Sharing is caring!

Naogaon Raninagar Sluise gret Picনওগাঁ প্রতিনিধি \ নওগাঁর রাণীনগরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত কুজাইল সুইচ গেটটি ব্যবহার করার জন্য কোন নিয়োগকৃত অপারেটর না থাকায় এক শ্রেণীর প্রভাবশালী মৎস্যজীবিরা মাছ ধরার উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে দিবালোকে গেট খুলে দেওয়ায় প্রবল বেগে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে তিনটি ইউনিয়নের প্রায় তিন হাজার হেক্টর রোপা-আমন ধানের আবাদ যোগ্য জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চলতি মৌসুমে আমন ধান চাষ হুমকির মুখে পড়ছে। কয়েক দিন আগেই কৃষকরা ধান লাগানোর জন্য জমি চাষ শুরু করলে নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। জানা গেছে, জেলার রানীনগর উপজেলার কাশিমপুর ইউপি’র কুজাইল নামক স্থানে নওগাঁর ছোট যমুনা নদীর পানি কৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য ১৯৮৬ সালে রতনডাড়ি খালের মোহনায় নওগাঁর পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ দুই পাল্লা বিশিষ্ট একটি সুইচগেট নির্মাণ করে। শুরুতেই এর রক্ষনা-বেক্ষনের লোক থাকলেও কয়েক বছর পর তাকে অন্যত্র বদলি করার ফলে দীর্ঘদিন ধরে সুইচ গেটটি দেখা-শুনা করার জন্য কোন অপারেটর না থাকার সুযোগে স্থাণীয় কিছু মৎস্যজীবিরা বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে ইচ্ছে মত সুইচ গেটের পাল্লা খুলে দেয়ায় যমুনা নদী থেকে প্রবল বেগে পানি রতনডাড়ি হয়ে রক্তদহ বিলে প্রবেশ করছে। গত এক সপ্তাহ ধরে লাগাতার বৃষ্টিপাতের কারণে বিলের পানি বৃদ্ধির ফলে রাণীনগর সদর, গোনা ও কাশিমপুর ইউনিয়নের প্রায় তিন হাজার হেক্টর রোপা-আমন ধান চাষ যোগ্য জমি তলিয়ে যাওয়ায় চলতি রোপা-আমন মৌসুমের ধান চাষ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যেই অবাদে ¯সুইচ গেটটি ব্যবহার করায় একটি পাল্লা বিকল হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গেটটি রক্ষনা-বেক্ষনের জন্য নজরদারিতে না নিলে ভরা বর্ষা মৌসুমে সার্বক্ষনিক পাল্লা খোলা থাকার কারণে প্রবল বেগে পানি নামাই পার্শ্বের মাটি দফায় দফায় ভেঙ্গে যাচ্ছে। ফলে যে কোন সময়  সুইচ গেটটির স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ এসএম গোলাম সারওয়ার জানান, এই  সুইচ গেটটি রাণীনগর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের কৃষকদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডে কর্তৃপক্ষ এখানে অপারেটর নিয়োগ না দেওয়ার সুযোগে এক শ্রেণীর মৎস্যজীবিরা গেটটি খুলে দিয়ে মাছ ধরার কারণে আবাদি জমিতে পানি ঢুকায় আমন ধান চাষে মারাত্মক ক্ষতি করছে। ইতিমধ্যেই চাষযোগ্য বেশ কিছু জমি তলিয়ে গেছে। গেটটি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য দু’এক দিনের মধ্যেই নওগাঁর পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে। এব্যাপারে নওগাঁর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আনোয়ার হোসেন জানান, জনবল সংকটের কারণে কুজাইল সুইচ গেটে অপারেটর দেওয়া হয়নি। একটি পাল্লা বিকল থাকার কারণে বগুড়া জেলা থেকে কারিগরি টিম মেরামত কাজের জন্য ঘটনাস্থলে পৌছেছে। এই কাজ সম্পূর্ণ হলেই কৃষকদের ¯^ার্থে সুইচ গেটের দুইটি পাল্লা বন্ধ করে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *