Sharing is caring!

Naogaon Picture 22-06-2015_1নওগাঁ সংবাদদাতা, আহাদ আলী \ নওগাঁর পত্বীতলা উপজেলার আকবরপুর গ্রামে আদিবাসী পল্লীর একটি বিবাদমান জমি দখলকে কেন্দ্র করে বন্দুকের গুলিতে মিথুন উড়াও (১২) নামে এক আদিবাসী কিশোর ও হাফিজুর রহমান (৩৫) নামে একজন নিহত হয়েছে। নিহত মিথুন ওই গ্রামের আদিবাসী পল্লীর সনু উড়াওয়ের ছেলে এবং হাফিজুর রহমান একই গ্রামের মাহাতাব উদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় নারী-পরুষসহ আহত হয়েছে আরো ১০ জন। সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। আহতদের মধ্যে আশংকাজনক অবস্থায় ৭ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এদিকে, পুলিশ বন্দুকটি জব্দসহ ওই ঘটনার মূল হোতা আব্দুল মতিনসহ ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। বর্তমানে ওই গ্রামে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার আকবারপুর গ্রামের বুধুয়া পুকরপাড়ে ভ‚মিহীনরা জেলার পোরশার শাহ পরিবারের প্রায় সোয়া এক একর ওয়াকফ জমির উপর গ্রামের স্থানীয় ও আদিবাসীসহ কমপক্ষে ২০/২৫টি পরিবার ঘরবাড়ি নির্মান করে গত ১২/১৩ বছর ধরে সেখানে বসবাস করে আসছে। এরই জের ধরে সোমবার বেলা পৌনে ১১টার ওই জমির মালিকানা দাবি করে একই গ্রামের মৃত লাল মোহাম্মদের ছেলে আব্দুল মতিন ও তার ভাই মফিজ উদ্দিন, আব্দুল মজিদ, মোজাম মন্ডল এবং তাদের সহযোগীদের নেতৃত্বে বন্ধুক ও ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ৫০/৬০ জনের একদল সশস্ত্র বাহিনী ওই পল্লীতে হামলা চালায়। তারা পল্লীর বসবাসরত স্থানীয় ও আদিবাসীদের বেধড়ক মারপিট করে বাড়ি-ঘরে ভাংচৃর ও অগ্নীসংযোগ করে লুটপাট

SAMSUNG DIGITAL CAMERA
SAMSUNG DIGITAL CAMERA

চালায়। এক পর্যায়ে আব্দুল মতিন নিজের লাইসেন্সকৃত বন্দুকের ৪ রাউন্ড গলি ছোড়ে। এতে মিথুন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যায়। আহত হয় ওই গ্রামের হাফিজুর রহমান (৩৫), বেলাল হোসেন (৩২), উকিল উড়াও (৩৩), নজরুল ইসলাম (৪০), এমাজ উদ্দিন (৪০), মাজেদুর রহমান (২২), সাহিদা বেগম (৪০), পারুল বেগম (৪৫) ও আব্দুল মান্নান (৩৫) সহ ১০জন। ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে পতœীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে হাফিজুর রহমান ও বেলাল হোসেনসহ ৭জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে হাফিজুর রহমান মারা যায়। বাকীদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ হত্যাকান্ডের আলামত হিসাবে ওই বন্ধুকটি জব্দ করেছে। একই সঙ্গে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনার মূল হোতা আব্দুল মতিনসহ ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার পর পর নওগাঁর পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হকসহ পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ বিষয়ে পতœীতলা উপজেলা আদিবাসী পরিষদের সভাপতি সুধীর তির্কি জানান, ওই জমি দখল নিতে পল্লীর বসতবাড়িগুলো উচ্ছেদ করতে মাত্র এক মাস আগে আব্দুল মতিন গ্রæপের লোকজন সেখানে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগহসহ ব্যাপক ভাংচুর করে। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নিলে মিথুনের মত শিশুকে জীবন দিতে হতো না। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবি করেছেন। এ বিষয়ে নওগাঁ সদর সার্কেলের এএসপি কানাই লাল বলেন, বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *