Sharing is caring!

Mirto_sm_871766002নাচোল প্রতিনিধি \ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে মডার্ন ইসলামী হাসপাতালে সিজার অপারেশনের ৭ দিন পর দুই প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। হতভাগ্য দুই প্রসূতি ওই ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে মারা যান বলে সংশ্লিষ্ট পরিবারের অভিযোগ। মৃত দুই প্রসূতি হচ্ছে, নাচোল উপজেলার খেসবা গ্রামের মাজনু সিংয়ের মেয়ে সুন্দরী (২০) ও আখিলা গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী পলি খাতুন (২২)। এদিকে নাচোল উপজেলার চারটি ক্লিনিকেই সার্বক্ষণিক চিকিৎসক একজনই বলে জানা গেছে। যখন যে ক্লিনিক থেকে ডাক আসে ওই চিকিৎসক তখন সেখানেই ছুটে যান। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গত ২৯ অক্টোবর নাচোল উপজেলার খেসবা গ্রামের মাজনু সিংয়ের মেয়ে সুন্দরীর (২০) প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে নাচোল মডার্ন ইসলামী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর দ্রুত অপারেশন করার জন্য পরিবারের সদস্যদের জানায়। পরিবার সম্মতি দিলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহমুদুন নবী সুন্দরীর সিজার করেন। সুন্দরীর পরিবারের সদস্যরা জানান, অপারেশনের কয়েক দিন পর রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে গত বুধবার মডার্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সুন্দরীকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। সেখানে ভর্তির কিছুক্ষণ পর সুন্দরী মারা যান। অন্যদিকে, নাচোল উপজেলার আখিলা গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী পলি খাতুন (২২) প্রসব বেদনা নিয়ে গত ২৮ অক্টোবর ওই মডার্ন হাসপাতালেই ভর্তি হন। পলিকেও হাসপাতাল কতর্ৃৃপক্ষ দ্রুত সিজার করার জন্য বলেন। পরিবারের অনুমতি সাপেক্ষে পলিরও সিজার করা হয়। মডার্ন হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায়ই পলির অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাকে ছাড়পত্র দিয়ে বিদায় করে দেয়। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক তা বোঝা সম্ভবপর হয়নি, বিধায় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছাড়পত্র পেয়ে পলিকে বাড়ি নিয়ে যায়। বাড়িতে যাওয়ার পর গত বুধবার ভোরে পলি মারা যান। ভুক্তভোগী দুই পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তাদের রোগী ভুল অপারেশনের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। জানা গেছে, মৃত্যুবরণকারী দুই প্রসূতির অপারেশন করেছিলেন ডা. মাহমুদুন নবী। উল্লেখ্য, এই চিকিৎসক মাসখানেক আগে নাচোল জনতা ক্লিনিকে এক প্রসূতির সিজার করার সময় ভুল করে তার মূত্রনালী কেটে ফেলেছিলেন, এ নিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগও করেছিল। পত্র-পত্রিকায় এ নিয়ে রিপোর্টও প্রকাশিত হয়েছিল। আরো জানা গেছে, ডা. মাহমুদুন নবী নাচোল উপজেলার চারটি ক্লিনিকেই বিশেষ করে সিজার অপারেশন করে থাকেন। তিনি সদ্য এমবিবিএস পাস করে এই ক্লিনিকগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এ বিষয়ে ডা. মাহমুদুন নবীর সেলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো তথ্য না দিয়ে ফোন কেটে দেন। একই আচরণ করেন মডার্ন ইসলামী হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল হুদাও। সরেজমিনে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা হলে তিনিও কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি। খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, নাচোল উপজেলার ক্লিনিকগুলোয় ২৪ ঘণ্টার জন্য সার্বক্ষণিক কোনো চিকিৎসক নেই। নেই ডিপ্লোমা নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও আধুনিক যন্ত্রপাতি। অপারেশনের সময় একজন সার্জন, একজন সহকারী সার্জন, একজন ডিপ্লোমা নার্স ও একজন অজ্ঞান (অ্যানেসথেটিকস) করার জন্য ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও হরহামেশাই একজন জেনারেল এমবিবিএস দিয়ে অপারেশন করা হচ্ছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকের অভিযোগ।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *