Sharing is caring!

টাঙ্গাইল-৮ আসনে কুড়ি সিদ্দিকীকে

প্রতিহত করার ঘোষণা দিলেন বিএনপি

নেতা আজম খান

নিউজ ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঋণখেলাপি ও দুর্নীতির অভিযোগে টাঙ্গাইল-৮ আসনে (সখীপুর-বাসাইল) মনোনয়ন বাতিল হয়ে যাওয়া ক্ষমতা ধরে রাখতে নিজ কন্যা কুড়ি সিদ্দিকীর কাছে মনোনয়ন হস্তান্তর করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী। এদিকে এমন গুঞ্জনে টাঙ্গাইল-৮ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে নির্বাচনে কুড়ি সিদ্দিকীকে কোন ধরনের সহযোগিতা না করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এবং কুড়ি সিদ্দিকীকে প্রতিহত করতে বিএনপি কর্মীদেরও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি সভাপতি সামছুল আলম তোফা’র বরাতে গুঞ্জনের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এদিকে কাদের সিদ্দিকী ও বিএনপি নেতা আহমেদ আজম খানের দ্বন্দ্বে স্থানীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা-কর্মীদের মধ্যেও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।

ক্ষমতা ধরে রাখতে নিজ কন্যাকে মনোনয়ন হস্তান্তর করে কাদের সিদ্দিকী ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বেইমানি করছেন দাবি করে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি সামছুল আলম তোফা বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাদের সিদ্দিকীর টাঙ্গাইল-৪ ও টাঙ্গাইল-৮ এ দুটি আসনে মনোনয়ন বাতিল হওয়া নিয়ে সন্দেহ ছিলো ঐক্যফ্রন্টের। কারণ তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিলো। আমাদের সন্দেহই সত্য হলো।

কাদের সিদ্দিকী ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেনকে কথা দিয়েছিলেন যে, দুটি আসনে তিনি যদি অযোগ্য ঘোষিত হন তবে একটি আসন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খানকে ছেড়ে দেবেন। অথচ বাস্তবতা হলো- তিনি ১ কোটি টাকার বিনিময়ে আহমেদ আজম খানের কাছে টাঙ্গাইল-৮ আসনটি বিক্রি করতে চেয়েছেন। তিনি ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বেইমানি করছেন। শুনেছি ক্ষমতা ধরে রাখতে নিজ কন্যা কুড়ি সিদ্দিকীকে মনোনয়ন দিয়েছেন বলে গুঞ্জন শুনছি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির সঙ্গে বেইমানি করেছেন। আমরা কুড়ি সিদ্দিকীকে কোন রকম সহায়তা করবো না।

একই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান বলেন, কাদের সিদ্দিকী সরাসরি ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির সঙ্গে বেইমানি করেছেন। তিনি ওয়াদা করেছিলেন যে, মনোনয়নে ঝামেলা হলে তিনি অন্তত একটি আসন আমাকে ছেড়ে দেবেন। এখন তিনি রং পাল্টাতে শুরু করেছেন। একটি আসনের জন্য তিনি আমার কাছে ১ কোটি টাকা ঘুষ চেয়েছেন। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি টাকা দিয়ে মনোনয়ন কিনে নির্বাচন করার পক্ষে নয়। এছাড়া টাঙ্গাইল-৮ আসনের ঐক্যফ্রন্ট সমর্থকরা এই আসনে আমাকে চাচ্ছেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে কাদের সিদ্দিকী নিজ মেয়েকে মনোনয়ন দিয়েছেন। সত্যিই যদি এরকম হয় তবে আমরা তাকে প্রতিহত করব। কারণ তারা বাপ-মেয়ে দু’জনই বেইমান। আমার ধারণা আসন্ন নির্বাচনে কুড়ি সিদ্দিকীকে ঐক্যফ্রন্টের কোন নেতা-কর্মী ভোট দেবেন না। এটাই হবে কাদের সিদ্দিকী ও কুড়ি সিদ্দিকীর জন্য উপযুক্ত শাস্তি।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *