Sharing is caring!

নওগাঁ সংবাদদাতা \ নওগাঁর আত্রাইয়ের রানীনগরে সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে মারাত্মক হুমকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এক বাউল সাধক। ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে মারফতির এক বাউলকে অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার মিথ্যা অভিযোগ এনে মারপিট করে মাথার চুল কেটে ও গায়ের পাঞ্জাবি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় মামলার আসামীরা জামিনে মুক্তি পেয়ে মামলা তুলে নিতে ওই বাউলকে নানা ভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি আসামীদের অব্যাহত নানাভাবে দেয়া হুমকিতে নিরাপত্তার অভাবে বাড়ী থেকে বের হতে না পারায় বাউল সাধক গিয়াস উদ্দিন (৮০) কে অবরুদ্ধ হয়ে থাকতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। মামলা সুত্রে জানাগেছে, রাণীনগর উপজেলার নারায়নপাড়া গন্ধর পুকুর গ্রামের মারফতি বাউল গিয়াস উদ্দীন আত্রাই উপজেলার দেবনগর গ্রামের ফজের আলীর সাথে ধর্ম আতœীয় সর্ম্পক গড়ে তোলেন। এরই সুত্র ধরে গত ৭ জুন সন্ধ্যায় বাউল গিয়াস উদ্দীন দেবনগর গ্রামের ফজের আলীর বাড়ীতে যায়। রাতে একই ঘরে পরিবারের লোকজনসহ একত্রে বসে বিভিন্ন আলাপ আলোচনার সময় ওই গ্রামের শামছুল আলমের ছেলে স্বপন হোসেন (৩৫) এর নেতৃত্বে ৪/৫ জন এসে তাদেরকে ঘিরে ফেলে এবং বিভিন্ন অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে অসামাজিক কর্মকান্ডের অভিযোগ তুলে এলোপাথারি মারপিট করতে থাকে। এসময় স্বপন ও তার সহযোগিরা বাউল গিয়াসের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বেদম মারপিট করে তার মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেয় এবং গায়ের পাঞ্জাবিতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে বেঁধে রাখে। সংবাদ পেয়ে পরের দিন ৮ জুন দুপুরে আত্রাই থানা পুলিশ বাউল গিয়াসকে উদ্ধার করে আত্রাই হাসপাতালে ভর্তি করে। এঘটনায় বাউল গিয়াস উদ্দীন বাদী হয়ে ৯জুন আত্রাই থানায় ১৩ জনের নামে মামলা দায়ের করলে থানা পুলিশ ওই রাতেই স্বপনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরন করেন। এরপর আসামীরা জামিনে মুক্তি পেয়ে বাউল গিয়াস উদ্দীনকে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া অব্যাহত রেখেছে বলে গিয়াস উদ্দীন অভিযোগ করেন। নিরাপত্তার অভাবে বাড়ী থেকে গত ১০ দিন ধরে বের হতেও পারছেন না বলেও জানান তিনি। এ ব্যাপারে আত্রাই থানার ওসি আব্দুল লতিফ খান জানান, বাউল গিয়াসকে হুমকি দেয়ার বিষয়ে থানায় কোন অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *