Sharing is caring!

তবে কি অঘনিষ্ঠতাই তার অযোগ্যতা!

চাঁদপুর-১ আসনের সাবেক সাংসদ এহসানুল হক মিলন। দীর্ঘ পাঁচ বছর বিদেশে পলাতক জীবনযাপন করেছেন। তবে নিজ বলয়ের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রেখেছেন ঠিকই।
সম্প্রতি ফিরেছেন দেশে। আশা ছিল, বিএনপির মনোনয়ন বাগিয়ে নেবেন। তবে মনোনয়নের বদলে জুটেছে কারাগার দর্শনের ভাগ্য।
কারাগারে থাকা মনোনয়নবঞ্চিত মিলনের কর্মীরা তাণ্ডব চালিয়েছেন বিএনপির গুলশান অফিসেও। তাদের হাত থেকে রেহাই পাননি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুলও। কর্মীদের মারমুখী আচরণে ভীত মহাসচিব অনেকটা পালিয়ে রক্ষা পান। তবে কর্মীদের ভাংচুর থেকে রক্ষা পায়নি অফিসের গেইট জানালা। আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি মারমুখী ছিল মিলনের সমর্থকেরা। এ ঘটনায় দেশব্যাপী আবারও আলোচনায় চলে আসেন মিলন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চাঁদপুর বিএনপির অধিপতি হিসেবে পরিচিত মিলনের পরিবর্তে মনোনয়ন পেয়ে যান মালয়েশিয়া প্রবাসী নেতা মোশারফ হোসেন।

কারাগারে যাওয়ার দুঃখ, নাকি মনোনয়ন না পাবার যন্ত্রণা, কোনটা বেশি বড় মিলনের কাছে? সে প্রশ্নের উত্তর আপাতত পাওয়া না গেলেও মোশারফের মনোনয়ন লাভের রহস্য উন্মোচিত হচ্ছে। আর তাতে চোখ কপালে ওঠেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের।

মোশারফ হোসেন-শ্রমিক থেকে প্রেমিকঃ
প্রায় ত্রিশ বছর আগে চাঁদপুর থেকে শ্রমিক হিসেবে মালয়েশিয়া পাড়ি দিয়েছিলেন মোশারফ হোসেন। ২০০৮ সালে দুর্নীতির দায় নিয়ে আরাফাত রহমান কোকো মালয়েশিয়া পালিয়ে গেলে তার সন্তানদের ফুটফরমায়েশ খাটার মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ হন মোশারফ। কোকোর দুই মেয়ে জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমানকে স্কুলে আনা নেয়ার কাজ করা ছাড়াও কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমানের কেনাকাটায় সহযোগী হতেন তিনি। ক্রমেই শর্মিলা ও মোশারফের সম্পর্ক অনৈতিক সম্পর্কে পরিণত হয় বলে গুঞ্জন রয়েছে মালয়েশিয়ায়।
এ সংবাদ চলে যায় খালেদা-তারেকের কাছেও। তবে তারেকের হুমকি-গালিগালাজও শর্মিলাকে মোশারফের প্রতি নিরাসক্ত করতে পারেনি।
ফলে মাদকাসক্ত কোকোর সাথে শর্মিলার সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে। অন্যদিকে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে সুদর্শন মোশারফের সাথেও। কোকোর অনুপস্থিতিতে প্রায়ই তার বাসায় উপস্থিত হতেন মোশারফ।
কোকোর মালিকানাধীন একটি মার্কেটসহ যাবতীয় আর্থিক নিয়ন্ত্রণ চলে যায় শর্মিলা ও মোশারফের কাছে। প্রথমবারের মত কোনো প্রবাসীকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য মনোনীত করে গঠনতন্ত্রও ভঙ্গ করে বিএনপি।
ব্ল্যাকমেইল নাকি আপোষ?
মালয়েশিয়া বিএনপির একাংশের মতে শর্মিলা ও মোশারফের অনৈতিক সম্পর্কের অসংখ্য ভিডিওচিত্র ধারণ করে রাখা হয়েছে। এসব ভিডিওচিত্র মালয়েশিয়ার অনেক কর্মীর মোবাইলের মেমোরি কার্ডের বড় অংশ দখলে রেখেছে বলে জানা যায়।

তাদের মতে শর্মিলা মালয়েশিয়া থাকতে না চাইলেও মোশারফ ব্ল্যাকমেইল করে তাকে থাকতে বাধ্য করছে। এই ব্ল্যাকমেইলের কারণেই মোশারফকে মনোনয়ন দিতে বাধ্য হয়েছে তারেক রহমান। তবে আরেকটি সূত্রের মতে, শর্মিলার সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করবে এই অঙ্গীকারেই মোশারফকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে।

গতকাল মোশারফের নাম চূড়ান্ত ঘোষণার পর থেকে সকল মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বার বার উঠে আসছে শর্মীলার নাম। যাকে কেউ চেনে না, যার সাথে এলাকার কোনো সম্পর্ক নেই, যার দেশে রাজনীতি করার কোনো অভিজ্ঞতা নেই, তেমন অর্ধশিক্ষিত একজনকে কিভাবে মনোনয়ন দেয়া হল তা যেন বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে কল্পনার অতীত। সকলেই প্রশ্ন তুলছে দুর্নীতি, অসদাচরণ, বর্বরতা, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ সকল নেতিবাচক গুণাবলী থাকার সাথে যদি চারিত্রিক দৃঢ়তা ও নৈতিকতা না থাকে তাহলে তাদের নেতৃত্ব দেশকে কি দিতে পারবে? আরও কতজন কতভাবে ব্ল্যাকমেইল করে কী আদায় করবে তার নিশ্চয়তা কি কেউ দিতে পারবে? এদের কাছে কি দেশ নিরাপদ?

অন্যদিকে, মিলনের ঘনিষ্ঠরা আক্ষেপ করে বলছেন, ‘তবে কি শর্মিলার সাথে ঘনিষ্ঠতা না থাকায় মিলনের জন্য কাল হলো! মালয়েশিয়ায় থেকেও শর্মিলার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে না পারার আক্ষেপে হয়তো পুড়ছেন মিলনও। তবে মনোনয়নলাভে ‘ঘনিষ্ঠতার’ যে মাপকাঠি নির্ধারিত হলো, সে আগুনে বিএনপির পুড়তে বেশিদিন নেই, বলছেন বিশ্লেষকেরা।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *