Sharing is caring!

Pic_Jiaur Rahamanনওগাঁ সংবাদদাতা \ নওগাঁয় এক মুক্তিযোদ্ধার ছেলেকে হত্যা চেষ্টার দায়ে এক সেনা সদস্যের উপর মামলা হয়েছে। ছুটিতে থাকা সেনা সদস্যের সন্ত্রাসী হামলায় জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধো মোকছেদ আলীর ছেলে জিয়াউর রহমান গুরুতর আহত অবস্থায় নওগাঁ সদর হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। ২দিন ধরে ছেলের জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ের পর এ হামলার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে মুক্তিযোদ্ধা মোকছেদ আলী বাদী হয়ে এব্যাপারে নওগাঁ সদর মডেল থানায় একটি হত্যা প্রচেষ্টার মামলা করেছেন। মামলা নম্বর ০৭, তারিখ ৩ জুলাই ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁ পৌর এলাকার হাটনওগাঁ (সাহেবপাড়া) মহল্লায় মুক্তিযোদ্ধা মোকছেদ আলীর বসবাস। তার দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে মামুন সিরাজুল মজিদ বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সদস্য হিসাবে বর্তমানে রাঙ্গামাটিতে কর্মরত। তিনি স্ত্রী মমতাজ বেগম, অপর ছেলে জিয়াউর রহমান মাসুম ও ছেলে বউ মেমী বেগমকে নিয়ে হাট নওগাঁর বাসায় থাকেন। ১ জুলাই বাড়ী পার্শ্ববর্তী ড্রেনে ময়লা ফেলাকে কেন্দ্র করে পড়শী জনৈক কাজেম উদ্দিনের পরিবারের সাথে দ্বন্দ দেখা দিলে কাজেম উদ্দিনসহ তার ছেলে সেনা সদস্য হারুন ও তার ভাই বাবু মোকছেদ আলীর পরিবারকে উদ্দেশ্য করে ছাদ থেকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করে। এ অবস্থায় বিকাল ৪টার দিকে মুক্তিযোদ্ধা মোকছেদ আলীর ২য় ছেলে নওগাঁ আইন কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র জিয়াউর রহমান বাড়ীর ছাদে উঠে তাদের গালিগালাজ করতে নিষেধ করে। এসময় কাজেম উদ্দিন ও তার ২ ছেলে হারুন ও বাবু হাসুয়া, লোহার রড় ও লাঠি নিয়ে ছাদ টপকিয়ে মোকছেদ আলীর ছাদে এসে হত্যার উদ্দেশ্য জিয়াউরকে হারুন হাসুয়া দিয়ে কোপ মারে এবং বাবু লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং কাজেম উদ্দিন জিয়াউরকে লাঠি দ্বারা এলোপাথারী আঘাত করতে থাকে। এ অবস্থায় জিয়াউর রহমান বাঁচার জন্য চিৎকার দিয়ে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটে পড়লে চিৎকারের শব্দে মোকছেদ আলীর স্ত্রী মমতাজ বেগম ও ছেলের বউ মেমী জিয়াউরকে উদ্ধারে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদেরকেও এলোপাথারী মারপিট শুরু করে। আহতদের চিৎকারে পাড়া প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারী কুমিল্লা সেনা নিবাসে কর্মরত সেনা সদস্য হারুন প্রকাশ্য ভাবে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে সরে যায়। খবর পেয়ে মুক্তিযোদ্ধা মোকছেদ আলী বাসায় এসে অন্যদের সহযোগিতায় মুমুর্ষ অবস্থায় জিয়াউর রহমানকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে জিয়াউর রহমান কিছুটা সুস্থ হলেও আশংকা মুক্ত নন বলে নওগাঁ সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক অভিমত প্রকাশ করেছেন। এদিকে এ খবর শহরে ছড়িয়ে পড়লে শহরের মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। মোকছেদ আলীর সহযোদ্ধারা হাসপাতালে ছুটে যান। সহযোদ্ধাদের সহায়তায় ছেলের চিকিৎসায় ২ দিন পর ৩ জুলাই বিকালে জিয়াউর রহমান এর বর্ণনামত ৩ জুলাই মোকছেদ আলী বাদী হয়ে হারুন, বাবু ও তার বাবা কাজেম আলীকে আসামী করে নওগাঁ সদর থানায় হত্যা প্রচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। এদিকে থানা পুলিশ জানায়, মামলার পর আসামী গ্রেফতারে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *