Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ ভারতে গরু আনতে গিয়ে দালালের খপ্পরে পড়ে আটক হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দূর্লভপুর-মনাকষা ইউনিয়নের ২০ রাখাল। আর এসব রাখাল আটকের পর ২০ দিন পার হলেও বাড়ি না ফিরে না আসায় দুশ্চিতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে রাখালদের পরিবারগুলো। অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করার পর আটককৃত রাখালরা হচ্ছে, দুর্লভপুর ইউনিয়নের মনোহর গ্রামের এনামুলের ছেলে সোনু (২৫), ইদুলের ছেলে লিটন (১৯), মোখলেশের ছেলে ডালিম (২০), তোবুর ছেলে বাবু (২০), মোশারফের ছেলে শাকিব (২০), সফিকের ছেলে বাক্কার (২০), শুকুদ্দির ছেলে উজির (২০), ভিক্ষুর ছেলে মানিক (২৩), কুবলের ছেলে মেজের (২০), হবুর ছেলে অসিম (২০), জগনাথপুর গ্রামের কাইউমের ছেলে রাসেল (২০) সহ মনাকষা ইউনিয়নের গোপালপুর, তারাপুর ও সাহাপাড়া ও ঠুঠাপাড়া গ্রামের আরো প্রায় অজ্ঞাত ১০জন। জানা গেছে, সাহাপাড়া নুরেশ মোড় গ্রামের আলহাজ্ব আয়েশ উদ্দিনের ছেলে ও অবৈধভাবে ভারতে গরুর নিয়ে আসার জন্য রাখাল পাঠানোর দালাল জোবু (৫৫) তার ভাই রবিউল ইসলাম রবুর মাধ্যমে ভারত থেকে গরু আনার জন্য উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের মাসুদপুর ও শিংনগর সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাই পথে ভারতে ওই ২০ রাখালকে গত ৩১ আগষ্ট রাতে ভারতে পাঠায়। রাখালের আত্মীয়রা জানান, রাখালরা ভারতে পৌঁছানো মাত্র জোবু ও রবিউল দালালের নিকট টাকা পাওনার জের ধরে ভারতের কালিয়াচক গ্রামের লালচান তাদেরকে আটকে রেখে বিভিন্নভাবে নির্যাতন চালায়। তারা আরো বলেন, আমরা রবু ও জোবুর সাথে যোগাযোগ করলে তারা বিভিন্ন ভাবে টালবাহানা করে। তাদের কথা শুনে আমরা দুশ্চিতায় রয়েছি। চরম আতঙ্কেও রয়েছি আমরা। অন্যের পাওনা টাকার জন্য এলাকার রাখালরা বিপদে পড়েছে। যে কোন সময় অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটতে পারে বলে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন রাখালদের পরিবারগুলো। এ ব্যাপারে দালাল রবুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার ভাতিজা জোবুর ছেলে বাবলু গরুর ব্যবসা করে। তার মাধ্যমে তাদেরকে পাসপোর্ট ছাড়াই চোরাই পথে ভারতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, ভারতের লালচান সাহাপাড়া গ্রামের হাবিল মেম্বারের কাছে ভারতীয় ২২ লাখ রুপী পাওনা থাকায় এবং ওই টাকা আদায়ের জন্য লালচান এই ২০জন রাখালকে আটকে রেখেছে। এদিকে হাবিল মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন লালচান, আমার কাছে কোন টাকা পাবে না বরং আমি তাঁর কাছে ৯ লাখ ভারতীয় রূপী পাবো। তিনি আরো জানান, রবু ও জোবু দীর্ঘদিন যাবত পাসপোর্ট ছাড়াই ভারতে গরুর রাখাল পাঠায়। বিনিময়ে রাখালদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে। তারা দুইভাই এভাবে কোটিকোটি টাকার মালিক হয়েছে। রাজশাহী শহর ও নিজ গ্রামে রাজকীয় বাড়ি নির্মাণ করেছে। শুধু তাই নয়, শতাধিক বিঘা জমিও কিনেছে। অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে, রবু ও জোবু দালালের উদ্যোগে সাহাপাড়া বাজারে গত শনিবার রাতে অবৈধ ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেটের সদস্যদের নিয়ে শালিস হয়েছে। শালিসের সিন্ধান্ত অনুযায়ী রাখালদের পরিবার প্রতি ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা, হাবিব মেম্বারের কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা ও রবু, জোবু ও তার ভাতিজা বাবলু তিন জন মিলে ৭ লাখ জমা দিবে। এ টাকা দিয়ে রাখালদেরকে ছাড়িয়ে আনা হবে। তবে, হাবিব মেম্বার এ টাকা দিকে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলে শালিসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক ব্যক্তি জানান। এব্যাপারে শিংনগর ও মাসুদপুর বিওপির সাথে যোগাযেগের চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোন রিসিভ না করায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে মনোহরপুর বিওপির কমান্ডার জানান, দেশের বাইরে পাসপোর্ট ছাড়া কোন লোক পাঠানো সম্পূর্ণ অবৈধ। শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, যার মাধ্যমে হোক না কেন পাসপোর্ট ছাড়া যে কোন স্থান দিয়ে স্বদেশ ত্যাগ করা সম্পূর্ণ অবৈধ। এব্যাপারে পাসপোর্ট আইনে মামলা করা যেতে পারে। উল্লেখ্য যে, শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ এভাবে কয়েকটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে পাঠানো হয় বিভিন্ন বয়সী রাখালদের। আর এই রাখালদের মাধ্যমে নিয়ে আসা গরু এবং কমিশনের অর্থে লাভবান হচ্ছেন দালাল ও গরু ব্যবসায়ীরা। আর এই অর্থেই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন গরু ব্যবসায়ী ও দালালরা।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *