Sharing is caring!

ধাইনগর ইউপি চেয়ারম্যান তাবারিয়াসহ

৮জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

♦ স্টাফ রিপোর্টার

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা ধাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ.ক.ম তাবারিয়া চৌধুরীসহ ৮জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছেন বিজ্ঞ আমলী আদালত (শিবগঞ্জ) এর বিচারক নাজমুল হোসেন। গ্রেফতারী পরোয়ানা ভূক্ত আসামীরা হচ্ছে, শিবগঞ্জ উপজেলা ধাইনগর ইউনিয়নের বামুনগাঁও গ্রামের মৃত আজারুল চৌধুরীর ছেলে ও ইউপি চেয়ারম্যান আ.ক.ম তাবারিয়া চৌধুরী(৫৫), একই গ্রামের মো. চেনু মন্ডলের ছেলে হোসেন আলী(৪০), একই ইউনিয়নের মহেষপুর গ্রামের মো. আমিন আলীর ছেলে মো. বাবর আলী(৫০), মৃত সালামত আলীর ছেলে মো. আমিন আলী(৬৫), ফজলুর রহমানের ছেলে ও ইউপির সদস্য আব্দুস সুবহান(৩৮), চৈতন্যপুর গ্রামের মো. আতাউর রহমানের ছেলে মো. সেতাউর রহমান (৩৫), একই গ্রামের সাজাহান আলী মন্টুর ছেলে ও গ্রাম পুলিশ মো. আনারুল ইসলাম(৫০) ও একই ইউপির জাবড়ী কাজীপাড়া গ্রামের মৃত জোবদুল হকের মেয়ে মোসা. সাথী বেগম (২২)। গত ২৬ জুলাই মহেষপুর গ্রামের মৃত সাফু মিস্ত্রির মেয়ে মোসা. নাসিমা বেগমের চাঁদাবাজি ও হয়রানীর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এই গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন বিজ্ঞ আদালত। মামলা নম্বর ৩০৩সি/১৮ (শিব:)। গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির নিশ্চিত করে মামলার বাদি পক্ষের আইনজীবী এ্যাড. মো. নুরুল ইসলাম সেন্টু জানান, গত ২৬ জুলাই মহেষপুর গ্রামের মৃত সাফু মিস্ত্রির মেয়ে মোসা. নাসিমা বেগম ইউপি চেয়ারম্যান আ.ক.ম তাবারিয়া চৌধুরীসহ ৮জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হয়রানীর অভিযোগ দায়ের করে আদালতে। এরপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার দাসকে তদন্তের দায়িত্ব প্রদান আদালত। তদন্ত শেষে সমাজসেবা কর্মকর্তা বাদি অভিযোগ সত্য মর্মে গত ৫ নভেম্বর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে চেয়ারম্যান আ.ক.ম তাবারিয়া চৌধুরীসহ ৮জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন। উল্লেখ্য, জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নে প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে শশুর-পুত্রবধূর চাঞ্চল্যকর বিয়ের খবর পাওয়া যায়। ঘটনার বিষয়বস্তু তেমন জটিল না হলেও চেয়ারম্যানের মোটা অংকের চাওয়া উৎকোচ দিতে অস্বীকার করায় জোরপূর্বক বিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠে। ধাইনগর ইউপি চেয়ারম্যান তাবারিয়া চৌধুরী ও পরিষদের ২জন সদস্য মিলে এ কান্ড ঘটিয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। জানা যায়, শিবগঞ্জ উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নের মহেষপুর গ্রামের বাবর আলীর ছেলে ইউসুফ আলীর সঙ্গে একই ইউনিয়নের জাবড়ি কাজিপাড়া গ্রামের মৃত জোবদুল হক জোবুর মেয়ে সাথী খাতুনের সাথে প্রায় ১ বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী নিয়ে একই বাড়ীতে বসবাস করছিল সাথী। সাথীর স্বামী বাড়িতে থেকেই বিভিন্ন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। এরই মধ্যে পুত্রবধু সাথীর উপর কু-নজর পড়ে শশুর বাবর আলীর। দিনে দিনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে শশুর বাবর ও পুত্রবধু সাথীর। এক পর্যায়ে দৈহিক মেলামেশাও শুরু হয় দু’জনের মধ্যে। ‘কথায় বলে চোরের ১০ দিন, গেরস্তের ১দিন’। কিন্তু ১০ দিন চুরি করলেও একদিন ধরা পড়লেই সব শেষ। তেমনীভাবে প্রেমিক যুগল বাবর ও সাথীর কূকীর্তি ধরা পড়ে বাবরের পরিবার ও এলাকার মানুষের চোখে। মেলামেশার এক পর্যায়ে সাথীর গর্ভে সন্তানও আসে। কিন্তু সাথীর গর্ভের সন্তানটি কার বাবরের নাকি ইউসুফের? এনিয়ে এলাকায় সোরগোল পড়ে যায় এবং তোলপাড়ও শুরু হয়। অবশেষে এ সমস্যার সমাধানের জন্য ধাইনগর ইউনিয়ন পরিষদে বিচারের ব্যবস্থা হয়। চেয়ারম্যান তাবারিয়া চৌধুরীর নির্দেশে গত ২১ জুন দিবাগত রাতে সারারাত ধাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের কক্ষে ঘটনার সাথে জড়িত পূত্রবধূ ও শশুরকে আটকে রাখে। তবে বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্তের মাধ্যমে সুষ্ঠ সমাধান না করে, বিচার ধামাচাপা দেয়ার জন্য উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারটির কাছে ২ লক্ষ টাকা উৎকোচ দাবী করেন চেয়ারম্যান। এই উৎকোচের অর্থ দিতে অ¯^ীকার করায় চেয়ারম্যান অগ্নিমুর্তি ধারণ করেন। নিজেই বিচার করে রায় দিয়ে হুকুম দেন প্রথমে ইউসুফ সাথীকে তালাক দেবে, বাবর-সাথীর বিয়ে পড়াতে হবে। একইসাথে জোরপূর্বক বাবরের স্ত্রী ৩ সন্তানের জননী নাসিমা বেগমকেও তালাক দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। চেয়ারম্যানের কথমতো কাজ। আরো উল্লেখ্য, এমন তথ্যে ভিত্তিতে “চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে শশুর-পুত্রবধূর চাঞ্চল্যকর বিয়ে \ চেয়ারম্যানকে উৎকোচ দিতে অস্বীকার করায় এ কান্ড” শীর্ষক শিরোনামে গত ১৬ জুলাই ‘দৈনিক চাঁপাই দর্পণ’র সংবাদ প্রকাশিত হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *