Sharing is caring!

গোমস্তাপুর প্রতিনিধি \ চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর দেবোত্তর আখড়ার সেবাইত শ্রী ক্ষিতিশ চন্দ্র ভট্রাচার্যের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ গোমস্তাপুর উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার বিকেলে গোমস্তাপুর উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ডলার কুমার সাহা। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সহ-সভাপতি শ্রী গৌতম কুমার রায়, যুগ্ম সম্পাদক শ্রী বলয় চন্দ্র শীল, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শ্রী নিরঞ্জন প্রসাদ, সদস্য শ্রী নির্মল বর্মন, হিন্দু-বৌদ্ধ ও খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শ্রী রঞ্জনা রানী, আদিবাসি মুক্তি মোর্চার জেলা কমিটির সভাপতি শ্রী বিশ্বনাথ মাহাতোসহ স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, রহনপুর দেবোত্তর আখড়ার সেবাইত শ্রী ক্ষিতিশ চন্দ্র ভট্রাচার্যের সেবাইত হওয়ার নুন্যতম ধর্মীয় যে যোগ্যতার প্রয়োজন কোনটিই তার মধ্যে নেই। এছাড়া নামে-বেনামে দেবোত্তর সম্পত্তি অবৈধভাবে জমি হস্তান্তরসহ তার বিরুদ্ধে নানা অনৈতিক কার্যক্রমের অভিযোগ আনা হয় সম্মেলনে। দেবোত্তর আখড়ায় অবস্থিত কৃষ্ণ মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা-অর্চনাসহ অবাধ যাতায়াতে বাধা সৃষ্টির অভিযোগও আনা হয়। গত ২১ ডিসেম্বর/১৭ইং তারিখে তাকে অপসারনসহ বিভিন্ন দাবিতে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ, হিন্দু-বৌদ্ধ ও খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ ও আদিবাসি সমš^য় পরিষদ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীসহ ধর্মমন্ত্রী, ভূমি মন্ত্রী ও বিভাগীয় কমিশনারের নিকট অভিযোগগুলো তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি প্রেক্ষিতে গত ১৮ ফেব্রæয়ারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিন্টু বিশ্বাসের কার্যালয়ে এক গণশুনানী হয়। এ প্রসঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিন্টু বিশ্বাস জানান, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশক্রমের বাদি পক্ষের লোকজনের সাক্ষাতকার নেয়া হয়েছে। বিবাদী রহনপুর দেবোত্তর আখড়ার সেবাইত শ্রী ক্ষিতিশ চন্দ্র আচারীর বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন অভিযোগ করেন, দেবোত্তর আখড়ার সেবাইত ক্ষিতিশের বিরুদ্ধে আন্দোলন করায় সেদিনই দিবাগত রাতে দেবোত্তর আখড়ার পাশে গড়ে উঠা একটি ঘরের বাইরে টাঙানো ৩টি সংগঠনের সাইনবোর্ড খুলে ফেলা হয়। এছাড়া বিভিন্ন কারণে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো ও পুলিশের ভয় ভীতি দেখানো হচ্ছে। এঘটনায় গত ২৪ ফেব্রæয়ারী বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ, গোমস্তাপুর উপজেলা শাখার পক্ষে সম্পাদক ডলার কুমার সাহা বাদি হয়ে গোমস্তাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। এ ব্যাপারে রহনপুর দেবোত্তর আখড়ার সেবাইত শ্রী ক্ষিতিশ চন্দ্র আচারীর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তার নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *