে স্থাপিত মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ উল্লেখ করে সাইনবোর্ড ঝুলানো হয়েছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি ছাড়া কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টেকনিক্যাল শব্দটি ব্যবহার করার বিধান না থাকলেও কোন অনুমোদন না নিয়েই রাতারাতি গড়ে তোলা হয়েছে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। জনবল নিয়োগে প্রতিষ্ঠানটি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত উল্লেখ করে স্থানীয় পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করে ইতোমধ্যে অবৈধভাবে ৭১ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এদিকে প্রতিষ্ঠানটির সাইনবোর্ডে মুক্তিযোদ্ধাদের দ্বারা পরিচালিত বলে উল্লেখ থাকলেও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তেমন কোন তথ্য জানেন না স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাগণ। শিক্ষা বিভাগ বলছেন, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সম্পুর্ন নিয়ম বর্হিভূতভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি ছাড়া কিভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টেকনিক্যাল শব্দটি ব্যবহার করছেন এ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ আফওয়াসিফ বলেন, বিধি মেনেই তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কালাই উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের কমান্ডার রেজাউল ইসলাম বলেন, এই কার্যক্রমের সাথে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কতটুকু জড়িত সে সম্পর্কে জানা নেই। মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ যেনো বাণিজ্য না করতে পারে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন তিনি। এব্যাপারে জয়পুরহাটের ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কোন তথ্য জেলা শিক্ষা অফিসে সংরক্ষিত নেই। কোন প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক, প্রভাষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এটিআরসিএ কর্তৃক চাহিদা প্রদান পূর্বক এটিআরসিএ উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্টানে সহকারী শিক্ষক বা প্রভাষক পদে নিয়োগ প্রদান করবেন। কোন ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নং বডি কোন নিয়োগ প্রদান করার ক্ষমতা রাখেন না। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: মুনিরুজ্জামান বলেন, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করতে হলে কারিগরী শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি ও কোড নং প্রয়োজন। অনুমোদন ছাড়া এভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবেনা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *