Sharing is caring!

নওগাঁ থেকে আহাদ আলী \ নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিপ্তরের (এলজিইডি) গ্রামীণ সড়ক রক্ষণা-বেক্ষনে নারী শ্রমিককে দিয়ে উপজেলা পরিষদের দপ্তরে কাজ করানো হচ্ছে। ভূয়া শ্রমিকের নাম দেখিয়ে বেতন-ভাতা তুলে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রকৌশলী ও তদারকি কর্মকর্তা একাধিক ভূয়া নাম দিয়ে তাঁদের বেতন-ভাতা তুলে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বদলগাছী উপজেলায় স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন সড়কগুলো রক্ষণা-বেক্ষনে ২০১৩ সালে প্রথমে ৮০ জন, পরে আরও ১০ জন মোট ৯০ জন নারী শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিজন নারী শ্রমিক মাসে ৪ হাজার ৫০০শত টাকা বেতন-ভাতা পান। এসব নারী শ্রমিকদের তরদারকির জন্য উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের ১জন তদারকি কর্মকর্তা রয়েছে। বদলগাছী উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭ টি ইউনিয়নে ১০ জন করে ৭০ জন ও বাঁকী ১টি ইউনিয়নে ২০ জন সহ মোট ৯০ জন নারী শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলার গোরশাহী হইতে ছোট কাবলা সড়কে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে সিলভিয়া, নতুন রোজিনা, মালা, নুরজাহান, সীমা পাহান নামে শ্রীমতি, তছলিমা নামে জোসনা, মুন্নি নামে সাতজন নারী শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়। অথচ শ্রমিক হাজিরা খাতায় দশ জন নারী শ্রমিকের নাম রয়েছে। শ্রমিক হাজিরা খাতায় দেখা যায়, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত রেহেনা ও রাশেদার উপস্থিতির ঘরে কোন স্বাক্ষর নেই। দলনেতা সিলভিয়া জানান, রেহেনা, রাশেদা নামে কোন মহিলা তাঁদের দলে কাজ করেন না। আসল রোজিনা ওরফে রওশন আরা চাকুরীর শুরু থেকে দীর্ঘ ১০ মাস ইঞ্জিনিয়ার স্যারের বাসায় কাজ করছিলেন। ১০ মাস পর এই নতুন রোজিনার রাস্তায় আবির্ভাব ঘটে। রাশেদা ও রেহেনা নামের কোন শ্রমিক এখানে কখনো ও কোনদিন রাস্তায় কাজ করেননি। তাদেরকে আমরা কোনদিন দেখিনি বা চিনি না। কিন্তু তাঁদের বেতন-ভাতা ঠিকই উত্তোলন করা হচ্ছে। অপরদিকে কোন শ্রমিক অসুস্থ বা ছুটিতে থাকলে তাদের বেতন উত্তোলন করে ঐ কয়দিনের বেতন অফিসে কেটে নেয়। আপনাদের নিজ নামে কোন ব্যাংক হিসাব নাম্বার নেই এমন প্রশ্নের জবাবে সিলভিয়া বলেন আমাদের নিজ নামে কোন হিসাব নম্বর নেই। তাহলে টাকা উত্তোলন করেন কিভাবে এর জবাবে তিনি বলেন অফিস থেকে আমাকে একটি চেক হাতে দেয় আমি ১০ জনের টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে অফিসে এনে দেয় তারপর অফিসের কর্মকর্তারায় আমাদের বেতন দেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নারী শ্রমিক আরও অভিযোগ করেন, চাকুরি দেওয়ার সময় তাঁদেরকে ১০-১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শ্রমিক তদারকির দায়িত্বে থাকা আব্দুর রহমান বলেন, আমি এ ব্যাপারে কোন কথা বলতে পারব না। উপজেলা প্রকৌশলী স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুরু থেকেই রোজিনা, রাশেদা ও রেহেনার নামে তিনজন নারী শ্রমিক উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের দপ্তরে কাজ করছেন। উপজেলা প্রকৌশলীর বাসায় রোজিনা সেজে রওশন আরা কাজ করছিলেন। ৭ মাস পর প্রকৌশলী তাঁকে বলেন, তার নামে কোন নিয়োগ নেই। কিন্তু খোজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৩ সালে ডিসেম্বর মাসে রোজিনার নামে রওশন আরাকে চাকুরী দিয়েছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী নিজেই। চাকুরীর ৭ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর হটাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে রওশন আরা ওরফে রোজিনা। অসুস্থতা জনিত কারনে ছুটির দরখাস্ত উপজেলা প্রকৌশলী বরাবর দাখিলও করেছিলেন। কিন্তু উপজেলা প্রকৌশলী তাকে ছুটি দেননি। তাঁকে চাকুরি থেকে বাদ দেন। এঘটনায় পর রওশন আরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি অভিযোগ দাখিল করেছিলেন। এভাবে ৩ মাস অনুপস্থিত থাকার পর নতুন রোজিনার আবির্ভাব ঘটান প্রকৌশলী। কিন্তু যে ৩ মাস অনুপস্থিত ছিলেন রোজিনা নামে রওশন আরা সেই ৩ মাসেরও বেতন উত্তোলন করা হয়েছে। অপরদিকে উপজেলা চেয়ারম্যানের দপ্তরে রেহেনা নামে কাজ করছেন শ্যামলী। রাশেদা সেজে ছোবেদা কাজ করছেন উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে। এ বিষয়ে পূর্বে রওশন আরা ওরফে রোজিনার সাথে কথা বললে তিনি বলেন অনেক আগে থেকে আমি ইঞ্জিনিয়ার স্যারের বাসায় কাজ করছি। ২০১৩ সালে ডিসেম্বর মাসে সড়ক রক্ষণা-বেক্ষণ নারী শ্রমিকের মধ্যে আমার বয়স বেশী থাকায় রোজিনার নাম দিয়ে আমাকে নিয়োগ প্রদান করেন এবং নিয়োগ প্রদানের সময় উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের হিসাব রক্ষক আমজাদ হোসেন ও গ্রামীন শ্রমিক তদারকির দায়িত্বে থাকা আব্দুর রহমান ২জন মিলে আমার কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নিয়ে আমাকে চাকুরী প্রদান করেন। হঠাৎ আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে ছুটির জন্য উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার স্যার বরাবর দরখাস্ত করলে তিনি আমাকে কোন ছুটি প্রদান না করে তোমার নামে কোন চাকুরী নেই বলেন। সুস্থ হওয়ার পর আমি রাস্তায় কাজে গেলে আব্দুর রহমান আমাকে হাজিরা খাতায় সই করতে না দিয়ে হাজিরা খাতা নিয়ে অফিসে চলে আসে। তার ৩ মাস পর  উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে রাশেদা সেজে ছোবেদা নামে যে মেয়ে কাজ করছেন তার ছেলের বউকে নতুন রোজিনা বানিয়ে রাস্তায় নামিয়ে দেয় উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট কোন অভিযোগ দাখিল করেছিলেন বলে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন সেই সময় নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর বিচার চেয়ে অভিযোগ দাখিল করেছিলাম কিন্তু কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি নির্বাহী কর্মকর্তা। আসলে আমরা গরিব হওয়ায় কোন বিচার পাইনি। ওই তিনজন নারী শ্রমিকের মধ্যে নতুন রোজিনা বলেন, গত ২০১৪ সালে সেপ্টম্বর মাসে ইঞ্জিনিয়ার স্যার আমাকে বলেন তোমার নামে চাকুরী আছে, তাই তুমি রাস্তায় কাজে নেমে পড়। অন্যদিকে ছোবেদা ওরফে রাশেদা ও রেহেনা ওরফে শ্যামলী বলেন আমরা সড়কে কোনদিন কাজ করনি। উপজেলা প্রকৌশলী আমাদের এখানে এনে রেখেছেন। যেখানেই কাজ করি বেতন-ভাতা তো পাচ্ছি। এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, নারী শ্রমিকেরা সবাই কাজ করছেন। আর এদের দেখাশুনার জন্য একজন তদারকি কর্মকর্তা রয়েছে। যদি কোন অনিয়ম দূনীতি হয় তাহলে খোজ নিয়ে ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে। পুরাতন রোজিনা ওরফে রওশন আরার অভিযোগ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হুসাইন শওকত এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেই সময় আমি অভিযোগ পেয়েছিলাম কিন্তু পরে লোক মুখে জানতে পারি তিনি আর চাকুরী করেন না। তাই কোন ব্যাবস্থা নেওয়া হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *