Sharing is caring!

নওগাঁ সংবাদদাতা \ নওগাঁর পতœীতলায় আকবরপুর গ্রামে আদিবাসি পল্লীতে গত সোমবার স্থানীয় ভূমিদস্যু আবদুল মতিনের নেতৃত্বে শতাধিক লাঠিয়াল বাহিনী ভূমিহীনদের উপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় নিহত, মালামাল লুট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৭দিন পার হলেও নতুন করে আর কোন আসামী গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনায় থানায় ২১ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৬০/৭০ জনকে আসামী করে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে, মামলার আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ নতুন আসামীদের গ্রেফতার না করায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এঘটনায় ন্যায় বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা। ঘটনার পরদিন মামলার আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক শান্তি, গ্রেফতার ও ওসি আব্দুর রফিকের অপসারণের দাবিতে উপজেলা আদিবাসি পরিষদের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ঘটনার পর এখনও ক্ষতিগ্রস্থ ১৮টি পরিবারকে দেয়া হয়নি কোন সহযোগিতা। ঘরবাড়ি ও টিনের ছাউনি ভেঙে ফেলা ও ঘরের সকল মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ায়, ঘরে খাবার না থাকায় শিশু, নারী, বৃদ্ধদের নিয়ে অনাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছে পরিবারগুলো। জানা গেছে, তারা পরিবার নিয়ে বৃষ্টির মধ্যে অন্যের বাড়ী আশ্রয় নিয়ে দিন যাপন করেছেন। এ ছাড়াও ঘর বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজ করায় বিছানা, আগুনে আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। ঘরে নাই কোন খাবার। অনেকে অনাহারে অদ্ধাহারে দিন যাপন করেছে। সনু উড়াও, ইমাজ উদ্দিন, অখিল উড়াও, আবু বক্করসহ ক্ষতিগ্রস্থরা জানান, সোমবার আদিবাসি পল্লীতে স্থানীয় ভূমিদস্যু আবদুল মতিনের নেতৃত্বে শতাধিক লাঠিয়াল বাহিনী হামলা চালানোর জন্যে রবিবার বিকেলে পতœীতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রফিকের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করে। এসময় ওসি আব্দুর রফিকের পকেটে মোটা অংকের উৎকোচ ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও আবদুল মতিনের বাগানের আম, পুকুরের বড় বড় মাছ ওসি আব্দুর রফিককে দেয়া হয়েছে। এ কারণেই আমাদের (আদিবাসি) পল্লীতে হামলা চালিয়ে উচ্ছেদ করার আগাম তথ্য দিয়ে থানা পুলিশের সোমবার সকালে আসেনি বা কোন সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। থানা পুলিশের স্পষ্ট মদদে এবং ছত্রছায়ায় এই হত্যা, ঘরবাড়ীতে অগ্নি সংযোগ ও লুটতরাজ করা হয়েছে। পুলিশ রহস্যজনক ভূমিকা পালন করছে এমন অভিযোগ করে ক্ষতিগ্রস্থরা আরো বলেন, ৭দিন পার হলেও মামলায় পুলিশ নতুন করে কোন আসামী গ্রেফতার করতে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এতে মামলায় বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পত্নীতলা উপজেলা আদিবাসী পরিষদের সভাপতি সুধীর তির্কি জানান, গত মাস তিনেক আগেও আব্দুল মতিনের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ দল ওই আদিবাসী পল্লীতে গভীর রাতে হামলা চালিয়ে আদিবাসী ও ভূমিহীনদের আহত, ঘর-বাড়ি ভাংচুর ও বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় পতœীতলা থানায় অভিযোগ দায়ের করতে আসলেও থানা পুলিশ অভিযোগ নেয়নি। বরং আব্দুল মতিনের দায়ের করা একটি মিথ্যা মামলায় ওসি আব্দুর রফিক মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহন করে আদিবাসি ও মুসলমান ভূমিহীনদের গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। এ ছাড়াও আরও দুই বার আব্দুল মতিনের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয় ওই আদিবাসি পল্লীতে। তখনও থানা পুলিশ কোন সহযোগিতা করেনি ভূমিহীনদের। এ কারণে ভূমিদস্যু আব্দুল মতিন বারবার হামলা চালাতে সাহস পেয়েছে। আকবর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জামান চৌধুরী জানান, জেলার পোরশার শাহ পরিবারের প্রায় সোয়া এক একর ওয়াকফ জমির উপর গ্রামের বুধুয়া পুকরপাড়ে আদিবাসি ও ভ‚মিহীনরা ১৮টি পরিবার ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিলেন। আব্দুল মতিন ওই সম্পত্তির দাবি জানালে দেখা দেয় দ্ব›দ্ব। স্থানীয় ভাবে ওই সম্পত্তি নিয়ে একাধিকবার মিমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আব্দুল মতিনের লোকজন মানেনি। তিনি আরও বলেন আব্দুল মতিনের পরিবার ধর্ষণ ও হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার সাথে জড়িত। এলাকার সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু হিসেবেও পরিচিত আব্দুল মতিন। এ ব্যাপারে আকবর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আকবর জানান, আদিবাসি পল্লীতে হামলা চালানো হবে এমন তথ্য ঘটনার আগের দিন স্থানীয় প্রশাসনকে দেয়া হলেও স্থানীয় প্রশাসন কোন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না গ্রহন করায় এ হত্যাকান্ড, লুটতরাজ, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ এর ঘটনা ঘটেছে।  তিনি আরও বলেন, সোমবার ঘটনার দিন পুলিশের উধ্বতন কর্তৃপক্ষের সামনে জনসাধারণের তোপের মুখে পড়ে ওসি আব্দুর রফিক। এসময় কিছুটা কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত থানায় চলে যান ওসি আব্দুর রফিক। ভূমিহীন ও ক্ষতিগ্রস্থদের সরকারি সহযোগিতা করার জন্যে ইতোমধ্যে তালিকা করা হয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। পতœীতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকতার মামুন জানান, ক্ষতিগ্রস্থদের দ্রুত সহযোগিতা করা হবে। পতœীতলা থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আব্দুর রফিক উৎকোচ নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুলিশ ঘটনাটি জানতে পেরেই দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় মূল হোতা আব্দুল মতিনসহ ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামীরা পলাতক থাকায় গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। নওগাঁর পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক জানান, ওসি আব্দুর রফিকের বিরুদ্ধে উৎকোচ গ্রহন করেছে এমন কোন অভিযোগ তার কাছে নেই। কেউ যদি অভিযোগ করে তবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *