Sharing is caring!

দৃশ্যমান মেট্রোরেল, নান্দনিক ও নাগরিক

বান্ধব শহরের দ্বারপ্রান্তে ঢাকা

নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর যানজট নিরসনে বর্তমান সরকারের ফাস্ট-ট্র্যাক প্রকল্পের অন্যতম একটি মেট্রোরেল- এর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এরইমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে মেট্রোরেল কার্যক্রমের বৃহদাংশ। ধারণা করা হচ্ছে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল ব্যবস্থা পুরোপুরি শুরু হয়ে যাবে।

মেট্রোরেল প্রকল্পের সংশ্লিষ্টদের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় এর কাজ আগেই শেষ করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে, পুরো এলাকা দু’পাশ থেকে কংক্রিটের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। ভেতরে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কর্মীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাজধানী জুড়ে মেট্রোরেল চালু করার নিমিত্তে পুরোদমে ২৪ ঘণ্টা কাজ করছেন নির্মাণ শ্রমিকরা। এরইমধ্যে রেলকোচ ও ডিপোর সরঞ্জাম কেনার চুক্তি হয়েছে।

প্রকল্পটি আটটি প্যাকেজে বিভক্ত। সে অনুযায়ী, এলাকাভিত্তিক কাজের অগ্রগতি একেক রকম। উত্তরা তৃতীয় প্রকল্প দিয়াবাড়ি এলাকায়, ৫৯ একর জায়গায় ভূমি উন্নয়ন করে, মেট্রোরেলের ডিপো নির্মাণে শতভাগ প্রস্তত করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের ৯ মাস আগেই শেষ হয়েছে সেই কাজ। প্রশাসনিক ভবন, ওয়ার্কশপ, ট্রেন শেডসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের কাজ এরমধ্যে শুরু হয়েছে। এখন, দ্বিতীয় প্যাকেজের আওতায় চলছে চেক বোরিং ও টেস্ট পাইলের কাজ।

তিন ও চার নম্বর প্যাকেজ, দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত। এই অংশে বোরিং করে পাইলিংয়ের কাজ চলছে। মাটি থেকে ১০ মিটার উঁচুতে খুঁটির ওপর স্পষ্ট হয়ে উঠছে ভায়াডাক্ট বা স্প্যান। প্যাকেজ ৫ ও ৬- এর আওতায়, আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ভায়াডাক্ট নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে কারওয়ান বাজার থেকে বাংলামটর অংশে কাজ চলমান রয়েছে।

মেট্রোরেল চালু হলে রাজধানীর যানজট দ্রুত নিরসন হবে বলে মন্তব্য করেছেন নগর-পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, যানজট ও নাগরিক ভোগান্তি দূর করতে সরকারের মেট্রোরেল প্রকল্পটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পৃথিবীর অন্যান্য বড় ও জনবহুল শহরগুলোতে মেট্রোরেলের সুবিধা রয়েছে। মেট্রোরেলের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হলে ভোগান্তি কমে যাবে অর্ধেক অংশে। রাজধানীর একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে অল্প সময়ে পৌঁছে যাবেন যাত্রীরা। এছাড়া মেট্রোরেল রাজধানীর সৌন্দর্য বর্ধনেও ভূমিকা পালন করবে। সরকারের সুপরিকল্পনার অংশ হিসেবে মেট্রোরেলের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক। মেট্রোরেল একদিকে যেমন নাগরিকদের জনজীবনে আনবে স্বস্তি, অন্যদিকে সরকারের নাগরিক বান্ধব রাজধানী গড়ে তোলার ওয়াদাও পূরণ হবে। জনবান্ধব ও উন্নয়নমুখী সরকারের উপযুক্ত পরিকল্পনায় এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। মেট্রোরেল সেই উন্নয়নের বার্তা।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *