Sharing is caring!

নওগাঁ থেকে আহাদ আলী \ কৃষি প্রধান জেলা দেশের সবচেয়ে বড় চালের মোকাম নওগাঁ। ঈদের পর থেকে মোটা চালের দাম কমতে শুরু করেছে কেজি প্রতি ২/৩ টাকা। তবে এলসিতে আসা চালের প্রভাব নওগাঁয় তেমন এখনো পরেনি। চাল ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এলসি চালের প্রভাবে আগামি সপ্তাহের মধ্যে চালের দাম আরো কমবে। এতে ¯^স্তি পাবেন খেটে খাওয়া নি¤œ আয়ের সাধারণ মানুষ। চালের বাজারে চালের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে চালের বাজারে আকাশ ছোঁয়া দামের কথা মাথায় রেখে আগামিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণে শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এমনটিই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, গত বছরের আগস্ট মাস থেকে দফায় দফায় চালের দাম বৃদ্ধি পায়। গত দশ মাসে মোটা জাতের চালের দাম বৃদ্ধি পায়। সে তুলনায় চিকন জাতের চালের দাম তেমন বৃদ্ধি পায়নি। মোটা জাতের চালের দাম প্রায় ১৬-১৮ টাকা বৃদ্ধি পায়। কৃষি প্রধান জেলা নওগাঁ। নওগাঁয় প্রায় ৭৪ ভাগ জমিতে ধান চাষ করা হয়ে থাকে। এই ধানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ১২’শ চাল মিল। আর এই মিল থেকে প্রতি বছর প্রায় ১৬ লাখ মেট্রিকটন চাল উৎপাদন হয়ে থাকে। জেলার ৪ লাখ মেট্রিকটন চাল চাহিদা মিটিয়ে বাঁকি চালগুলো সারাদেশে রাপ্তনি করা হয়ে থাকে। ঈদের আগে নওগাঁর বিভিন্ন খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চালের বাজার ছিল, বিআর-২৮-৪৮ টাকা, হাইব্রিড-৪১/৪২ টাকা ও ¯^র্ণা-৪৫ টাকা। বতর্মানে চালের বাজার বিআর-২৮, ৪৫/৪৬ টাকা, হাইব্রিড ৩৮/৩৯ টাকা ও ¯^র্ণা ৪২/৪৩ টাকা কেজি। অর্থাৎ প্রতি কেজি মোটা চাল কেজিতে ২/৩ টাকা কমেছে। তবে চিকন চাল জিরাশাইল ৫০ টাকা কেজি ও পাইজাম ৫৮ টাকা কেজি হলেও কোন দরপতন হয়নি। আর বস্তা প্রতি পূর্বে ছিল বিআর-২৮, ২২০০-২২৫০ টাকা, ¯^র্ণা ২১৫০-২২০০ টাকা, হাইব্রিড ১৮৫০-১৯০০ টাকা। মোটা জাতের চাল ৫০ কেজি ওজনে প্রতিবস্তায় কমেছে ১৫০-২০০ টাকা। তবে পাইকারী বাজারে বস্তাপ্রতি ২০০-২৫০ টাকা কমলেও খুচরা বাজারে কমেছে ১৫০-২০০ টাকা। জানা গেছে, এলসির প্রভাব বাজারে পড়ার পূর্বেই শুল্ক কমার সাথে সাথে বাজারে চালের দাম অটোমেটিক ভাবে কমতে শুরু করেছে। কারণ হিসেবে একশ্রেণির সিন্ডিকেটকারীরা ধান-চাল মজুদ রাখায় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরী হয়েছিল। এলসি’র চাল প্রবেশ করলে বাজারে চালের দাম কমে যাবে বুঝতে পেরে ওই সিন্ডিকেটকারীরা আগেই বাজারে চাল ছাড়তে শুরু করে। ফলে বাজারে চালের দাম কমতে শুরু করে। পাইকারি বাজারে চালের দাম কমতে শুরু করায় খুচরা বাজারেও চালের দাম কমতে শুরু করেছে। ভারত থেকে ব্যাপক হারে দেশের বাজারে চাল আসতে শুরু করায় দাম কমতে শুরু করেছে। যে হারে চালের দাম কমতে শুরু করেছে, তাতে চালের ক্রয়মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়মতার মধ্যে চলে আসবে। পাশাপাশি বেশি দামে ধান কিনে রাখা ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সুধীমহল মনে করছেন, আটা, ওএমএসের চাল বন্ধ রাখায় চালের এই দাম বৃদ্ধি পায়। সরকারি ভাবে এটা চালু থাকলে বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং খেটে খাওয়া ও সাধারণ মানুষরা ¯^স্তি ফিরে পাবে। নওগাঁ পৌর খুচরা চাল বাজার সমিতির সভাপতি মকবুল হোসেন বলেন, ‘ঈদের পর চালের যে আমদানি হওয়ার কথা ছিল সেটা নাই। যার কারণে ক্রেতা কম এবং বিক্রিও কম। মোটা চালের দাম কেজি প্রতি ২/৩ টাকা কমেছে। তবে এলসি’র চাল খুরচা বাজারে এখনো আসেনি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এলসি’র চাল খুরচা বাজারে আসলে দাম আরো কিছুটা কমবে। মৌ এগ্রো অ্যারোমেটিক অটোমেটিক রাইস মিলস লিমিটেড এর নির্বাহী পরিচালক, রপ্তানী কারক ও সরবরাহকারী নুরুল ইসলাম বলেন, এলসিতে ২৮ শতাংশ শুল্ক থেকে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে। এ কারণে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি চালের বাজারে বস্তা প্রতি দুইশ’ হতে আড়াইশ টাকা দাম কমেছে। তবে খুচরা বাজারে এখন এর তেমন কোন প্রভাব পরেনি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এলসির চাল বাজারে আসতে পারে। তাহলে চালের বাজার কমে যাবে। আর যদি ভারতে চালের দাম আবারও বৃদ্ধি পায়, তাহলে বাংলাদেশেও চালের দাম বৃদ্ধি পাবে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *