Sharing is caring!

নওগাঁ সংবাদদাতা \ শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনে নওগাঁয় ৭১৯টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে নওগাঁ সদর উপজেলায় ১০৬টি, আত্রাই উপজেলায় ৪৬টি, রানীনগর উপজেলায় ৩৬টি, বদলগাছী উপজেলায় ৮৩টি, মহাদেবপুর উপজেলায় ১৪৮টি, নিয়ামতপুর উপজেলায় ৫৯টি, আন্দা উপজেলায় ১১৩টি, সাপাহার উপজেলায়১২টি, পতœীতলা উপজেলায় ৭৪টি, পোরশা উপজেলায ১৯টি এবং ধামইরহাট উপজেলায় ২৩টি মন্ডপে পুজা অনুষ্ঠিত হবে। জেলা পুলিশ প্রশাসন ৭১৯টি মন্ডপের মধ্যে ১৭৭টি মন্ডপ অধিক গুরুত্বপূর্ন, ২০৮টি মন্ডপ গুরুত্বপূর্ন এবং ৩৩৪টি মন্ডপকে সাধারন হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। সবকটি মন্ডপ গুলোতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যাতে সুষ্ট ও শান্তিপূর্ন ভাবে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারে সেজন্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মন্ডপে মন্ডপে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রতিমা শিল্পীরা। কাঁদা, মাটি, খড়-কাঠ আর প্রতিমা নিয়েই এখন দিন-রাত কাটছে তাদের। আগামী ১৯ অক্টোবর দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এ মহোৎসব শুরু হবে। চলবে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত। তাই প্রতিমা ও এর প্রত্যেকটির অনুষঙ্গ তৈরী, নিখুঁতভাবে কাজ ফুটিয়ে তুলতেই সর্বোচ্চ মনোযোগ নওগাঁর প্রতিমা শিল্পীদের। প্রতিমা শিল্পী নারায়ন চন্দ্র পাল বলেন, আষাঢ়ের ২০ তারিখ থেকে তারা প্রতিমা তৈরী শুরু করছেন, কাজ প্রায় শেষ। এখন কেবল প্রতিমাগুলোর নকশা করা হচ্ছে। আর এক সপ্তাহের মধ্যেই তৈরী করা দূর্গার প্রতিমাগুলোতে রং লাগিয়ে সুসজ্জিত করা হবে বলে জানান তিনি। জেলা পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি নির্মল কৃষন সাহা জানান, আমরা এবার সুন্দর পরিবেশে সুন্দরভাবে পূজা উদযাপন করতে চাই। শারদীয় উৎসবে আনন্দ সবার সাথে ভাগ করে নিতে চাই। জেলার সর্ববৃহৎ পূজা মন্ডপ শহরের কালীমাতা মন্দির (কালীতলা)। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার মানুষ পূজা উদযাপন করতে ও মন্দির দেখতে আসেন। জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি নির্মল কৃষন সাহা জানান, এবার জেলায় ৭১৯টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী মান্দা উপজেলায় ১৪৯টি মন্ডপে পুজা অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে, ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দূর্গোৎসব উদযাপনের লক্ষ্যে জেলায় এরই মধ্যে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক পিপিএম বলেন, আমরা উপজেলার প্রত্যেকটি মন্ডপে ২৪ ঘন্টার জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহন করেছি। তিনি আরো বলেন, ষষ্ঠীপূজা অর্থাৎ দেবীর বোধনের আগের দিন থেকে প্রতিমা বিসর্জনের রাত পর্যন্ত এ বিশেষ নিরাপত্তা বলয় থাকবে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এতিমা ও মন্ডপ তৈরী থেকে প্রতিমা স্থাপন পর্যন্ত সব কার্যক্রম ও আচার-অনুষ্ঠানে যেনো শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পারে সে ব্যপারেও নজর রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ড. মোঃ আমিনুর রহমান জানান, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপুজা। তারা যাতে সুষ্ঠ ও সুন্দর ভাবে করতে পারে সেজন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ধর্ম যার যার উৎসব সবার। তাই উৎসবে আনন্দ সবার মাঝে বিলিয়ে দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজ করে যাচ্ছি।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *