Sharing is caring!

ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্য জর্দ্দা, গুল, আলাপাতা ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সামাজিকভাবে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন সচেতন মহল। তামাকের তৈরী বিভিন্ন ধরণের বিড়ি-সিগারেট এবং পানের সাথে জর্দ্দা, সরাসরি গুল, আলাপাতা ব্যবহারে সমাজের একটা বিরাট অংশ জড়িয়ে পড়েছে। কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধরা এই তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করছে। কোন কোন সময় শিশুদের একটা অংশের হাতের সিগারেট বা তামাকের অন্য দ্রব্যও পাওয়া যায়। এসব খাওয়ায় শরীরের চরম ক্ষতি হচ্ছে, কঠিন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিড়ি সিগারেট খেয়ে অনেক সময় কাশতে কাশতে দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। তারপরও সিগারেট থেকে হবে। এমনও জানা যায়, এক বেলা ভাত কম হলেও সমস্যা নেই, কিন্তু সিগারেট বা পানের সাথে জর্দ্দা চায়ই। গবেষকদের মতে শরীরের ক্ষতিকর সিগারেটের চেয়ে অনেক গুন বেশী ক্ষতি করে জর্দ্দা, গুল ও আলাপাতা। সিগারেটের ধোঁয়ায় শরীরে নিকোটিনের সৃষ্টি হয়। যা মারাত্মক ক্ষতিকর। কিন্তু জর্দ্দা, গুল ও আলাপাতা সরাসরি তামাক খাওয়ায় আরও বেশী ক্ষতিকর। সমাজের একটা বিরাট অংশ পানের সাথে জর্দ্দা দেদারসে খাচ্ছেন। সামাজিকভাবে সিগারেট খাওয়ার বিষয়টি বয়বৃদ্ধদের কাছে দৃষ্টকটু। কিন্তু একই লোকের সামনে পানের সাথে জর্দ্দা খেলে কোন সমস্যা নেই। গুল বা আলাপাতা খেলেও কোন দৃষ্টিকটু দেখায় না। দৃষ্টিকটু না হলে কি হবে, সবচেয়ে ক্ষতিকর জর্দ্দা, গুল ও আলাপাতা খাওয়া। সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে এসব ধূমপান বা তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার থেকে নিজে নিজেই বিরত না হলে, কেউ বলে বা আইনের মাধ্যমে শাস্তি বা জরিমানা করলেই নিয়ন্ত্রণ হবে না। অপরদিকে, যেসব বেসরকারী প্রতিষ্ঠান বা এনিজও ধূমপান বা তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণের জন্য মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন এবং এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মোটা অংকের অর্থ ব্যয়ের জন্য দেয়া হচ্ছে। তা সঠিকভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে না। নামকাওয়াস্তে কিছু অফিসে বিলবোর্ড, কোন বিশেষ দিনে ব্যানার ফেস্টুন তৈরী করে অংশ গ্রহন করে ছবি বা একটু প্রচারণার বিষয়টি সহায়তাকারী কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করেই দায়িত্ব শেষ। এসব প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ বা অশিক্ষিত-স্বল্পশিক্ষিত মানুষদের নিয়ে কোন সভা-সেমিনার করা হয় বলে নজির নেই। অর্থ ব্যয় হচ্ছে, কিন্তু ফলাফল শুন্যের কোঠায়। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনিটরিং জোরদার করলে হয়তো কিছু মানুষের সচেতনতার কাজে সফলতা আসতো। তাই এসব বিষয়ে সামাজিকভাবে সকলে এগিয়ে আসলেই ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হতে পারে বলে মত দিয়েছেন সচেতন মহল। উল্লেখ্য, বুধবার সকালে ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন বিষয়ক  কর্মশালার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।  স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রণালয়ের জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল এর উদ্যোগে এবং জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন অফিসের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় মন্ত্রণালয়ের এবং জেলার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ও বিভিন্ন পর্যায়ের সচেতন ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে সভা-সেমিনারের মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং আইনের সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে পাবলিক প্লেসে ধুমপান নিয়ন্ত্রণের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *