Sharing is caring!

নাচোলে অভিযোগকারীকেই পেটালো এস.আই আব্দুর রোউফ

♦ নাচোল প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থানায় চুরির অভিযোগ করায় পুলিশের এস.আই আব্দুর রোউফ হাবিবুর রহমান (৩৯) নামের এক অভিযোগকারীকে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে পিটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে এঘটনা ঘটে নাচোল ইসলামী ব্যাংকের সামনে। পরে থানায় আটকিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে। অভিযোগকারী হাবিবুর রহমান বাড়ি নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার ধাঁঐল গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে।
জানা গেছে, গত ২০ নভেম্বর নাচোল-রাজবাড়ি সড়কের ব্র্যাক অফিস সংলগ্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় এক ব্যাক্তি মারাগেলে গেলে অটো চালক অটো রেখে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর এ সুযোগে মোহাম্মাদপুর দিঘীপাড়ার মৃত সৈয়ব আলীর ছেলে আমিন (৩০) রেখে যাওয়া অটো গাড়ির ব্যাটারীর পরিবর্তন করে নেন বলে অভিযোগ হাবিবুরের। এ ঘটনায় নাচোল থানার এস.আই নুরনবী অটো গাড়িটি উদ্ধার করে নাচোল থানায় আটক রাখেন। পরে হাবিববুর দূর্ঘটনায় নিহতের পরিবারের সাথে মিমাংসা করেন এবং তার অটো ছাড়িয়ে নিতে থানায় গেলে তার অটোর ১টি অতিরিক্ত চাকা, ব্যাটারী ও অন্যান্য যত্রাংশ দেখতে না পেয়ে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট এস.আই নুরনবীকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানান।
এদিকে, পুলিশের নির্দেশক্রমে হাবিবুর তার অটো গাড়ির, ব্যাটারী, চাকা ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ পরিবর্তনের খোজ খবর নেয়ার এক পর্যায়ে জানতে পারেন, মোহাম্মাদপুর দিঘীপাড়া গ্রামের আমিন ব্যাটিারী ও অন্যান্য যত্রাংশ চুরি করে পরিবর্তন করে ফেলেছে। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে হাবিবুর রহমান নাচোল থানার দারোগা নুরনবী ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের জানান।
এদিকে, হাবিবুর ব্যাটারী পরিবর্তনকারী আমিনকে খুজতে থাকে বিভিন্ন রাস্তায় কিন্তু ৫ দিন ধরে তাকে নাচোল, রাজবাড়ি ও নাচোল-আড্ডা সড়কের কোথাও না পেয়ে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্ত আমিন ফোনটিও বন্ধ করে রাখে।
অবশেষে শুক্রবার আমিন হঠাৎ সকালে রাজবাড়ী থেকে যাত্রী বোঝাই করে নাচোলের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে হাবিবুর তার পিছু পিছু রওনা হয় এবং নাচোল বাষ্ট্যান্ড মোড়ে এসে পুলিশে খবর দেয়। খবর পাওয়ার অধা ঘন্টাপর নাচোল থানার দারোগা আব্দুর রোউফ প্রথমে এসে দেখা করে এবং পরে আসছি বলে চলে যায়। এরপর প্রায় পৌনে ১ ঘন্টাপর এসে পুরো ঘটনা না জেনেই অভিযোগকারী হাবিবুর রহমানকে চড়থাপ্পড় মেরে শতাধিক লোকের সামনে মোটর সাইকেলে উঠিয়ে নাচোল থানায় নিয়ে যায়। হাবিবুর রহমান বলেন, সত্য ঘটনার অভিযোগ করতে এসে দারোগার হাতে মারধর খেয়ে যেন ন্যায় বিচার পেয়ে গেলাম! এবিষয়ে নাচোল থানার দারোগা আব্দুর রোউফ অভিযোগকারী হাবিবুরকে আটকে রেখে সাদা কগজে স্বাক্ষর করে নেন। দারোগা কর্তৃক অভিযোগকারীকে মারপিট ও সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়ার বিষটি নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ সেলিম রেজার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *