Sharing is caring!

আহাদ আলী, নওগঁ থেকে \ নওগাঁয় গৃহবধু জীবন নেছা ওরফে মিনি চৌধূরী (৬৫) হত্যা মামলার প্রধান ২ আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিরার ভোররাতে তাদের আটক করা হয়। সোমবার তাদের নওগাঁ জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। আটককৃতরা হচ্ছে, বগুড়া জেলার আদমদিঘী উপজেলার অন্তাহার গ্রামের ফিরোজ হোসেনের ছেলে চঞ্চল (১৯) এবং একই গ্রামের মৃত-সালাম হোসেনের ছেলে সোহাগ হোসেন (২১)। আটকের পর সকালে তাদের নওগাঁ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে হাজির করা হলে আসামীরা ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি দেয়। এতে তারা তাদের নিজেদের ভূল স্বীকার করে। জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। রবিবার রাত ৮টার দিকে নওগাঁ সদর থানায় সাংবাদিকের সামনে তাদের হাজির করা হয়। তাদের কাছ থেকে জানা যায় লোমহর্ষক চাঞ্চল্যকর তথ্য। আসামীরা জানান, নিহত গৃহবধুর বাড়িতে রং মিস্ত্রীর কাজ করেছিল তারা। গত ২ ডিসেম্বর তাদের কাজ শেষ হয়ে যায় এবং দেনা পাওনাও পরিশোধ করা হয়। কাজের সুবাদে তারা বাড়ির অনেক কিছু তথ্য জেনে যায়। এছাড়া গৃহবধুর কাছে ২০-২৫ হাজার টাকা ছিল সেটা তারা জেনে যায়। কিন্তু গত ৬ ডিসেম্বর সকাল ৯টার তারা পরিকল্পনা করে টাকা পয়সা লুট করার জন্য আবারও ওই বাড়িতে যায়। এরপর সোহাগ কলিংবেলের সুইচ চাপতেই বলে কে কে। তখন সোহাগ বলে উঠে রং মিস্ত্রী। এরপর উপর থেকে গেটের চাবি গৃহবধু নিচে ফেলে দেন। গেট খুলে তারা দুজনে বাড়ির দ্বিতীয় তলায় যায়। সেখানে গৃহবধু রান্না ঘরের মেঝে পরিস্কার করছিলেন। কাছে গিয়ে চঞ্চল পিছন থেকে গৃহবধুর মুখ চেপে ধরে ছুরি দিয়ে গলায় টান দেয়। এ সময় তিনি চিৎকার করছিলেন। দু’বার ছুরি চালানোর পরও তিনি মারা যাননি। পরে সোহাগ ছুরিটি নিয়ে গৃহবধু গলায় তৃতীয় বার সজোরে টান দেয়। এতে শ্বাসনালী কেটে গেলে তিনি মারা যান। এ সময় পাশের বাড়ি থেকে আওয়াজ আসে এখানে রান্না ঘরে বিদ্যুতের সমস্যা হয়েছে বলে তারা তাদের গ্যাসের লাইন বন্ধ করার জন্য বলে। ওই আওয়াজে তারা ভয়ে ছুরিটি সিড়ির পাশে এবং বাড়ির বাহিরে সাইকেল এবং জুতা রেখে পালিয়ে যায়। আসামিরা আরো বলেন, ছুরিটি তারা বাড়ি থেকে নিয়ে আসছিল। তবে গৃহবধুকে তারা হত্যা করার কোন পরিকল্পন ছিল না। ঘটনার দিন সকালে আমরা গাঁজা খেয়েছিলাম। তারপর থেকে মাথা ঠিক ছিল না। শরীরের ভেতর কেমন কেমন জানি হচ্ছিল। এরপর ওই বাড়িতে চুরি করার পরিকল্পনা করে। হত্যা করার পর থেকে মনের মধ্যে অস্থিরতা কাজ করছিল তাদের। কোথাও গিয়ে শান্তি পেত না। খেতেও পারতনা ঠিক মতো। একটা আতঙ্ক কাজ করতো বলে জানায়। মামলার বাদী নিহতের মেয়ে শাম্মী সুলতানা তৃনা বলেন, ঘটনার আগেরই দিনই মায়ের সাথে ফোনে কথা বলে শারীরিক খোঁজ খবর নিয়েছিলাম। তারা চুরি করতে গেছে মাকে বেঁধে রাখতে পারত। কিন্তু এভাবে তারা কেন মাকে হত্যা করল। আমি ওদের ফাঁসি চাই। নওগাঁ সদর থানার ওসি তোরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর নিহত গৃহবধুর দ্বিতীয় মেয়ে শাম্মী সুলতানা তৃনা বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামী করে নওগাঁ সদর থানায় মামলা করেন। আমাদের সন্দেহ ছিল মিস্ত্রীদের উপর। বাড়ির বাহিরে সিসি টিভি ক্যামেরায় সোহাগের চেহারা কিছুটা বোঝা যাচ্ছিল। তিনি বলেন, সাইকেলের সূত্র ধরে ১৯ দিনে মধ্যে রবিবার ভোরে তাদের আটক করা হয়। আর সাইকেলটা যে তাদের তারা তা স্বীকারই করছিল না। এছাড়া ঘটনার সাথে আরো যারা সম্পৃক্ত আছে তাদের আটক করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *