Sharing is caring!

নওগাঁ প্রতিনিধি \ পৌষের মাঝামাঝিতে যেখানে বোরো চাষে ব্যস্ত সময় পার করতো কৃষক সেখানে এবার বৈরী আবহাওয়ায় মাঠেই নামতে পারছে না নওগাঁর চাষীরা। দেরীতে ধান রোপনে এবার ফলনও কম হবে এমন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছেন এলাকার কৃষকরা। টানা শৈত্য প্রবাহ ও ঘনকুয়াশা হাওয়ায় জেলার বেশির ভাগ বোরো বীজতলাই নষ্ট হয়ে গেছে। কিছু  কৃষক ধান রোপন মাঠে কাজ করলেও চড়াদামে বীজ সংগ্রহ করতে হচ্ছে এলাকায় কৃষকদের। এতে খরচ বাড়ার পাশাপাশি ফলন নিয়ে শংকিত চাষীরা। তবে, কৃষি বিভাগ বলছে শেষ পর্যন্ত লক্ষ মাত্রা অর্জিত হবে। বন্যার ধকল কেটে উঠার জন্য এবার অধিক বোরো চাষের স্বপ্ন নিয়ে বীজতলা তৈরি করে নওগাঁর বেশির ভাগ চাষী। কিন্ত টানা শৈত্যপ্রবাহ ও ঘনকুয়াশায় ভর মৌসুমেও বোরো চাষে মাঠে নামতে পারেনি। পৌষের মাঝামাঝিতে ধান রোপন শেষ করে জেলার কৃষকরা যেখানে পরিচর্যায় নামে। এবার বৈরী আবহাওয়ায় মৌসুম পেরিয়ে গেলেও বোরো বীজ সংকটে ধান রোপনে দুঃচিন্তা ভাজ ফেলেছে কৃষকের কপালে। গত কয়েক দিনের টানা কুয়াশায় জেলার বেশির ভাগ বোরো বীজতলা পচন ধরে নষ্ট হয়ে গেছে। কিছু কৃষক চড়া দামে বিভিন্ন হাট থেকে বোরো বীজ সংগ্রহ করে ধান রোপন মাঠে নামলেও বেশির ভাগ জমি এখনো রয়েছে অনাবাদি। কৃষকরা বলছেন, দেরিতে ধান রোপনে এবার ফলন কম হওয়ার শংকা, অন্যদিকে খরচ বেড়েছে দ্বিগুন। নওগাঁ সদর উপজেলার লোলগড়া মাঠে কথা হয় মোকলেছুর রহমান, সেকেন্দার আলী ও আব্দুল খালেকের সাথে। তারা বলেন, এবার প্রতি বিঘা জমিতে ১০ হাজার টাকার উপর খরচ পড়ে যাবে। কারন আগে একবার ধান রোপন করে কুয়াশায় তা নষ্ট হয়। দ্বিতয়ি দফা চড়া দামে বীজ কিনে ধান রোপন করা লাগছে। চলতি মৌসুমে বোরো চাষের জন্য জেলায় ৯ হাজার ৬শ ৭০ হেক্টর জমিতে বোরো বীজতলা তৈরি করে কৃষক। কৃষি বিভাগ বলছে, এর মধ্যে ৪০ ভাগ বীজতলাই নষ্ট হয়ে গেছে। তবে বোরোর উৎপাদনে তেমন প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর নওগাঁ  উপ-পরিচালক শ্রী মনোজিত কুমার। তিনি জানান, এবার  নওগাঁয় ১ লাখ ৮৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ৫২ হাজার হেক্টর জমিতে ধান রোপন সম্পন্ন হয়েছে। জলবায়ুর বিরুপ প্রভাব মোকাবিলায় আগামীতে কৃষিক্ষেত্রে দুযোর্গ সহনীয় জাত উদ্ভাবনের তাগিদ দিচ্ছেন এ পরিবেশ বিদরা। নওগাঁ সরকারী কলেজ ভুগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যপক মো, মিজানুর রহমান  বলেন, অবশ্যই আমাদের এখন ভাবতে হবে  আপদ কালীন এ দুর্যোগ কিভাবে মোকাবিলা করা যায়। অন্যানো বছর যেখানে পৌষ মাষের ১৫ তারিখে সরব হয়ে উঠে নওগাঁর মাঠ গুলো বোরো চাষে সেখানে এবার টানা শৈত্য প্রবাহ ও ঘনকুয়াশায় নামতে পারেনি কৃষক। বিলম্বিত চাষাবাদে এবার বোরো উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে চাষীরা।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *