Sharing is caring!

গোদাগাড়ী  প্রতিনিধি \ বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে হাওয়ায় দোলানো বোরোর সোনালী শিষে কৃষকের মনে প্রশান্তি দেখা দিলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর শ্রমিক সংকটের মুখে মহা অশান্তিতে রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষক। মাঠের পর মাঠ জুড়ে পাঁকা ধান কাটা নিয়ে কৃষকরা ছুটাছুটি করেও শ্রমিক সংকটে হতাশায় ভুগছেন বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকরা।একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনা অন্য শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মত সোনার ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। জমিতে পাকা ধান থাকলেও ঘরে তুলতে পারছেন না শ্রমিক সংকটে। এদিকে সরকার ধানের দাম ৯শ’ ২০ টাকা নির্ধারন করলেও ধানের বাজারে ধান ৬শ’ থেকে ৬ শ’ ৫০ টাকা মণ প্রতি বিক্রি হচ্ছে। এতে করে ধান কাটা শ্রমিকরা ধান কাটতে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না। গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় বোরো ধানের চাষ হয়েছে ১৪ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে। এ মৌসুমে উপজেলার কৃষকরা উচ্চ ফলনশীল জিরাসাইল, ব্রি-২৮, ২৯, ৫০, ৫৭, ৫৮ জাতের ধান বেশী চাষ করেছে। এখন পর্যন্ত ব্রি-২৯ জাতের ধান ছাড়া জমির প্রায় ৮৫ ভাগ ধান পাকলেও ৩০-৩৫ ভাগ জমির ধান কাটামাড়াই সম্পূর্ণ হয়েছে। বিঘা প্রতি ১৮-২০ মণ ফলন হচ্ছে। ঝড়-বৃষ্টির ভয়ে পাকা ধান ঘরে তুলতে কৃষকরা কাটামাড়াই পুরোদাম শুরু করলেও শ্রমিক সঙ্কটে বোরো ধান কাটামাড়াই ব্যহত হচ্ছে। কৃষকরা জানান, প্রতিবছর এই সময়ে বোরো ধান কাটতে পাশ্ববর্তি চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকরা দলবেধে আসতেন। তবে এবার ধানের দাম কম হওয়ায় শ্রমিকরা ধান কাটতে না এসে অন্য কাজ করছেন। শ্রমিকরা বলছেন, ধান কাটা কাজের চেয়ে অন্য কাজে লাভ বেশী হওয়ায় তারা ধান কাটার কাজে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। গোদাগাড়ী উপজেলার ভানপুর গ্রামের কৃষক মনসুর বলেন, ১১ বিঘা জমিতে দান পেকে গেছে। শ্রমিক সংকটের কারনে ধান কাটতে পারিনি। লালবাগ এলাকার কৃষক আমিন মন্ডল বলেন, ১০ বিঘা জমিতে ধান চাষ করতে ৭৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমানে ধানের যে দাম তাতে খরচের টাকাও উঠবেনা। তার পরও শ্রমিকের অভাবে পাকা ধান ঘরে তুলতে পারছিনা। মাঠে পড়ে থাকা পাঁকা ধান নিয়ে শিলাবৃষ্টির শঙ্কায় ভুগছেন তিনি। একই উপজেলার সাধুরমোড় গ্রামের কৃষক সইবুর রহমান বলেন, তিনি এবছর ৯বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। সেই ধান পেকে মাঠে পড়ে রয়েছে। দ্রুত ঘরে তোলা দরকার। কিন্তু শ্রমিক সংকটের কারণে পাঁকা ধান ঘরে তুলতে পারছেন না। চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকা থেকে তানোরে ধান কাটতে আসা কয়েকজন শ্রমিক বলেন, বিগত বছরে আমাদের এলাকা থেকে দলে দলে শ্রমিকরা বরেন্দ্র অঞ্চলে আসতো বোরো ধান কাটতে। তবে এখন কেউ আসতে চাচ্ছে না। ধান কাটার চেয়ে অন্য কাজে বেশী লাভবান হওয়ায় এবছর শ্রমিকরা আসতে চাচ্ছে না। গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার তৌফিকুর রহমান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে না হলে আরো কয়েকদিন জমিতে ধান থাকলে তা ঝরে পড়বে না। তবে শ্রমিক সংকট দুর করতে এলাকার কৃষকদের যৌথ উদ্যোগে ধান কাটা মাড়াই মেশিনের ব্যবস্থা করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *