Sharing is caring!

শিবগঞ্জ থেকে রিপন আলি রকি \ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সড়কপথে দিনদিন বেড়ে উঠেছে ডাকাতদের উপদ্রব। যেনো তাদেরই দখলে শিবগঞ্জের মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলো। সন্ধ্যা নামলেই এই সব সড়কগুলো যেনো ভূঁতুড়ে কান্ডে পরিণত হয়। ফলে সাধারণ পথাচারীরা স্বাধীনভাবে বাড়ি ফিরতে পারে না। পথের মাঝেই স্বর্বত্ব হারিয়ে আহত অবস্থায় শূণ্য হাতে বাড়ি ফিরে। ডাকাতদের কারণে আতঙ্কের মধ্যে রাস্তায় চলাচল করতে হয় পথচারীদের। জানা গেছে, পুলিশের টহল দলের থাকা সত্যেও একের পর এক ছিনতাই করছে ডাকাতরা। যে সব সড়কে ডাকাতির ঘটনা ঘটছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়কের খড়কপুর গ্রাম পেরিয়ে ঈদগাহর সামনে, শাহবাজপুর ইউনিয়নের সোনামসজিদ ডিগ্রি কলেজ ও মুসলিমপুর বাজারের মধ্যবর্র্তী টাকসাল দিঘীর সামনে ও মুসলিমপুর বাজার হতে কয়লাবাড়ি ট্রাক টার্মিনালের মধ্যে অবস্থিত ঝানডোলা টোলঘর এলাকায়। সন্ধ্যা হতে না হতেই ডাকাতরা বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পথচারীদের মোটরসাইকেল, চার্জার ভ্যান, বাইসাইকেল, টাকা পয়সাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছিনতাই সাধারণ পথচারীদের। ফলে নানান সমস্যার সম্মুখীন ও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসী ও পথচারীদের। ডাকাতি হাত রক্ষা পেতে গত ২৯ অক্টোবর শিবগঞ্জ থানায় শাহবাজপুর ইউনিয়নের ধোবড়া বাজার এলাকাবাসীর ১৬জন ¯^াক্ষরিত অফিসার ইনচার্জ বরাবর একটি দরখাস্ত করেন। শুধু মহাসড়ক নয়, ডাকাতরা বিভিন্নভাবে গ্রাম-গঞ্জেও ঢুকে পড়ছে। এছাড়া কানসাট-শ্যামপুর সড়কের নারীকল্যাণ মোড়, শ্যামপুর বিনোদপুর সড়কের গোপলনগর-মাস্তান বাজারের মধ্যস্থল এলাকা চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এই্ এলাকায় সন্ধ্যার পর কোন রিক্সা বা ভ্যান চালক যাত্রী নিয়ে যেতে চাইনা। এব্যাপারে স্থানীয়রা বলেন, যুগের পর যুগ গোপালনগর থেকে মাস্তান বাজার ১ কিঃমি রাস্তাটিতে ডাকাতি হয়ে আসছে। কয়েকদিন আগেও স্থানীয় তৌহিদ নামের এক ব্যক্তির মটরসাইকেল কেড়ে নিয়ে তার চোখমুখ-হাত-পা আম গাছে বেঁধে আটকে রেখে চলে যায়। এছাড়াও প্রতি সপ্তাহে সোমবার খাসেরহাট বাজারে গরু বেচা-কেনা করতে আসা ব্যবসায়ীদের গুরুসহ টাকা পয়সা ছিনতাই হয়ে থাকে। অন্যদিকে গত সপ্তাহে শিবগঞ্জের পারকালপুর বেলি ব্রীজ এলাকায় মোটরসাইকেল, মোবাইল ও টাকা ছিনতাই করার সময় ভুক্তভোগীর আত্মচিৎকারে এলাকাবাসীর সহায়তায় ২জন ডাকাতকে আটক করে শিবগঞ্জ থানায় সোপর্দ করে। শিবগঞ্জ-মনাকষা সড়কটির বাররোশিয়া হতে দাদনচক হল মোড় পর্যন্ত ১ কিঃমিঃ রাস্তা ঝুঁকিপূর্ণ বলে দাবি করছে স্থানীয়রা। স্থানীয় ব্যক্তি নাইম ও শামিম জানান, আমাদের জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই শুনে আসছি এই রাস্তাটিতে মাঝে মধ্যে ডাকাতি হয়। শামিম বলেন, আমি নিজেই ডাকাতের কবলে পড়েছিলাম। তবে কোনভাবে পালিয়ে আসতে সক্ষম হই এবং প্রাণে বেঁচে যায়। এদিকে শিবগঞ্জ পৌর এলাকার ইসরাইল মোড় থেকে পূর্বে নাককাট্টীতলা ও মর্দানা ১০কিঃমিঃ ফাঁকা রাস্তাটি ডাকাত ছিনতাইকারীদের দখলে। এছাড়া মর্দানা রাস্তাটি চলাচল করা খুব বিপদজনক বলে মনে করেন এলাকাবাসী। সন্ধ্যার পর কেউ এই রাস্তায় চলাচল করে না। কারন ইতিপূর্বে ছিনতাই ও খুন সহ বিভিন্ন ধরণের ভয়ানয়ক ঘটনা ঘটেছে রাস্তাটিতে। পিঠালীতলা এলাকার পলাশ উদ্দীন জানান, চলতি মাসে ১৫ তারিখে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আমি শিবগঞ্জ আমবাজার এলাকা দিয়ে বাসার পথে যাচ্ছিলাম এসময় কয়েকজন যুবক মুখে গামছা বাঁধা অবস্থায় একজনের হাতে ১টি পিস্তুল, অন্যদের হাতে হাসুয়া, রামদা ও চাকু উঁচিয়ে আমাকে দাঁড়াতে বলে। তবে আমি ভয়ে মটরসাইকেলটি হালকা থামাতে তারা আমাকে দেখে রাস্তা থেকে আম বাগানের দিকে নেমে যায়। কিন্তু আমি বুঝলাম না ব্যাপারটা কি। হয়তো বা তাদের মধ্যে আমার কেউ পরিচিত ছিল বলে তিনি মনে করেন। এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিবুল ইসলাম হাবিব দৈনিক চাঁপাই দর্পণকে জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় শিবগঞ্জের প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আমাদের আইনশৃক্সখলা বাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এছাড়াও প্রতিদিন বিকেলের পর থেকে পুলিশের পাঁচটি টহল দল ও দুটি রেড দলসহ মোট ৭টি দল বিভিন্ন রুটে কাজ করছে। এব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম বিপিএম দৈনিক চাঁপাই দর্পণকে জানান, শিবগঞ্জের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে আমাদের ৫টি টহল দল কাজ করছে। এছাড়াও স্থানীয় বাজার কমিটির মাধ্যমে পাহাড়াদ্বার রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। তবে, যে এলাকাগুলো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ সে এলাকাগুলোতে প্রশাসনিক নজরদারী আরও বাড়িয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *