Sharing is caring!

নতুন নিয়মে ভোগান্তি বৃদ্ধি

♦ ভালা নেই-সিঙ্গাপুর প্রবাসী বাংলাদেশিরা

শামীম পারভেজ-সিঙ্গাপুর থেকে \ অনেকেই এখন সিঙ্গাপুরে আসার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করছে। তারা অনেকেই জানে না, এখন সিঙ্গাপুরে মেরিন বিজিনেস চরম মন্দাভাব বিরাজ করছে। একসময় আমাদের ডরমিটরিতে প্রতিটি রুমে ষোলজন সদস্য বাস করত। আর এখন তার অর্ধেকেরও কম। শুধু আমাদের রুমেই না, অন্যান্য সকল রুমেও একই দৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। কয়েকদিন আগে দেখলাম একটি মোবাইল সিম কোম্পানি তাদের সিম ফ্রি দিচ্ছে সাথে টপআপ, ঘড়ি ফ্রি, অথচ কেনার মত ক্রেতা নেই। কোন একসময় অফারে সিম কিনতে হলে দুই ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হত। আর এখন লোকজনের হাতে টাকা নেই, তাই ফ্রি অফার কাজে দিচ্ছে না। অর্থনৈতিক মন্দা সবজায়গায় প্রভাব ফেলছে। আগে আমাদের ক্যান্টিনে পাঁচটি খাবারের দোকান ছিল, তবুও খাবার খেতে গেলে আধাঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার কিনতে হতো। আর এখন একটি খাবারের দোকান, তবুও লাইনে না দাঁড়িয়েও খাবার কেনা যায়। তাই দোকানীদের মন খারাপ। এর কারন বিভিন্ন কোম্পানি কর্তৃক অভিবাসী কর্মীদের ছাটাই। পরিসংখ্যান অনুযায়ী সিঙ্গাপুরে প্রায় সাত লাখ অভিবাসাই কর্মী আছে, যার বেশির ভাগ এসেছে এশীয়ার ৫ দেশ থেকে, তার মধ্যে বাংলাদেশ একটা। বিভিন্ন তথ্যে জানতে পারি। গত বছর প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার (আনুমানিক) অভিবাসী কর্মী ছিল। কিন্তু সিঙ্গাপুরের একটি পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী প্রায় ৭০ হাজার বাংলাদেশী অভিবাসী কর্মী দেশে চলে গেছে গত ৭-১৫ মাসে। এদের কেউ কোম্পানির সুযােগ সুবিধা কমে যাওয়া, কিংবা ওভার টাইম না থাকায় চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন । আবার অনেককে কোম্পানি কর্তৃক ছাটাই করা হয়েছে। যারা এখনো সিঙ্গাপুরে আছে তাদের আয় আগের তুলনায় অর্ধেক কমে গেছে। সবমিলিয়ে দেখা যায় গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় পঞ্চাশ ভাগ বাংলাদেশী অভিবাসী কর্মী দেশে চলে গেছেন কিংবা যেতে বাধ্য হয়েছেন। তার কিছুটা প্রভাব আমাদের রেমিটেন্সে পড়বে। তাছাড়া এই পরিবারগুলোও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিঙ্গাপুরে হঠাৎ শ্রম বাজারে ধ্বস নামার কারন হল, কিছু সংখক বাংলাদেশীর অভিবাসী কর্মীদের উপর কিছু মালিক ও এজেন্সীর আস্থা নষ্ট হওয়া। সারাবিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব। তেল, গ্যাস, এনার্জি ব্যবসায় লাভ কমে যাওয়া। বিশেষ করে তেলের দাম কমে যাওয়ায় মেরিন ব্যবসায় ধ্বস নেমে যায়। আগে সিঙ্গাপুরে প্রবাসী ছিলেন এমন অনেকেই আবার নতুন করে সিঙ্গাপুরে আসার জন্য আগ্রহী। সেদিন একজন ম্যাসেজ দিয়ে জানাল, যারা নতুন করে সিঙ্গাপুরে আসার জন্য আবেদন করেছে, তাদের আবেদন মিনিস্টার অফ ম্যানপাওয়ার কর্তৃক রিজেক্ট আসছে। তারা নতুন করে সিঙ্গাপুরে আসতে পারছে না। একজন প্রবাসী ভাইয়ের কাছে জানতে চাইলাম, যাদের বই রিজেক্ট আসে, তাদের কি করার আছে? তারা কি আর সিঙ্গাপুর আসতে পারবে না? তিনি বললেন, যদি কারো আবেদন রিজেক্ট আসে, তাহলে যে কোম্পানির মাধ্যমে আবেদন করেছিল, সে কোম্পানি রিজেক্টের বিপক্ষে মিনিস্টার অব ম্যানপাওয়ারে আপিল করতে হবে। কোম্পানির আপিল ছাড়া আইপি হবে না। অন্য কোন উপায় বা উকিলের মাধ্যমে ফের আবেদন করলে রিজেক্ট আসবে। শুধুমাত্র কোম্পানির মাধ্যমে আবেদন করলেই বাতিলকৃত আবেদন পূন বিবেচনা করা হবে। আমাদের দেশের প্রশাসনের উচিত হবে, বাংলাদেশীদের আবেদন বাতিল হবার কারন খুঁজে বের করে এর সমাধানে এগিয়ে আসা। নইলে সিঙ্গাপুরে আমাদের হারাতে হবে বিশাল শ্রম বাজার, আর আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে দেশ ও কয়েক হাজার পরিবার। বাংলাদেশিদের জন্য সিঙ্গাপুরে নতুন নিয়ম ঃ সিঙ্গাপুরে বর্তমান হাইকমিশনার জনাব মোস্তাফিজুর রহমান যোগদানের পর তিনি পূর্বের সব গøানি ব্যর্থতা মুছে দিয়ে দক্ষতা ও সুনামের সহিত কাজ করছেন। এছাড়া শ্রম কাউন্সিলর আতাউর রহমানও ইতিমধ্যে তার কাজের মাধ্যমে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। এ দু’জনের কাজ প্রশংসা কুড়ালেও ইদানীং তাদের একটি সিদ্ধান্তে প্রবাসীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের সিদ্ধান্তটি হলো, এখন থেকে নতুন কোন শ্রমিক সিঙ্গাপুরে আসতে হলে সিঙ্গাপুর হাইকমিশন থেকে তা সত্যায়িত করতে হবে। আর এই সত্যায়িত প্রক্রিয়াটি আবেদনকারী কোম্পানিকে করতে হবে। নিদিষ্ট পরিমান ফি জমা দিয়ে সত্যায়ন করতে হবে। যা এক প্রকার বাড়তি ঝামেলা ছাড়া কিছুই না। কোন কোম্পানি চায় না একজন শ্রমিক আনতে গিয়ে হাইকমিশনে লম্বা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে $১২ ডলার জমা দিয়ে সত্যায়ন করতে। এই উটকো ঝামেলার জন্য অনেকেই বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আনতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে। আমার পরিচিত দুটি কন্ট্রাক্টর কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে নতুন শ্রমিক আনার কথা ছিল। কিন্তু কয়েকদিন আগে শুনলাম তারা বাংলাদেশ নয় ইন্ডিয়া থেকে শ্রমিক আনবে। হয়তো তারা অযথা ঝামেলা এড়ানোর জন্যই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিঙ্গাপুর প্রবাসী অনেকেই বলেন, এখন বাংলাদেশীদের জন্য আইপি আবেদন করলে মিনিস্টার অব ম্যানপাওয়ার থেকে অজানা কারনে রিজেক্ট আসে। অথচ অন্য দেশের জন্য আবেদন করলে খুব দ্রæতই তা এপ্রæভ করা হয়। বাংলাদেশীদের আইপি কেন রিজেক্ট আসে তা আজো জানতে পারলাম না। এরই মধ্যে হাইকমিশনের নতুন পদক্ষেপের কারনে সিঙ্গাপুরের কোম্পানিগুলো বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আনতে আগ্রহী নয়। এতে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশী আসার সুযোগ থাকলে আসা সম্ভব হচ্ছে না। এতে দেশ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আমরা হারাতে বসেছি সিঙ্গাপুরে আমাদের শ্রম বাজার। গত কয়েকদিনে আমাকে অনেকেই এই ব্যাপারে জানতে চেয়েছে কিন্তু আমি যথাযথ জবাব দিতে পারিনি। হাইকমিশনের উচিত তাদের এই পদক্ষেপের কারন জনসম্মুখে তুলে ধরা। জানি তারা খুব ব্যস্ত মানুষ তবুও বলব, অন্ততপক্ষে তাদের ফেসবুক পেইজেও যেন আইপি রিজেক্ট আসার কারন ও আইপি সত্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে যথাযথ বক্তব্য প্রদান করে সাধারণ কর্মীদের মাঝে যে ক্ষোভ তা দূর করবেন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *