Sharing is caring!

ধর্মের নামে মানুষকে হাত-পা কাটার রাজনীতি করতে

দেয়া হবে না: জাহাঙ্গীর কবির নানক

♦ স্টাফ রিপোর্টার 

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশে ধর্মের দোহায় দিয়ে মানুষকে হাত-পা কাটার রাজনীতি করতে দেয়া হবে না। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ সারাদেশে গুম, খুন, হত্যার নেশায় মেতেছিলো বিএনপি-জামায়াত সরকার। শুধুমাত্র নৌকায় ভোট দেয়ার অপরাধে হাজারো নেতাকর্মীদের হাত-পায়ের রগ কেটেছে এবং নৃশংস অত্যাচার করেছে তারা। সে সময় লাশের গন্ধে আকাশ ভারী হয়ে গিয়েছিলো এবং একটি বিভিষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিলো। চাঁপাইনবাবগঞ্জে দীর্ঘ ১৬ বছর পর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাড. জাহাঙ্গীর কবির নানক এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা বিরোধীদেরকেই ক্ষমতায় বসিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছেন। ধর্মকে পুজি করে এখনও আমাদের দেশে রাজনীতি করে যাচ্ছে স্বাধীনতা বিরোধীরা। এদেশে স্বাধীনতা বিরোধীদের রাজনীতি করার কোন অধিকার নেয়। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে যুবসমাজের ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির কারনে বর্তমানে দেশে ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যায় না। এই জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের কৃষকদেরকে ধান কাটতে সহযোগিতা করতে আহব্বান জানিয়েছেন। যুবলীগ একটি সৃষ্টিশীল সংগঠন উল্লেখ করে অ্যাড. জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, শুধুমাত্র সম্মেলন করে কমিটি করলেই হবে না। কমিটির কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচর্যা করতে হবে। দেশে পেট্রোল বোমা হামলাকারীদের প্রতিহত করার দায়িত্ব যুবলীগ নেতাকর্মীদেরকেই নিতে হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে আওয়ামীলীগকে আরো বেশি সংগঠিত করতে স্থানীয় যুবলীগ নেতাকর্মীদের ভূমিকা রাখতে হবে। আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে যেখানে নৌকার জয় জয়কার, সেখানে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২টি আসনে পরাজয়ের কারন কি ও কি দুর্বলতা ছিল সে বিষয়টিও এখন ভাবার সময় হয়েছে। যুবলীগ কর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে, যে কোন মূহুর্তে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা পালনের। কারন যুবলীগ কোন ভুল পথে নেয়। ৫ শতাধিক প্রকাশনা নিয়ে উপমহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল হিসেবে যুবলীগ এখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এসময় যুবলীগের মধ্যে যেন কোন বিএনপি-জামায়াত কর্মী না ঢুকতে পারে সে বিষয়ে নেতা-কর্মীদের সর্তক থাকার আহব্বান জানান তিনি। এর আগে নবাবগঞ্জ সরকারী কলেজের শহীদ মিনার চত্বরে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান, আলহাজ্ব মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে ও শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহযোগিতা ও সংগ্রাম আন্দোলনে অংশ নিতে হবে। আমরা জানি, শেখ হাসিনা শুধু দেশের মানুষের উন্নয়নের কথাই ভাবেন। দেশের মানুষকে তিনি যে স্বপ্ন দেখিয়েছেন, তা পূরণে কাজ করতে হবে আ.লীগসহ এর সহযোগী সংগঠন সমূহের নেতা-কর্মীদেরকেই। রাজনীতি হলো মানুষের কল্যানে নিয়োজিত কর্ম ছাড়া আর কিছুই নয়, উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের একমাত্র সমস্যা হলো দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে আন্ত:কোন্দল। এটি দূর করতে পারলে এবং দলের কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে দল আরো বেশি সংগঠিত হবে। যুবলীগের একমাত্র কাজ হলো দেশের জনগনের জন্য কাজ করা। সম্মেলনের প্রধান বক্তা ছিলেন, আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশীদ। তিনি বলেন, সারাবিশ্বের কাছে বাংলাদেশ আজ একটি বিষ্ময়। পৃথিবীর বড় বড় অর্থনীতির দেশেগুলো আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সমীহ করছে। আর এসব সম্ভব হচ্ছে দেশের ধারাবাহিক উন্নয়নের কারনে। দেশের এই উন্নয়নে যুবলীগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দেশকে আরো এগিয়ে নিতে যুবলীগের কর্মীদের আরো বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ সদর আসনের সাবেক এমপি আব্দুল ওদুদ বলেন, জয়-পরাজয়ের কথা না ভেবে জেলা যুবলীগকে সংগঠিত করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জেলা যুবলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মো. মাসিদুর রহমানের সভাপতিত্বে সম্মেলনের বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মঈনুদ্দিন মন্ডল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের এমপি ডা. শামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী ইসলাম জেসী, আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. আব্দুস সাত্তার মাসুদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ার, আবু আহমেদ নাসিম পাভেল, রফিকুল ইসলাম সৈকত জোয়ার্দার। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী যুবলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মিজানুল ইসলাম মিজু, জেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউর রহমান, একই আসনের সাবেক এমপি গোলাম মোস্তফা, আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দীন আহমেদ মিনু, প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাড. মোতাহের হোসেন সাজু, মো. আতাউর রহমান, ফারুক হোসেন, মজিবুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশন বিএমএ’র সভাপতি আ.লীগ নেতা ডা. গোলাম রাব্বানী, পৌর আ.লীগের সভাপতি অধ্যাপক শরিফুল আলম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মিজানুর রহমান, জেলা যুব মহিলালীগের সভাপতি আলহাজ্ব অ্যাড. ইয়াসমিন সুলতানা রুমা, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুর রেজা ইমনসহ অন্যান্যরা। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম, নাচোল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, সদর উপজেলা আ.লীগের সাধারন সম্পাদক অ্যাড. মো. নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশন বিএমএ’র সাধারন সম্পাদক ডা. নাহিদ ইসলাম মুন, জেলা মহিলালীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য হালিমা খাতুন, জেলা পরিষদ আব্দুল হাকিম, জেলা যুব মহিলালীগের সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য শান্তনা হক শান্তাসহ জেলা, উপজেলা, পৌর আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ আ.লীগের সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলন শেষে নবাবগঞ্জ টাউন ক্লাবে জেলার ২’শ ২১জন কাউন্সিলরের ভোটে জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *