Sharing is caring!

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্প

তজুমদ্দিনে ২৪’শ টাকা বেতনের চাকরি

নিতে ২৫’শ টাকা ঘুষ!

♦ তজুমদ্দিন (ভোলা) সংবাদদাতা, শাকিব 

ভোলার তজুমদ্দিনে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্পের উপজেলা পর্যায়ে ৩’শ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ৬’শত শিক্ষকের কাছ থেকে ঘুষ বানিজ্য করছেন স্থানীয়ভাবে প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনের কর্মকর্তারা। ৬ মাসের প্রকল্পের জন্য প্রতি শিক্ষককে মাসে দুই হাজার ৪শত টাকা বেতনে চাকরি দিতে জনপ্রতি ঘুষ নেয়া হয় দুই হাজার ৫শত টাকা। যারা ঘুষের টাকা পরিশোধ করেছেন তাদের নিয়ে শিক্ষক তালিকা চুড়ান্ত হলেও ৩শত কেন্দ্রের অস্তিত্ব মিলেনি। এসব বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন চাচড়া দাখিল মাদ্রাসা সুপার মাওঃ আঃ মতিন। অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অধিনে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মৌলিক স্বাক্ষতা প্রকল্প-৬৪ জেলা কার্যক্রম তজুমদ্দিনে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে চালু হয়। ভোলা জেলায় ৬ মাস মেয়াদী প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ভোলা সেবা সংঘ নামের একটি এনজিও সংগঠন। তারা সুপারভাইজারসহ ১৫ জন কর্মকর্তা নিয়োগের মাধ্যমে ২০২০ সালে তজুমদ্দিনে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সংগঠনটি তজুমদ্দিনে ৩শত কেন্দ্রে ১৫জন কর্মকর্তা ও মাসে ২৪০০ টাকা বেতনে ৬শত শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করেন। সংশ্লিস্ট কর্মকর্তাগণ শিক্ষক নিয়োগের জন্য জনপ্রতি আড়াই হাজার টাকা করে আদায় করেন। যারা টাকা প্রদানে ব্যর্থ হয়েছেন নিয়োগ তালিকায় তাদের নাম বাদ পড়ে। চাচড়া ইউনিয়নের মোস্তাক আহমেদ, শম্ভুপুর ইউনিয়নের মউিদ্দিন ভুট্টো, সোনাপুরের মোঃ সোহেল, চাদপুর ইউনিয়নের মোঃ রকিব, ঘোষেরহাটের মোঃ রুবেল সহ আরো অনেকে জানান, দাবীকৃত টাকা পরিশোধ না করায় চাকরির তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে। ভোলা সেবা সংঘের পরিচালক মোঃ রতন চেয়ারম্যান প্রকল্পের শুরুতে কিছুটা বদনামের কথা স্বীকার করে বলেন, সুপারভাইজারসহ কয়েকজনকে অপসারণ করা হবে। আমি নিজেই তদারকী করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করার চেস্টা করবো। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা ব্যুরোর জেলা সহকারী পরিচালক মোঃ জানে আলম জানান, ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের স্বাক্ষরতার উদ্দেশ্যে এই প্রকল্প। নিয়োগের সময় আমি ছিলাম না। অবৈধ লেনদেনের ব্যাপারে জানা নেই। তিনি সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগের কথা বলে ফোন কেটে দেন। স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন প্রকল্পের অনিয়মে বিষয়ে মাওঃ আঃ মতিনের অভিযোগের জবাবে আমার এমপি ডট কমে ভিডিও বার্তায় বলেন, আমি এব্যাপারে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি, তিনি আশ্বাস দিয়েছেন অনিয়মে জড়িত সংশ্লিস্টদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *